বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ July ২০২৪

কোটা সংস্কার আন্দোলন: সারাদেশে গ্রেপ্তার প্রায় ছয় হাজার

ধরপাকড় আতঙ্ক ঘরে ঘরে


এম এ বাবর:

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে সারাদেশে গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে বহু শিক্ষার্থী এখন ঘরছাড়া। আন্দোলন ঘিরে সংগঠিত সহিংসতা, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারাদেশে চলছে যৌথ অভিযান ‘ব্লক রেইড’। তল্লাশির মুখে পড়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, রাজধানীর মোড়ে মোড়ে মানুষজনের মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখা হচ্ছে। কারো ফোনে সহিংসতার ভিডিও পেলেই পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। এভাবে ১৭ জুলাই থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ তিন হাজারের বেশি বিরোধী নেতাকর্মী রয়েছেন।

এ দিকে আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থন জানানো শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন ভয়ে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু সাধারণ শিক্ষার্থী। রাজধানীসহ দেশের বেশকিছু শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে ক্রমাগত তল্লাশি ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। যদিও কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশি হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়ে আসছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়া অভিযানে সাধারণ মানুষ ও শিশু শিক্ষার্থীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতের গারদখানার সামনে বাড়ছে ভিড়, কান্নাকাটি। কারণ রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেপ্তারকৃতদের এখানে আনা হয়।

অন্য দিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গতকাল এক ক্ষুদে বার্তায় জানায়, নাশকতা-সহিংসতায় জড়িত অভিযোগে শুক্রবার ঢাকায় ৭১ জন ও ঢাকার বাইরে ২১৯ জনসহ সারাদেশে মোট ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অভিযানে ১৭ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকাসহ ৫১টি মহানগর-জেলায় ৫২৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ৯ দিনে সারাদেশে মোট গ্রেপ্তারকৃতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সারাদেশে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় এক হাজার ১০০ জনকে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ৪৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও থানা-পুলিশ সূত্রে মামলা ও গ্রেপ্তারের এসব তথ্য জানা গেছে। অবশ্য এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় পুরনো মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং দল দুটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর নেতাকর্মীদেরও গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

শিশু শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। নিশ্চিত করে না জেনে কিছু বলা যাবে না। তবে আমরা কোয়ালিটি অ্যারেস্ট করতে বলেছি। অর্থাৎ, ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে বা এলাকার লোকজন যাদের দেখেছে, তাদেরকে অ্যারেস্ট করতে বলেছি। ছোট বাচ্চারা কোথায় অ্যারেস্ট হয়েছে আমি জানি না। তবে কিছু অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের ওরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেটা আপনারাও দেখেছেন। এদের সামনে রেখেছিল। এদের অধিকাংশ কিশোর গ্যাং। এরা লেখাপড়া করে না, বাচ্চা ছেলে। সে কারণে আমাদের পুলিশ প্রথমে অ্যাকশনে যায়নি। এগুলো সেগুলো কিনা আমি জানি না।

অন্য দিকে বিএনপি সূত্র জানায়, চলমান অভিযানে বিএনপিসহ বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতাসহ সাড়ে ৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে অনেক নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তল্লাশি ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারই দায়ী। এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোর ওপর দায় চাপানোর জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে সরকার। সেই উদ্দেশ্যেই বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ছাড় পাচ্ছে না সাধারণ মানুষও।

তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের অফিসগুলোতে অভিযান চালিয়ে সব নিয়ে গেছে। যতটুকু জেনেছি, দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন বন্ধ এবং আটক নেতাকর্মীদের সন্ধান ও মুক্তির দাবি জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার কে এন রায় নিয়তি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যারা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১