বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০২ December ২০২৩

শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান পাহাড়ী নেতাদের


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এই সমস্যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে শান্তি চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বিগত ছাব্বিশ বছরেও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অবাস্তবায়িত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে চুক্তির মৌলিক ধারাগুলি। রাষ্ট্রযন্ত্র চুক্তি বাস্তবায়ন না করে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলতে গিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে।

  শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলহ্ম্যে রাঙ্গামাটি জেলা শহরে জিমনেসিয়াম মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, রাঙ্গামাটি জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক গণসমাবেশে আদিবাসী নেতাদের এ অভিযোগ।

নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকারের জুম্ম জনগণ তথা আদিবাসীদের প্রতি মোটেই আন্তরিক নয়। তাই সরকার ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তিকে শুধূমাত্র মুখে পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা বলে কাল ক্ষেপন করছে এবং চুক্তি বিরোধী অপশক্তিকে সরকার গোপনে মদদ ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাই আদিবাসী নেতারা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীণ সরকারকে বেঈমান, বিশ^াস ঘাতক ও নির্লজ্জ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জনসংহতি সমিতির নেতারা আক্ষেপ করে বলেছেন, বিগত ছাব্বিশ বছরে মোট ৭৫টি ধারা থেকে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেছেন, সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলে সংখ্যালঘু বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় আছে বলে বাংলাদেশ বিশে^র মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ ও সুন্দর দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। তাই আদিবাসীদের টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের অস্তিত্ব অক্ষুন্ন রাখতে আওয়ামীলীগসহ সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও ন্বাধীনতা স্বপক্ষ শক্তি এক হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে স্থায়ী সমাধান করার জন্য উদাত্ত আহŸান জানান।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত আদিবাসীদের সংখ্যালঘু ও পশ্চাদপদ বানানোর জন্য সমতল ভূমি থেকে সেটেলার বাঙালীদের নিয়ে এসে এতদাঞ্চলে পুনর্বাসিত করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে ছিলেন।

তিনি বলেছেন, পার্বত্য জুম্ম জনগণ আলাদাভাবে কোন স্বাধীনতা চাইনা। তাঁরা তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজেদের অস্তিত্বকে অক্ষুন্ন রাখতে চাই। তাই তিনি পার্বত্য চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডা: গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জলিমং মারমা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, শিক্ষবিদ শিশির চাকমা, জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কন্দ্রেীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক শান্তিদেবী তংচঙ্গ্যা, জনসংহতি সমিতির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা ও যুব সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা প্রমুখ।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১