অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের চারুকলা পাঠ

ফাইল ছবি

বিবিধ

পর্ব : দশ

অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের চারুকলা পাঠ

  • প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২১

লেখা : ভাস্কর শিল্পী আইভি জামান

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্যার একথাও বললেন, ‘তুমি গিয়া স্যুটকেস রেডি করো। পড়তে যাবা।’

তারপর হামিদুজ্জামান খান রেডি হচ্ছেন। খোঁজখবর নিতে থাকলেন। কোথায় গেলে ভালো হয় ইন্ডিয়ায়? তো হাইকমিশনে গেলেন, জানতে চেষ্টা করলেন। বরোদা হলো এখনকার সময়ের জন্য বেস্ট জায়গা... স্কাল্পচারের জন্য। বরোদায় অ্যাপ্লাই করলেন, বরোদায় সিট নাই, বরোদা একটু রাস। কখন পাওয়া যাবে? বলল পরের বছর। হামিদুজ্জামান বললেন সিট বুক করেন, পরের বছর বরোদা যাবো। এজন্য সেভেনটি থ্রিতে স্কলারশিপ পেয়ে গেলেন সেভেনটি ফোরে। বরোদা গেলেন। এই টাইপের, যেটা ঠিক করে, সেটা আর পাল্টাতে চায় না। হামিদুজ্জামানই বাংলাদেশ থেকে প্রথম স্কলার স্টুডেন্ট বরোদা গেলেন চারুকলা থেকে, এর আগে কেউ যায়নি। বরোদা যাওয়ার পর উনি লোনলি ফিল করতে শুরু করলেন... ওখানে খাওয়া ভিন্ন, কালচারটা ভিন্ন, সবকিছু ভিন্ন। কারণ কলকাতা থেকে বরোদা যেতে ট্রেনে লাগে আটচল্লিশ ঘণ্টা। ওখানকার আবহাওয়া ভিন্ন, গরমের সময় অত্যধিক গরম, ভাষা ভিন্ন। কয়েকটি ভাষা চলে, যেমন গুজরাটি, হিন্দি, ইংরেজি।

কিন্তু ইনস্টিটিউটটি অত্যধিক আধুনিক। উচ্চমানের লাইব্রেরি। স্টুডিওগুলো বিশাল আকারের। যেমন হওয়া দরকার। ঢাকা চারুকলা অনুষদের সাথে কিছুটা মিল আছে, যেমন পার্কের পাশে চারুকলা। কামাডিবাগ পার্কের পাশে বরোদা ফ্যাকাল্টি। ফ্যাকাল্টির নাম মহারাজা সায়াজিরাও ইউনিভার্সিটি অব বরোদা।

ওদের ওয়ে অব টিচিং... ফ্রিডমটা বেশি। ছেলেরা স্কেচ করে... পরে আবার নিজের মনে যা চায় করে, নিজের মতো করে কাজ করো। বরোদা এখানেই আলাদা।

ওখানে গিয়ে শঙ্খ চৌধুরীকে পেলেন। উনি আসতেন। শঙ্খ চৌধুরীই বরোদা ফ্যাকাল্টি ওপেন করেছিলেন। ভেরি মডার্নিস্ট, কোর্স-টোর্স একেবারে অন্যরকম। ভিন্ন ধরনের, বছরে প্রচুর লোকজন আসত লেকচার দিতে, ওয়ার্কশপ করতে।

