আপডেট : ২৬ October ২০২৩
আব্দুল মান্নান পল্টন,ময়মনসিংহ ব্যুরো, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডি আইজি হিসেবে যোগদান করেছেন শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার)। ২৬ অক্টোবর বেলা পোনে ১১টায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকাকালিন ২০১৯সালে তাঁর শিল্প চেতনার অনন্য নির্মাণ স্থাপত্য বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘চেতনায় অম্লানে” পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় কর্মগুনে আলো ছড়ানো ময়মনসিংহের জেলা পুলিশ সুপার এসপি মাছুম আহম্মেদ ভূঞা পিপিএম এই পুলিশ রত্নকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান । অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ), মোঃ সাজ্জাদুর রহমান,) রেঞ্জ ডি আইজি অফিসের পুলিশ সুপার (অপারেশন) খন্দকার নাজমুল হাসান, রেঞ্জ ডি আইজি অফিসের পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন,জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ )রায়হানুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামীম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সপার (ডিএসবি)ফাল্গুনী নন্দী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহীনুল ইসলাম ফকির,কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ কামাল আকন্দ,জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারুক হোসেনসহ রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিশেষ কল্যান সভার সভাপতি ময়মনসিংহের জনপ্রিয় এসপি মাছুম আহম্মেদ ভুঞা তাঁর বক্তবে বলেন এই সময়ে অত্যন্ত দক্ষ অভিবাবকের খুবই প্রয়োজন ছিল। আমাদের প্রত্যাশিত দক্ষ ও সুযোগ্য অভিবাবক পেয়েছি। আগেও স্যারের সাথে কাজ করার সুযোগ হযেছিলো। আবারও বড় ভাগ্যকরে আবিদ স্যারের সাথে কাজ করার সুযোগ হলো। আমরা অবিদ স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো। অতিরিক্ত এসপি রায়হানুল ইসলাম বলেন, আবিদ স্যার বাংরাদেশ পুলিশ রত্ন । আবিদ স্যারের সাথে কাজ করে অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারবো। ২০১৯সালের ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহের জনপ্রিয় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ছিলেন বিসিএস ২০তম ব্যাচের মোঃ শাহ আবিদ হেসেন। পদোন্নতি পেয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), ময়মনসিংহ রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি পরে আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের মে মাসে অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে ডি আইজি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন তিনি। মাত্র ১বছর ৪মাস ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে নতুন ইতিহাস রচনা করেছিলেন তিনি। কর্মগুনে এই স্বল্প সময়েই ময়মনসিংহবাসীর মন জয় করেছিলেন। ঘুষ' দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্রসেড ঘোষণা করেছিলেন। অপরাধ নিমুর্লে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই মাঠে নেমেছিলেন সাম্যবাদ অগ্রদুত অসা¤প্রদায়িক নীতির এই দেশপ্রেমিক খাঁটি বাঙালি। তাঁর হাত ধরেই সাধিত হয়েছিল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমুল উন্নয়ন। সেই সময়ে ক্রাইমজোন খ্যাত দেশের আলোচিত জনপদ ময়মনসিংহে চুরি’ ডাকাতি’ ছিনতাই’ চাঁদাবাজি ’মাদক ব্যবসাসহ সকল প্রকার গুরুতর অপরাধমুলক কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল। পুলিশকে গড়ে তুলেছিলেন মানবিক পুলিশ হিসেবে। পুলিশ কতৃক সাধারণ জনগন হয়রানির চিরচারিত প্রথাও বন্ধ করেছিলেন তিনি। এতদ অঞ্চলের দাঙ্গা হাঙ্গামা রাজনৈতিক গ্রুপিং, ধর্মান্ধ অপশক্তিকেও দমন করেছিলেন কঠিন হস্তে। যার নাম শুনেই উত্তাল পরিবেশ নিমিষেই স্বাভাবিক হয়ে যেত। অপরাধ দমন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আকাশ ছেঁায়া সাফল্যের রেকর্ড গড়ে ছিলেন তিনি। প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও স্মার্ট নেতৃত্বের পথিকৃৎ কথার সঙ্গে বাস্তবতার সম্মিলন ঘটিয়ে কর্মঅন্তপ্রাণ এই মানুষটি রেঞ্জ পুলিশে কর্মরত প্রতিটি সদস্যকে করেছিলেন আলোকিত ও বিকশিত। অপরাধী যেই হোক সবাই সমান, দায়িত্বপালনে নীতির প্রশ্নে আপোষহীন অকুতভয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে অনেকেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বলে সম্বোধন করতেন। পুলিশের এতো বড় কর্মকর্তা ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে থেকেও স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে জীবন যাপন করেন একেবারেই সাধারণ মানুষের মতো। বিএনপি জামাত জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার বিরোধী আেšদালনসহ নানা কর্মসুচীর কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান। আর মাত্র ২মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলমান কঠিন সময়ে ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শাহ আবিদ হোসেন ছিলেন ময়মনসিংহবাসীর পছন্দের শীর্ষে । এর পুর্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শাহ আবিদ হোসেন। সেই সময় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং সফল হন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কঠিন মুহুর্তেও পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ওপরেই আস্থা রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন জনবান্ধব ও অভিজ্ঞ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে চলতি মাসের (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ রেঞ্জের বিদায়ী ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচায্যের্র স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচায্যের্কে পুলিশ সদরদপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। ডিআইজি হিসেবে শাহ আবিদ হোসেনের যোগদানের খবরে রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি সর্বস্তরের শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে চলছে আনন্দ উল্লাস। বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ হৃদয়ের মর্মমূল থেকে জানাচ্ছেন উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা। পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অগনিত মানুষ তাদের দেয়া পোষ্টে লিখেছেন আমরা ময়মনসিংহবাসী বড়ই ভাগ্যবান। এই কঠিন সময়ে আপনাকে আবারও রেঞ্জ ডি আইজি হিসেবে পেয়েছি। আমরা বিশ^াস করি আপনার বলিষ্ঠ ও দুঃসাহষিক নেতৃতে ময়মনসিংহ বিভাগবাসী নিরাপদ থাকবে। দেশে যত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হোক না কেন ময়মনসিংহবাসী থাকবে নিরাপদ। ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বপালনকালে পুলিশি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গ্রহণ করেছিলেন নানামুখী উদ্যোগ। তার সময়ে জেলা পুলিশের মোবাইল এপ্লিকেশন প্রচলন, অনলাইনে নাগরিক সেবা, পজ মেশিনের মাধ্যমে ই—ট্রাফিক ব্যবস্থা, অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান, অনলাইন জিডির প্রচলন, গঠিত নারী ও শিশু সহায়তা সেলের সুফল পেয়েছেন সকলেই। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন নতুন উদ্যোগ আর কর্মপ্রবাহে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাছুম আহম্মেদ ভুঞার দক্ষ নেতৃত্বে পুলিশকে গড়ে তুলেছেন ‘জনতার পুলিশ’ হিসেবে । ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন ময়মনসিংহের জেলা পুলিশ সুপার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ লাইন্সে সেই সময় তিনি নির্মাণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘চেতনায় অম্লান যেখানে আছে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সদস্য ও কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সদস্যদের নামফলক। এর আগে দায়িত্বপালনকালে পিরোজপুর জেলায় নির্মাণ করেছিলেন শহীদ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভ এবং কুমিল্লা জেলায় নির্মাণ করেন ‘চেতনায় ৭১’।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১