বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৫ October ২০২৩

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রস্তুতি


আ ন ম সানাউল্লাহ-চট্টগ্রাম :

আগামী ২৮ অক্টোবর দেশের প্রথম টানেল কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করতে চট্টগ্রাম আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতির অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে সম্ভাব্য শেষ জনসভা এটি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ জনসভা হবে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জনসভায় ১০ লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটাতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। জনসভার জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৯ লাখ ঘনফুট আয়তনের মাঠ। তাছাড়া জনসভা ঘিরে চলছে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা। টানেলের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে চলছে সাজসজ্জার কাজ। মাঠে জনসভার মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে নৌকার আদলে, সমতল করা হয়েছে জনসভার স্থান। সংস্কারের পাশাপাশি রঙ করা হচ্ছে সড়কগুলো। স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দলীয় সভাপতির নজরে আসতে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, নিশান, তোরণ টানানোসহ নানা কর্মসূচি পালনে তাদের মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলছে। ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে প্রস্তুত চট্টগ্রামবাসী। নতুন এক ইতিহাস সূচনা হতে চলেছে চট্টগ্রামে। নগরের পতেঙ্গায় শহর প্রান্তে টানেলের নামফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। টোল প্রদানের পর টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে কাফকো কলোনি সংলগ্ন কেইপিজেড মাঠে জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার সময়সূচির পরিবর্তন করা হয়েছে। ওইদিন আনোয়ারায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা দুপুর ২টার পরিবর্তে সকাল ১০টায় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। নগরের পতেঙ্গায় শহর প্রান্তে টানেলের নামফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। টোল প্রদানের পর টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে কাফকো কলোনি সংলগ্ন কেইপিজেড মাঠে জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই মধ্যে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, নিশান, তোরণের পাশাপাশি চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় জেলাজুড়ে এক ভিন্ন রকমের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা সফল করতে পুরো চট্টগ্রাম জুড়েই এখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্রের ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণে সাজতে শুরু করেছে পুরো চট্টগ্রাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতেই এত আয়োজন। এইদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে স্মরণকালের সেরা জনসভায় পরিণত করতে আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নানা বর্ণিল রূপে সাজছে কর্ণফুলির দক্ষিণ পাড়। আনোয়ারা কেইপিজেড মাঠে জনসভা উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সভামঞ্চ ও জনসভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে নিরাপত্তায় সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। জনসভা সফল করতে রাত-দিন কাজ করছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে টানেল সংযোগ সড়ক ও জনসভার আশপাশের সড়কগুলো সাজানো হচ্ছে। কেইপিজেড মাঠে নৌকার আদলে দেশের সবচেয়ে বড় মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর আগে ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারা ওয়ান সিটি, টু টাউনের দ্বার উন্মোচন করবেন। নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, দেশের প্রথম টানেল উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে আসছেন। ওইদিন টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে কেইপিজেড মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাড়ে ৯ লাখ বর্গফুটের এই মাঠে ১০ লাখ লোকের জনসমাগম ঘটাতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকেও নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দেবেন।

মফিজুর রহমান বলেন, টানেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে ওয়ান সিটি টু টাউনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শহরের খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অবহেলিত ছিল আনোয়ারা প্রান্ত। টানেল নির্মাণের মধ্যে কর্ণফুলী-আনোয়ারা আরেকটি শহরে রূপ নিয়েছে। আনোয়ারা থেকে চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করেছে টানেল। মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মিনিটে টানেল পাড়ি দেওয়া যাবে। টানেলকে ঘিরে আনোয়ারায় গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা। আসছে বিদেশি বিনিয়োগও। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম বলেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভার আয়োজন করা হলেও উত্তর এবং মহানগরী থেকে সর্বোচ্চ জনসমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এদিকে ওইদিন চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করার ফলে সংশোধিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যেই সব কর্মসূচি শেষ করা হবে। সকালে টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে লোগো উন্মোচন করেই প্রধানমন্ত্রী চলে যাবেন আনোয়ারা প্রান্তে। ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছে ভাষণ দেবেন।এর পরপরই ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ওইদিন বিকাল তিনটায় আনোয়ারায় জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যে তারা সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিকালের জনসভা সকালে এগিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে জনসভাস্থলে উপস্থিত হবেন। ১২টার মধ্যেই জনসভা শেষ করা হবে। তবে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলস সফর থেকে ২৭ অক্টোবর ফিরবেন ঢাকায়। ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের জনসভায় ভাষণ দেবেন। ৪ নভেম্বর খুলনায়, ১২ নভেম্বর কক্সবাজারে যাওয়ার কথা রয়েছে। মূলত এসব কারণেই হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত টানেল। ইতোমধ্যে একাধিকবার পরীক্ষামূলক গাড়ি চলাচল করা হয়েছে। এখন সাজসজ্জার কাজ হচ্ছে। নিরাপত্তা তথা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর এ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য টানেল উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ। কিছু ভবন নির্মাণের কাজ বাকি আছে। সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

উল্লেখ্য যে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে টানেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। চার লেনবিশিষ্ট দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৬ নভেম্বর টানেলের দক্ষিণ প্রান্তের একটি টিউবের পূর্তকাজের সমাপ্তি উদযাপন করা হয়েছে। এই উদযাপন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়লি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মূল টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফ্লাইওভার থাকবে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। পরে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৪২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এরমধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার ৯১৩ দশমিক ১৯ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
এইদিকে আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় ‘সরকার পতনের’ একদফা দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন তথা মহসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১