বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩০ June ২০২৪

খাল খননে পানি সংকট না থাকায় কৃষি ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি


মাদারীপুর প্রতিনিধি:

কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি খাল নতুন করে খনন করা হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি শুকনো মৌসুমেও চাষাবাদে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। খাল খননের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আগের চেয়ে দ্বিগুন ফসল উৎপাদন করছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি খাল ও জলাশয় গত কয়েক দশকে ভরাট হয়ে যায়। এতে প্রতিবছর কৃষি জমিতে সেচ প্রদান ও শুকনো ও বর্ষা মৌসুমেও পানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় কৃষকদের। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে এলজিইডি’র উদ্যোগে উপজেলার ভান্ডারিকান্দি পানি ব্যবস্থাপনা সেচ সমবায় সমিতির মাধ্যমে ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুর খাল, টেংরামারি খাল ও ক্রোকচরসহ ৬টি খাল খননের প্রকল্প হাতে নেয় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে খনন করা হয়। খালগুলো খননের ফলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক ও সারা বছর খালে পানি থাকায় কৃষি জমিতে সেচ ও পানি সংকটের সমস্যা দূর হয়েছে।

সরেজমিনে ওইসব খাল এলাকায় গিয়ে কথা হয় বিভিন্ন কৃষকের সঙ্গে। ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামের কৃষক সিরাজ পুইস্তা বললেন, ‘আমাদের গ্রামে ৪০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের আমলে খাল খনন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনদিন খাল খনন করা হয়নি। খালগুলো পলি পড়ি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। পানি পাওয়া যেত না। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের গ্রামের টেংরামারি খালটি নতুন করে খনন করায় এখন সারা বছরই পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের ফসল উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি সেচ খরচও কমে গেছে।’

একই এলাকার আরেক কৃষক নোয়াব আলী বেপারী বলেন, আমার দুই বিঘা জমিনে পাট বুনেছি এবার। খালে পানি থাকায় পাট ক্ষেতেও এখন পানি। আগে তো পানিই ছিল না। ক্ষেতে তো দূরের কথা পাট জাগ দেব সেই পানিও খুঁজে পেতাম না। অনেক টাকা খরচে করে দূরের নদীতে নিয়ে গিয়ে পাট জাগ দিতে হইতো। এখন আমাদের খালেই পাট জাগ দিতে পারব। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে।

বাহাদুর খাল পাড়ের বাসিন্দা হারুণ অর রশিদ বলেন, আমি গত বছর পানির অভাবে এক বিঘা জমির পেয়াঁজ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলাম। কিন্তু এবার আমাদের বাহাদুর খালে পানি থাকায় আগামী রবি মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করেই ফসল উৎপাদন করতে পারব। এতে আমাদের ফসল আগের চেয়ে দ্বিগুন বৃদ্ধি পাবে।

ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য বোরহান মাতুব্বর বলেন, ‘আমার এলাকায় জাইকা প্রকল্পের আওতায় খাল খনন করা হয়েছে। এতে আমাদের ওয়ার্ডের কৃষকসহ অন্য এলাকার কৃষকরাও খুব খুশি। তারা এই খালের পানি দিয়ে কৃষিকাজ করতে পারছে। আগে খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পানি পাওয়া যেত না। এখন পানি সংকটের সমস্যা দূর হয়েছে।’

এই বিষয়ে ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম চোকদার বলেন, ‘খালগুলো খনন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদের দুর্ভোগ ও পানি সেচের খরচ কমেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা খালগুলো খনন করেছি। চলতি পাটের মৌসুমেই কৃষকরা খালের পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করছে। যা আগামীতে এই সুবিধা কৃষকরা ভোগ করবে।’

এলজিইডির শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের খাল খনন করায় কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের চাহিদা পূরণ হবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এসব খাল খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ফসল উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে।

তবে নিয়মিত ভাবে কৃষি জমিতে চাষাবাদের জন্য গ্রামীণ ছোট বড় খালগুলোকে খনন করার দাবী করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘শুধু ভান্ডারিকান্দির খাল খননই যথেষ্ট নয়। এই রকম জেলার আরো অনেক খাল রয়েছে সেগুলোকে খনন করা প্রয়োজন। এবছর ভান্ডারিকান্দির যে খালগুলো খনন করা হয়েছে, সেই খালের পানি ব্যবহার করে ওই এলাকার কৃষি ফসল উৎপাদন বড় ভূমিকা রাখছে। পানি থাকায় ফসল আগের চেয়ে দ্বিগুন উৎপাদন হচেছ। কৃষকের পানি খরচও কমে গেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১