বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৪ October ২০২৩

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ‘প্রবারণা পূর্ণিমা‘র দিন রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ আগামী ২৮ অক্টোবর উদযাপন করা হবে। এদিন রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ।

আষাঢ়ী থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত পালনের শেষ দিন হচ্ছে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’। এবারে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ উদযাপনের দিন ঢাকায় মহাসামবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। যে সমাবেশ থেকে আন্দোলের পরবর্তী চূড়ান্ত কর্মসূচি আসার কথা রয়েছে।অন্যদিকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সনৎ বড়ুয়া। তিনি বলেন, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের নিবৃত্ত করতে রামুসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওপর হামলার মামলাগুলো দ্রুত বিচার কাজ শেষ করার জোর দাবি সহ সংবাদ সম্মেলন থেকে, প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে সরকারি ছুটিরও দাবি জানানো হয়। এছাড়া ফানুস উড়িয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি উদ্বোধন করার চর্চা বন্ধের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফানুস ওড়ানোর একটা ধর্মীয় কারণ ও রীতি আছে। সেখানে সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ফানুস ওড়ানো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।

এইসময় উপস্হিত ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি মিথুন রশ্মি বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৌশলী পরিতোষ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বড়ুয়া, সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক স্বরূপ বিকাশ বড়ুয়া বিতান, সচিব সনত কুমার বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরী, অর্থ সচিব তাপস বড়ুয়া, কানন চৌধুরী, ভিপি রেবা বড়ুয়া, প্রকৌশলী পলাশ বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি মিথুন রশ্মি বড়ুয়া বলেন, “বৌদ্ধদের ধর্মীয় উৎসব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রবারণার পূর্ণিমার দিনে কর্মসূচি পালন না করে অন্য দিন কর্মসূচি দিলে ভালো হয়। প্রবারণার দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বৌদ্ধরা একটু ‘আতঙ্কে আছে’ জানিয়ে মিথুন রশ্মি ব্ড়ুয়া বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বাস করেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে বৌদ্ধরা সেদিন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে আসা-যাওয়া করবেন তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহবান জানাই।

পরিষদের আহ্বায়ক স্বরূপ বিকাশ বড়ুয়া বিতান বলেন, বৌদ্ধদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুধু বৌদ্ধদের নয়, এটা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং সম্প্রীতির এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়।সেদিন দূর দুরান্ত থেকে মানুষ বৌদ্ধ বিহার গুলোতে আসবে। সকাল থেকেই ধর্মীয় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা দিনব্যাপী চলবে। যে সকল রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দিয়েছে তারা যদি ধর্মীয় উৎসব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একদিন পিছিয়ে কর্মসূচি পালন করে তাহলে আমরা প্রতি বছরের ন্যায় নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবে বৌদ্ধরা।

উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের উপর শিশু সহ সেখানকার নিরীহ জনগণের উপর ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম ও অমানবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১