বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ February ২০২৪

চট্টগ্রামে ডাক্তার অসীম সরকারের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নানা কৌতুহল এলাকাবাসীর


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে দুই দেশে বসবাস এবং প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডাক্তার অসীম সরকার নামে চসিক‘র সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ।   তার বিরুদ্ধে দুই বাংলায় অবৈধভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।  তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভারতীয় ও  বাংলাদেশী হিসাবে তার দুটি পরিচয়পত্র এসেছে প্রতিবেদকের হাতে।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. অসীম সরকার চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার মদুনাঘাটের রশিদ বাড়ী এলাকার সুনীল সরকার ও পুষ্পরানী সরকার দম্পতির সন্তান।  কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তার স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ আছে নগরীর খুলশী থানাধীন দামপাড়াস্থ ২৯১ সানি টাওয়ার, এম এম আলী রোডের ভুতাইয়া কলোনিতে।  সেখানে সানি টাওয়ারের  ৫ম তলায় কোটি টাকা দামের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন‘র চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান।  সেখানে তিনি ভারতীয় কোটি রূপীর উপরে খরচ করে স্বপ্নীল হাউজ নামে  ছয়তলা একটি বাড়ি করেন । 

চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম এক সাংবাদিককে বলেন, ডা. অসীম তার স্ত্রী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় চাকরিতে ইস্তফা দেন। এরপর তিনি ভারতে পাড়ি জমান।

একটি সূত্র জানায়, ডা. অসীম একজন নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান (এন.আর.আই)।  তার কোলকাতার আয়কর বিভাগের ফাইল নম্বর অছইচঝ৪০১৩২।  ব্যাংক অব বারোদার কেষ্টপুর শাখায় তার ব্যাংক হিসাব নং- ২৬৬০-০১০০০০১৮৮৪।  তিনি বিভিন্ন ভিসায় বাংলাদেশ থেকে মাস্কাট ও দুবাই যেতেন এবং এসব দেশ থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে ভারতে টাকা পাচার করতেন।   তার পরিচয়পত্র থেকে আরো জানা যায়, ভারতের ভোটার সার্ভিস পোর্টালে অসীম সরকার ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নাগরিক। যার নং DKN৫১৯৪০৮৯, তার ব্যবহৃত কয়েকটি ভারতীয় ফোন নাম্বার পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, অসীম সরকার নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি থেকে শুরু করে আইন-আদালত, সরকারি-বেসরকারি ও প্রশাসনিক কাজে তদবিরের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।   এসব অর্থের লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন প্রমাণ না থাকায় আইনিভাবে তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে জানান তারা।   ডা. অসীম আদালত অঙ্গনে আসামীদের ছাড় করিয়ে দিবেন বলে নিরীহ বিচারপ্রার্থীদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে দালালি করার অভিযোগের ব্যাপারে একসময় মুচলেকা দিয়েছিলেন আইনজীবী সমিতিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, সে গোপনে দ্বৈত নাগরিক সেজে প্রতারণা করে ভারত-বাংলাদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। চোরাচালান থেকে শুরু করে হুন্ডি, অর্থপাচার ও অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত চক্রের সদস্য। গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে সে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট-এর ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেয়।

এ বিষয়ে তার ভাই সঞ্জীব সরকার জানান, তার ভাই বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় থাকেন।  তবে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তার মেয়ের বিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর নেভী কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান।  তখন বাংলাদেশে ছিলেন।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, দুদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এখন সে বৈধ কিনা সেটি খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে। 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১