বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৮ April ২০২৪

নওগাঁয় চৈত্রের গরম ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ


নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর ওপর দিয়ে চৈত্র মাসের মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে সাধারণ মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে দুপুরের পর শহরের প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে গাছের ছায়ায় বসে থাকছেন শ্রমজীবী মানুষ। গ্রামেও দেখা মিলছে একই চিত্র।

তাপপ্রবাহ বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের অঞ্চল নওগাঁয় শুরু হয়েছে বিদ্যুতের লোড শেডিং। এতে করে জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে আরো একধাপ। নওগাঁ শহরের  পাশাপাশি গ্রামেও বিদ্যুতের যাওয়া আসা খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।  গরুমের শুরুতেই বিদ্যুতের এই যাওয়া আসার খেলায় মিশ্রপ্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে জনসাধারনের মাঝে।

গ্রামঅঞ্চলে দিনের বেলা মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করলেও ইফতারির পর থেকে সেহরী খাওয়া পর্যন্ত ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়া আসায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে জনগন। তবে বিদ্যু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে লোডশেডিং সেভাবে নেই। বিদ্যুতের মেইনটেনস এর কাজ চলমান থাকায় মাঝে মধ্যে লাইন টেনে কাজ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নওগাঁর প্রায় সব উপজেলাতেই গরম শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঘনঘন বিদ্যু যাওয়া আসা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাগরিবের নামাজের পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ আসলেও তারাবিহর সময় পুনরায় টেনে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রাত ১১ টার পর থেকে ফজরের আযানের আগে একাধিকবার বিদ্যু টেনে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যু টেনে প্রায় আধাঘন্টা থেকে শুরু করে ১ ঘন্টার সময়ও অধিক সময় বিদ্যু থাকছে না। এতে করে গরমে মানুষ কাহিল হয়ে পড়ছে। এতে বাড়ীর শিশু, বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা  লেখাপড়া ঠিক মত করতে পারছেনা।

তীব্র রোগ আর গরমে জমির পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় জমিতে পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। কৃষকরা জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিপটিউব ওয়েল গুলোতে ধর্না দিচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক মত না থাকায় সময় মত পানি না পেয়ে জমিতে পানি দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে পানির অভাবে ধানের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

নিয়ামতপুরের কৃষক আবু তাহের হোসেন জানান, বিদ্যু ঠিকমত না থাকায় জমিতেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না ফলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। গরমের শুরুতেই যদি বিদ্যুতের এমন ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে পরবর্তিতে আরোও জমির ফসলের ক্ষতি হবে বলে জানান।

মান্দা উপজেলা এক মাদ্রাসার শিক্ষক রেজাউল ইসলাম  বলেন, পল্লী বিদ্যুতের উধ্বর্তন কর্মকর্তা কর্মচারীদের গভীর ভাবে অনুরোধ জানায়, পবিত্র মাহে রমজান মাসে সেহরী খাওয়ার সময়, ইফতারের সময় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় দয়া করে বিদ্যুৎ টানিবেন না। এমনি ভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ ঝেড়ে দিচ্ছেন। 

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রিজিয়ন-১ এর জেনালে ম্যানেজার (জিএম) এনামুল হক বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ রিজিয়ন-১ (নওগাঁ সদর, আত্রাই, রানীনগর, মান্দা, নিয়ামতপুর ও বদলগাছী উপজেলা) এর সর্বমোট বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়ার্ট। গ্রিড থেকে পাওয়া যায় ৪৫ মেগাওয়ার্ট। আর বাকি ৩০ মেগাওয়ার্ট বিভিন্নভাবে লোডশেডিং করে সমন্বয় করে দেয়া হয়। গ্রিড থেকে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে কোন রকম লোডশেডিং হবে না।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রিজিয়ন-২ পত্নীতলা ডিজিএম ফকরুল আলম বলেন, পত্নীতলায়-২ (পত্নীতলা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট, সাপাহার ও পোরশা উপজেলায়) সর্বমোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়ার্ট। গ্রিড থেকে পাওয়া যায় ১১ মেগাওয়ার্ট। আর বাকি ৪ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করে চালানো হয়। দিনের বেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে তবে রাত ৯ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী   নেসকো পিএলসি বিভাগীয় অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মোঃ জাকিউল হোসেন বলেন, গত  (সোমবার )রাতে  রাজশাহী বিভাগের বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ৯৩৩ মেগা ওয়াট, সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭৩১। বিদ্যুতের চাহিদা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করছে। বর্তমান সময়ে গরমের তীব্রতা থাকায় চাহিদা বেশী হচ্ছে তবে বৃষ্টি হয়ে গেলে এই চাহিদা কমে যাবে। লোডশেডিং এর বিষয়ে বলেন, দিনে বেলা যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে তা লোডশের্ডি এর কারন হয়, বিদ্যুতের মেইনটেনস এর কাজ চলমান থাকায় এটি টানা হচ্ছে। তবে রাতের বেলা বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ও জমিতে সেচপাম্পগুলো পুরোদমে চালানো হয় তাই বিদ্যুতের উপর চাপ পড়ে বলে জানান।

নওগাঁ বদলগাছি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল ৩টায় নওগাঁতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১