দেশে কয়েক বছর ধরে অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয়। দিন দিন এর ব্যাপকতা বাড়ছে। এখন ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য অর্ডার করলে সময়মতো পৌঁছে যাচ্ছে কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তাই করোনা মহামারীর এ সময়ে অনেকেই ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনলাইনে।
ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাশ বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাই অনলাইনে কেনাকাটা করুক। এরই মধ্যে আমাদের অনলাইন পেইজ থেকে ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে একটা বিষয় বলতে চাই, যেসব ক্রেতা অনলাইন কেনাকাটায় আস্থা পান না তারা অনায়াসে বড় বড় দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর ওপর ভরসা করে কেনাকাটা করতে পারেন। রঙ বাংলাদেশের প্রতিটি আউটলেটের আলাদা আলাদা ফেইসবুক পেইজ আছে এবং একটি করে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর আছে। এরিয়াভিত্তিক ক্রেতারা ওই এরিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে পোশাকের অর্ডার করতে পারবেন। এছাড়া ফেসবুক পেইজ থেকে নিয়মিত লাইভ হচ্ছে। সেই লাইভ দেখে ঈদের পোশাক কিনতে পারবেন। করোনার এই সময়ে অনেকের অর্থনৈতিক টানাপড়েন দেখা দিয়েছে । তাই বলে কেউ ঈদের পোশাক কিনবেন না তা তো হয় না। এবারে রঙ বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ঈদ পোশাক আয়োজন আছে। এই আয়োজন থেকে সাধ্যের মধ্যে সবাই পোশাক কিনতে পারবেন।
গ্রামীণ ইউনিক্লোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজমুল হক জানালেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি, লকডাউন এবং স্টোরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ঈদের কেনাকাটায় সবাই অনলাইনের দিকেই ঝুঁকছেন। গত বছর সাধারণ ছুটির সময়টাতে সবাই সেভাবে অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত ছিল না। কিন্তু এ বছর ঈদের কেনাকাটা অনলাইনে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অধিকাংশ মানুষজনই অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। বড় বড় পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আছে। যার ফলে অনলাইনে কেনাকাটায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পোশাক কেনার সময় প্রয়োজনে অনলাইন চ্যাটিং মুডে ক্রেতা নানা বিষয় জেনে পছন্দমতো পোশাক কিনতে পারছেন। স্টোরে যেটা সামনাসামনি হতো সেটা চ্যাটিং অপশনের মাধ্যমে হচ্ছে। তাই সংক্রমণ ঝুঁকি এড়িয়ে সবাই অনলাইনেই ঈদের কেনাকাটা করুন।
এখন কমবেশি সব পণ্যই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। তাই ঘরে বসে পছন্দ মতো পণ্য অর্ডার করতে পারেন। আর কেনাকাটা করার সময় যে জিনিসটি কিনছেন, রিভিউ বিভাগে গিয়ে মতামতগুলো পড়ে নিন। বিভিন্ন সাইটে গিয়ে পণ্যের দাম যাচাই-বাছাই করে নিন। ঈদ উপলক্ষে অনেক ধরনের অফার চলছে। তবে বিশেষ অফার দেখেই পণ্য কনফার্ম করবেন না। অফারে অনেক সময় পণ্যের মান ভালো নাও হতে পারে। অরিজিনাল পণ্য আর রেপ্লিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পছন্দের পণ্য কিনুন। প্রয়োজনে ইনবক্সে পণ্যের আসল ছবি পাঠাতে বলুন। আগেই টাকা পাঠাবেন না, পণ্য হাতে পেয়ে তারপর মূল্য পরিশোধ করুন। পরিবর্তন করার বা ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়মগুলো জেনে নিন। কত দিনের মধ্যে আপনাকে ডেলিভারি দেবে, তাও ভালোভাবে জানুন।
এ ছাড়া যে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজ থেকে পণ্যটি কিনবেন, তাদের কোনো অফিস বা দোকান আছে কিনা যাচাই করে নিন। তারা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (Ecab)-এর সদস্য কি না, যদি সদস্য হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের সদস্য নম্বর থাকবে। বিকাশ মার্চেন্ট অথবা কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে তাদের ওয়েবসাইটে লাগানো আছে কি না। Comodo Sectigo SSL (https) ওয়েবসাইটে লাগানো আছে কি না। উপরিউক্ত ধাপগুলো যদি কারও থাকে, তাহলে আপনি নির্ভয়ে পণ্য কিনতে পারেন। কারণ প্রত্যেকটি ধাপের জন্য ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়।
এছাড়া ক্যাশঅন ডেলিভারি হলে আরও ভালো। পণ্য যদি আপনার অর্ডার করা পণ্যের সঙ্গে না মেলে বা আশানুরূপ না হয় তবে আপনি অর্ডার বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে শুধু ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে অনলাইনভিত্তিক কুরিয়ার সার্ভিস ‘ই-কুরিয়ার’-এর সিইও বিপ্লব জি রাহুল জানালেন, লকডাউনের এই সময়টাতে কুরিয়ারের কর্মীদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। ডেলিভারিম্যান, মানবসম্পদ বিভাগগুলোর ব্যস্ততার শেষ নেই। এখন অনেকেই রমজান ও ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনলাইনে। ই-কুরিয়ার প্রায় ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। কোনো ধরনের বিপর্যয় না হলে সাধারণত ৮ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টাতেই পণ্য ডেলিভারি করেন। সব পণ্যই স্যানিটাইজ করে গ্রাহকের হাতে পৌছে দেওয়া হয়। ই-কুরিয়ার স্বল্প ওজনের পণ্য ডেলিভারি থেকে শুরু করে টিভিসহ ভারি পণ্যও বহন করে।
জেনে রাখুন
ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে নেবেন। পণ্যের প্যাকেট খুলে ফেলে দেবেন। আর ফেলা সম্ভব না হলে প্যাকেটের গা সাবান পানি দিয়ে ভালো করে মুছে নেবেন। তারপর নিজের হাত ধুয়ে নেবেন।





