আপডেট : ০৪ June ২০২৪
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপন নামে এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো ওই ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। এমন ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপন। তিনি উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ^র গ্রামের মৃত ইউসুফ ভুঁইয়ার ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপন উল্লেখ করেন, পেশায় তিনি একজন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। ব্যবসা মন্দা যাওয়ায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও ব্যাংকের নিকট ঋণ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে পরিচয় হয় আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের মফিজুর রহমান সরকারের ছেলে মহিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সাথে। তিনি নিজেকে সোনালী ব্যাংক চৌদ্দগ্রাম শাখার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। স্বপনকে এক কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যাংক ঋণের বিপরীতে খরচ বাবদ ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানান। এতে রাজী হন মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপন। কাগজপত্র তৈরির কথা বলে মহিম উদ্দিন ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাধ্যমে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ঋণের গ্যারান্টি সোনালী ব্যাংকের একটি চেক ও অলিখিত দুইটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এর কিছুদিন পরে মহিম উদ্দিন ব্যবসায়ী মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপনের ইমোতে সোনালী ব্যাংকের একটি কাঠাছেড়া চেকে এক কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে মর্মে লিখিত একটি চেক পাঠায় এবং বাকি আরও দুই লাখ টাকা চেয়ে বসে। চেকের বিষয়টি স্বপনের সন্দেহ হলে মুঠোফোনে মহিম উদ্দিনকে প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন করে দেন। এরপর মহিম উদ্দিনের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিষয়টি বুঝতে পেরে সোনালী ব্যাংক চৌদ্দগ্রাম শাখায় যোগাযোগ করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, মহিম উদ্দিন নামে কোন ব্যক্তি এ শাখায় নেই এবং কোটি টাকার কোন ঋণও অনুমোদন হয়নি। এরপর থেকে মহিম উদ্দিনের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার ও খালি স্ট্যাম্পে টাকা পাওয়ার দাবি করে আদালতে মামলা করে হয়রানী করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী মনসুর হায়দার ভুঁইয়া স্বপনের চাচা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, স্ত্রী তাসলিমা বেগম, বোন নাজনিন আক্তার, প্রতিবেশি আজিম উদ্দিন ভুঁইয়া, মোঃ ফরিদ উদ্দিন ও আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ জহুর আহমেদ বলেন, ‘মহিম উদ্দিন নামে আমাদের শাখায় কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নেই। বিগত পাঁচ বছরে এ শাখা থেকে একসাথে এক কোটি টাকার কোন ঋণ অনুমোদন হয়নি’।
ব্যবসায়ী আরও বলেন, প্রতারক মহিম উদ্দিনকে ধরতে আইন প্রয়োগকারী একাধিক সংস্থার কাছে যান এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১