বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৫ May ২০২৪

লাইট হাউজ টানবে পর্যটক


সমুদ্রে চলাচলকৃত জাহাজের নাবিকদের কাছে বাতিঘর বা লাইট হাউস দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দেশের মানুষ ও পর্যটকদের কাছেও এ বাতিঘর আকর্ষণীয় করতে কাজ করছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় লাইট হাউস ও কোস্টাল রেডিও স্টেশন স্থাপনে ‘অ্যাস্টাবিলিস্টমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিস্ট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় দেশের উপকূলীয় এলাকায় ৭টি লাইট হাউস স্থাপন করা হচ্ছে। কক্সবাজার লাইট হাউসটিও দিকহারা নাবিকদের যেমন দিকের দিশা দেবে, তেমনি পর্যটকদের দেবে বিনোদন। লাইট হাউসগুলোর পরিবেশ পর্যটক বান্ধব করে স্থাপন করা হয়েছে। যা দুই দিক থেকে সরকারের রাজস্ব আয়েও অবদান রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান।

সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার নিরিবিলি মোটেলের উল্টো দিকের রাস্তাটি হলো লাইট হাউস রোড। এর শেষ মাথার ১৫০ ফিট উঁচু পাহাড়ের উপরেই রয়েছে নবনির্মিত লাইট হাউস। প্রধান গেট থেকে অনুমোদন শেষে পাহাড়ের গায়ে তৈরি করা সর্পিল ঢালু রাস্তা বেয়ে উপরে উঠতে হবে। এই রাস্তা ধরে ৫০ ফিট উপরে উঠলেই হাতের দুপাশে চোখ পড়বে আনসার ক্যাম্প ও স্টাফ কোয়ার্টার। ঢালু রাস্তা বেয়ে আরো ১০০ ফিট উপরে উঠলেই চোখে পরবে রেস্ট হাউস। এটিই পাহাড়ের চূড়া। নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে থাকা যাবে এখানেও। মূলত এখান থেকেই শুরু হয়েছে ১০০ ফিট উঁচু টাওয়ার যার মাথায় বসানো হয়েছে সন্ধ্যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠা লাইট। এ টাওয়ারের অবকাঠামো করা হয়েছে কংক্রিটের। চারপাশে তৈরি করা হয়েছে রেলিং ঘেরা বেলকনি। যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে প্রায় পুরো কক্সবাজার। তোলা যাবে ছবিও। কিন্তু টাওয়ারের শেষ তলাতে লাইট স্থাপনের কারণে সেটি বাদে সব জায়গাই থাকবে দর্শনার্থী বা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নৌ সহায়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরিচালনা করা, আন্তর্জাতিক কনভেনশনের চাহিদা পূরণ, আধুনিক নেভিগেশনাল সহায়তা ও ভেসেল ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা প্রসারিত করা, বর্তমান লাইট হাউস আধুনিকীকরণ ও নতুন লাইট হাউস স্থাপন, মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নির্মাণের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৬ সালে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪০ মিটার উঁচু পাহাড়ে ৫ মিটার উঁচু লাইট হাউসটি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পুরাতন হওয়ায় বাতিগুলো ঠিকভাবে কাজ করছিল না। যন্ত্রপাতি নষ্ট হলেও তা পুনস্থাপন করা যেত না। একারণেই নতুন ১৫০ ফিট উঁচু পাহাড়ের উপরে ১০০ফিট উঁচু টাওয়ারের উপরে অত্যাধুনিক লাইট স্থাপন করা হচ্ছে। এ লাইটটি প্রতি ১৫ সেকেন্ড পরপর জ্বলবে অর্থাৎ প্রতি মিনিটে জ্বলবে চারবার। দেখা যাবে ২৫ নটিক্যাল মাইল থেকে। এর ফ্রিকোয়েন্সি কভার করবে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত।

সহকারী প্রকল্প পরিচালক ক্যাপটেন ফরহাদ জলিল বিপ্লব বলেন, বর্তমানে কক্সবাজারসহ সাতটি লাইট হাউসে সিস্টেম ইনস্টলেশন কাজ করেছে কোরিয়ান বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে প্রতিটি লাইট হাউসে একটি করে কোস্টাল রেডিও স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে যা পূর্বে ছিল না। কোস্টাল রেডিও স্টেশনগুলো ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আগারগাঁও এ নির্মাণাধীন প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্র এলাকা মনিটরসহ কোনো জাহাজ বিপদে পড়লে সেই জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনসহ উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়ক হবে।

পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের কোস্টাল এলাকাতে কোনো জাহাজ আসলে আমরা তা জানতে পারি না। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের সম্পূর্ণ কোস্টাল এলাকা সার্ভিলেন্সের আওতায় আসবে। প্রতিটি লাইট হাউস ৭৫ মিটার বা (২৪৪ ফুট) উঁচু এবং দৃষ্টিনন্দন যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। লাইট হাউস এলাকাকে এমনভাবে বিউটিফিকেশন করা হচ্ছে যা পর্যটকদের কাছে পরিচিতি পাবে। এছাড়াও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রকল্পের অধীনে লাইট হাউস কম্পাউন্ডে গেস্ট হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে যেখানে পর্যটকগণ লাইট হাউসের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে টিকিটের সম্ভাব্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১