বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ April ২০২৪

ঈদে রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে সৈয়দপুরে তৈরি আসনবিহীন যাত্রীদের কোচ


নীলফামারী প্রতিনিধি:

পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে কর্মস্থল ছেড়ে নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরবে লাখো মানুষ। তাই ঈদে নিয়মিত ট্রেনের সাথে প্রয়োজন হবে বাড়তি দুই শতাধিক কোচ। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা ৮০টি ব্রডগেজ ও ৩০টি মিটারগেজ কোচ মেরামত শেষে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মধ্যে আসনবিহীন যাত্রীদের জন্য দুটি কোচ রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরিকৃত কোচ দুটি সবার নজর কেড়েছে।

সূত্রমতে, নীলফামারীর সৈয়দপুর দেশের প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে একটি। অনেকের কাছে রেলের শহর হিসেবে বেশি পরিচিত। ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত হয় দেশের প্রাচীন এবং বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা। এ কারখানার মধ্যে ২৬টি উপ-কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। প্রতিষ্ঠার পর এখানে নতুন কোচ তৈরি হতো। কিন্তু ১৯৯৩ সালে রেল সংকোচন নীতির আওতায় কোচ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন রেলের ছোট বড় যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের বগি মেরামতসহ সব কাজ করা হয় এই কারখানায়।

ওই সূত্রটি জানায়, কারখানাটিতে স্বাভাবিক সময় প্রতিমাসে গড়ে ৩০ কোচটি মেরামত করা হয়। কিন্তু সারাদেশে ঈদের আগে ও পরের পাঁচদিন বিশেষ ট্রেন চলাচল এবং নিয়মিত ট্রেনেও অতিরিক্ত কোচ লাগানোর কারণে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার ৫১ কর্মদিবসের মধ্যে ১১০টি যাত্রী কোচ মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়। ঈদযাত্রায় ১৬টি বিশেষ ট্রেনের সাথে সংযুক্ত এসব কোচ দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২২ হাজার অতিরিক্ত মানুষ যাত্রা করতে পারবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদেকুর রহমান বলেন, ১১০টি কোচের মধ্যে আসনবিহীন যাত্রীদের জন্য দুটি কোচ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। কোচের ভিতরে দুই পাশে ৮০ জন যাত্রীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। আর মাঝখানের প্রশস্ত ফাঁকা জায়গায় ১৪১ জন আসনবিহীন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। দাঁড়ানো যাত্রীদের ধরার জন্য ওপরে হাতল এবং মাঝে মাঝে লোহার খুঁটি আছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে মধ্যে সবকটি কোচ মেরামত শেষে রেলের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় নষ্ট ও চলাচল অযোগ্য কোচগুলোকে সচল করা সম্ভব হয়েছে। আসনবিহীন যাত্রীদের জন্য তৈরি কোচ দুইটি পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত তিনটি স্পেশাল ট্রেন চালু হয়েছে। আগামী ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল তিন দিনে তিনটি স্পেশাল ট্রেন রাত ১১টায় জয়দেবপুর ছেড়ে যাবে। আসনবিহীন টিকেট ট্রেন ছাড়ার দুইঘণ্টা পূর্বে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে দেওয়া হবে। অপরদিকে ওই ট্রেনটি ঈদের পরদিন থেকে টানা তিনদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে গাজীপুর পৌঁছাবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১