বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৩ March ২০২৪

লক্ষ্মীপুরে ৬৫০-৬৭০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু করল তরুণ উদ্যেক্তারা


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

তরুণ উদ্যেক্তাদের কম দামে মাংস বিক্রিতে  সাড়া পড়েছে  লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী। কম দামে মাংস বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন এলাকার যুবকেরা। বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন তরুণ-যুবকরা একত্রিত হয়ে গ্রুপ তৈরি করে ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেছেন। এ দিকে সরকার মাংসের দাম ৬৫০টাকা দাম বেঁধে দেওয়ার পরও টনক লড়েনি লক্ষ্মীপুরের  মাংস ব্যবসায়ীদের। জেলা সদর সহ রায়পুর, রামগতি, কমলনগর, চন্দ্রগঞ্জ ও রামগঞ্জে  হাড়সহ ৭৫০-৮০০ টাকা ও হাড় ছাড়া ৯০০টাকা দামে মাংস বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে ৬৭০ টাকা দামে শুক্রবার (২২ মার্চ) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শহরের কলেজ গেইট এলাকায় মাংস বিক্রি শুরু করেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক।  একই দিনে কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজারে একই দামে  গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেন মাংস ব্যবসায়ী খলিল।

রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড, আল আকসা মাসজিদ মার্কেটে রোববার থেকে ৬৫০ টাকায় মাংস বিক্রি শুরু করবেন বলে মাইকিং করেছেন স্থানীয় যুবকরা।

জেলার রামগঞ্জ উপজেলা শহরে ৬৭০ টাকায় মাংস বিক্রির উদ্যোক্তা ২ যুবক। তাদের মধ্যে আহমেদ কাউছার রামগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। অপর উদ্যোক্তা হলেন, ফুল ব্যবসায়ী আরমান চৌধুরী। 

রামগঞ্জের তরুণ উদ্যেগক্তা আরমান চৌধুরী জানান, গত ১৪ মার্চ তারিখে রামগঞ্জ পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী শহরে গরুর মাংসের মূল্য কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মেয়রের সিদ্ধান্তকে কোনো মাংস ব্যবসায়ী সম্মান দেখায় নি। উল্টো মেয়রের এ ঘোষণার পর মাংস ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এখনও মাংস ব্যবসায়ীরা মাংস বিক্রি করছে না। "তাই আমরা তরুণরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছি," বলেন তিনি।

তরুণ উদ্যোক্তা আহমেদ কাউছার জানান, "প্রথম দিন প্রায় ৫০০ ক্রেতার কাছে আমারা ১-২ কেজি হারে মাংস পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমরা মাংস ব্যবসা করতে চাই না। তবে বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কাজ চালু থাকবে।"

রায়পুর উপজেলায় ৬৫০ টাকায় মাংস বিক্রি শুরু করেছেন ১০ জন যুবক। এদের মধ্যে প্রধান উদ্যোক্তা কাজী কাউছার মাদরাসা শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে ইমামতী করেন। তিনি জানান, "ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছে, আমাদেরকে জিম্মি করে ফেলেছে। তাই আমরা এলাকার ১০জন যুবক মাংস বিক্রি করার জন্য গ্রুপবদ্ধ হয়ে একটা তহবিল গঠন করেছি। ৬৫০ টাকায় বিক্রয় শুরু করেছি। আশা করি সফল হবো।"

কমলনগর উপজেলার মাংস ব্যবসায়ী খলিল জানান, "দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছি। এবার দেখি মানুষের সেবা করা যায় কিনা। তবে হয়তো কম ব্যবসা হবে।" ৬৫০ টাকায় মাংস বিক্রি শুরু হওয়ার ১ম দিনেই তিনি ৫টি গরুর মাংস বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, এর আগে গ্রামীণ বাজারে প্রতিদিন ১টি গরুর মাংস বিক্রি হতো। তিনি বলেন, "লাভ কম হবে, তবে ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্য ব্যবসায়ীদের চাপ শুরু হয়েছে। আসলে ভালো কাজ করা কঠিন।"

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রায় সব উপজেলার বাজারগুলোতে হাড় সহ  গরুর মাংস ৭৫০-৮০০টাকা এবং হাড় ছাড়া  ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মাংসের এমন দামে নিম্ন আয়ের মানুষেরা গরুর মাংস কেনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে।

এদিকে, মাংসের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এলাকার তরুণ উদ্যোক্তাদের কম মুল্যে মাংস বিক্রির কাজকে মানবসেবামুলক কাজ বলে আখ্যায়িত করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১