সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান অবৈধ সম্পদের মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। গতকাল রোববার দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান মিজানের আগাম জামিনের আবেদনের অনুলিপি হাতে পাওয়ার কথা জানান। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রীসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন মামলাটি করেন দুদকের পরিচালক মনজুর মোরশেদ। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দায়ের করা এ মামলায় তিন কোটি সাত লাখ ৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় মিজানের পাশাপাশি তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান এবং ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে মিজানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর চার মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এক হাত ঘুরে সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির।
অনুসন্ধান চলার মধ্যেই মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, দুদক কর্মকর্তা বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে তাদের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ একটি টেলিভিশনকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে মঞ্জুর মোরশেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি হয়।
মঞ্জুর মোরশেদের আবেদনে মিজানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। পরে মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই দুদক কর্মকর্তা। তার দেশত্যাগে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। মামলা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।