সুব্রামানিয়াম ছিলেন পেইন্টিংয়ের। সুব্রামানিয়াম সরাসরি হামিদুজ্জামান খানের টিচার নন, তবে উনি সবার কাজ ঘুরে ঘুরে দেখতেন। হামিদুজ্জামান তখন কাস্টিং করতেন বরোদা। যেহেতু তিনি টিচার, সে জন্যই মাস্টার্স ডিগ্রি করতে দিল স্কাল্পচারে, নয়তো ওখানে অ্যাডমিশন পাওয়ার কথা নয়, কারণ হামিদুজ্জামানের বিএ তো পেইন্টিংয়ে। যেহেতু তিনি টিচার, সেজন্য ওখানে অ্যাকসেপ্ট করে নিল। হামিদুজ্জামান যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন বেস্ট কাজ করতে। দুই বছর প্রচুর কাজ করলেন। ডিপার্টমেন্টে সারা দিন কাজ করতেন। রাতে যেতেন বারোটা-একটার সময়। ডিপার্টমেন্ট বুঝতে পারল হামিদুজ্জামান খান খুব অ্যাটেন্ডটিভ। ডিপার্টমেন্ট তাঁর জন্য ওপেন। যখন খুশি আসতেন, কাজ করতেন। ফুলটাইম কাজ করতে সুযোগ পেলেন। কাজও করলেন প্রচুর, কাজ করতে করতে কাজের ডেভেলপমেন্ট হলো। টিচাররা খুব ভালো ছিলেন। ডিপার্টমেন্টের চাবি দিয়ে দিল। তুমি যখন খুশি আসো কাজ করো। ফুলটাইম কাজ। ওনারা তাঁকে বোঝাতে পেরেছিলেন স্কাল্পচারটা কী জিনিস। হামিদুজ্জামান প্রচুর কাজ করলেন। প্রচুর কাজ করায় ওখানে অনেকটা আলোচিত... এর কারণ হলো তার লাক ফেভার করেছে।

তিনি যখন বরোদার প্রাক্তন স্টুডেন্ট কাজ নিয়ে এক্সিবিশন হয়, পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে। ওই পঁচিশ বছর হামিদুজ্জামান তখন ফাইনাল ইয়ারে। বোম্বেতে একটা এক্সিবিশন হয়। ওরা স্টোর থেকে পঁচিশ বছরে যারা কাজ করে গেছেন, ওদের কাজ বের করে, আর তাদের কাজ নিয়ে একটা বড় এক্সিবিশন করে বোম্বেতে, তাজ আর্ট গ্যালারিতে। ওখানে হামিদুজ্জামানও কাজ দিলেন তিনটা, ছোট ছোট কাজ, একটা বড় কাজ। তখন হামিদুজ্জামান কাজ করতেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। কাজটা ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা, মানে রিয়ালিস্টিক না, তখন তিনি স্কাল্পচার বুঝে গেছেন। কোনো জায়গায় একটু খেয়ে গেছে... এরকম। তখন তিনি ভাবলেন স্কাল্পচারটা একটা কাপড় বিছিয়ে শুইয়ে দিই। উনি যেভাবে চিন্তা করেন আর কি! উনি নিজের মতো করে কাজ করার চেষ্টা করলেন। স্কাল্পচারটাকে একটা কাপড় বিছিয়ে শুইয়ে দিলেন এক্সিবিশনে। ইটস এ ডায়নামিক।

কারণ স্কাল্পচার কিন্তু তখনো স্ট্যাডিং এর নিচে নামে নাই। স্কাল্পচার মানে একটা বেইস থাকবে। স্কাল্পচারটা থাকবে, এটাই। কাজগুলো সব স্ট্যান্ডের ওপরেই, কিন্তু হামিদুজ্জামানের কাজ ফ্লোরে, ইট চেঞ্জড। ওখানে তখন নিউজ পেপারে এলো। হামিদুজ্জামান হ্যাজ কাম ফ্রম বাংলাদেশ, হি হ্যাজ ওন ডিরাইভড স্টাইল। এটা কিন্তু সবার চোখে এলো। কারণ লিখেছে ওখানকার প্রধান প্রধান কাগজে, যেগুলো খুব ইমপোর্টেন্ট পেপার বোম্বেতে। ওরা হামিদুজ্জামানকে খুঁজতে শুরু করলেন। ইভেন, এ ই হুসেন এসে জিজ্ঞেস করলেন, হু ইজ হামিদুজ্জামান? তখন তার অন্য কাজ ছিল, ঠেলাগাড়ি করেছিলেন, সেটাকে গ্রামের সাথে রিলেট করেছেন। তার কাজ দেখা যাচ্ছে গরুর গাড়ি ঠেলছে লোকগুলো। আবেদিন স্যারের এরকম ড্রুইং আছে। এগুলোকে স্কাল্পচারের মতো করে করলেন। তখন হামিদুজ্জামান একটা সিস্টেম ডেভেলপ করলেন। হামিদুজ্জামান ওয়াক্সের অনেক স্ল্যাব বানাতেন, এগুলো কেটে কেটে লাগিয়ে গরম করে স্কাল্পচার করতেন। এগুলো আবার কাস্টিং করে স্কাল্পচার করতেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads