আপডেট : ২৪ April ২০২৪
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব, পদ্মা ও গড়াই নদী পানিশূন্য, দেশের বৃহত্তর জিকে প্রকল্প বন্ধ হয়ে থাকার কারণেই ভু-গর্ভস্থ্য পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে তীব্র খাবার পানির সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। চারিদিকে পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ মানুষগুলো। ৬-৭ ফুট ডিপ করে মটর দিয়েও টিউবওয়েল থেকে পানি উঠাতে পারছেনা। হস্ত চালিত টিউবওয়েল গুলো পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। পানি সংকট মিটাতে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানির তোলা হলেও ওই গভীর নলকূপ দিয়েও পানি উঠছে কম। পৌর এলাকায় পৌরসভার সরবরাহকৃত পানিই এক মাত্র সম্বল। তা ছাড়া গ্রাম এলাকায় পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রচণ্ড তাপদহে কৃষকেরা মাঠের ফসল ফলাতেও পারছেনা। প্রচন্ড তাপে মাঠের ফসল পুড়ে যাচ্ছে। ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েও পানি না পাওয়ায় ফসলে সেচ দিতে পারছেনা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানায় গত ১০ বছরে পানির স্তর ৮ থেকে ১০ ফুট নিচে নেমে গেছে। আগে ১৬ থেকে ১৮ ফুটে পানির লেয়ার পাওয়া গেছে সেখানে চলতি বছরে ২৬ থেকে ২৮ ফুট নীচে পানির লেয়ার চলে যাওয়ায় হস্ত চালিত টিউবওয়েলে পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। গভীর নলকুপেও কিছু কিছু জায়গায় পানি কম উঠছে। তার পরেও খাবার পানির সংকট মোকাবেলায় চলতি বছরে কুষ্টিয়া জেলায় ১ হাজার ৬৯০ টি গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। চাহিদার তুলনা সরবরাহ কম থাকায় কল বসাতে পারছে না। কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় গত জুন ২০২৩ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২৮ হাজার ৯২৫টি হস্তচালিত নলকূপ বসানো হয়েছে। এর মধ্যে চালু আছে ২৭ হাজার ৪৯৫টি । ১ হাজার ৪৩০ টি নলকূপ অকেজো হয়ে গেছে। অগভীর নলকূপের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৩৬টি। এর মধ্যে চালু আছে ১৩হাজার ২৩০ এবং অকেজো হয়ে গেছে ৬২৮টি। ১ হাজার ১২০টি গভীর নলকুপের মধ্যে ৩টি নলকুপ অকেজো হয়ে গেছে। তারা ডিপসেট নলকুপ ৪ হাজার ৩৮২টির মধ্যে চালু রয়েছে ৪ হাজার ২২৫টি, অকেজো হয়ে গেছে ১৫৭টি। কুষ্টিয়া, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা পৌরসভা পানি সংকটের হাত থেকে পৌর বাসীকে রক্ষা করতে পানির লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করছে। তবে এখনো অনেক এলাকায় পানি সরবরাহের পাম্প বসানো হয়নি। ফলে পৌরসভার পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক এলাকার পৌরবাসী। কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় সবাই পানির পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজারের উর্দ্ধে টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। তবে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়াই ওই সব টিউবওয়েলে পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বাড়ীর নারী-পুরুষেরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেয়ে পানি সংগ্রহ করছে। এতে করে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাম বাংলার পুকুর ডোবা, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির আরো সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়। এদিকে কুষ্টিয়ার তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি হওয়ায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরম সইতে না পেরে খামারীতে মুরগী, বিভিন্ন স্থানে পশু পাখী মারা যাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভীর জমিয়েছে। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে এমনই এক পরিস্থিতি আকার ধারণ করেছে রোগীদের চাপ সামলাতে ডাক্তাররা হিমসিম খাচ্ছে। হাসপাতালে পা দেয়ার জায়গা টুকু নেই। এ যেন এক ভয়াবহ মহামারি সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে মাটি ফেটে ফসল উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকেরা। মাঠের উঠতি ফসল প্রচন্ড খরাতাপে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১