আপডেট : ২৪ October ২০২৩
সাইফুল ইসলাম সিংগাইর ( মানিকগঞ্জ) থেকে: মানিকগঞ্জ সিংগাইরের চান্দহর ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাঁচ বছরে মাত্র তিন টি পিলারের কাজ করেই থমকে যায় সেতুর নির্মাণের কাজ । নির্ধারিত সময়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চর এলাকার অন্তত ১০ গ্রামের জনসাধারন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানানগেছে , উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চান্দহর নদীর উপর সরকারি অর্থায়নে পল্লী সড়কের গুরুত্ব সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়, ৩২৫: : মিটার সেতু নির্মাণের কজ হাতে নেয় সরকার । সে মোতাবেক সেতু নির্মাণের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করেন কর্পতৃক্ষ । যার প্রাক্কলিন ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ৩৩ হাজার৫২০ টাকা। ঐ টেন্ডারে কাজ পান ঢাকার মের্সাস নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান । ২০ ১৮ সালের জুন মাসের ৩০ শে জানুয়ারি তারিখে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৯ শে জানুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও বালু, মাটির দাম বৃদ্ধি ও নদীর মুখ বন্ধ ও প্লাটন পরিবহনে জটিলতার কারণে থমকে যায় সেতুর কাজ। দফায় দফায় সেতু নির্মাণের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩০ শে জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয় কিন্তু এ ই সময়ের মধ্যেও কাজের কোন অগ্রগতি না দেখায় ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস জান্নাত কন্স্টাকশনকে কাজ দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চান্দহর ঘাটে সেতু নির্মাণ হলে চরচামটা আনন্দ বাজার হয়ে কেরানীগঞ্জ ঢাকা যাতয়াতের একমাত্র সহজ যোগাযুগ মাধ্যম। এতে নদীর দু,তীরের মানুষের রাজধানী ঢাকার সাথে যোগা যোগ অতি সহজ হতো । সেতু হতে আনন্দ বাজার পর্যন্ত ও পথচারীদের চলাচলের জন্য মাটির রাস্তা থাকলেও সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন ও পথচারীরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে।। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চান্দহর নদীর উপর ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় ৫ - ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাদের সাভার ঢাকা শহরে যেতে হচ্ছে খেয়া পারাপার হয়ে ১০ কিলোমিটার ঘুরে অন্য সড়ক ধরে। এছাড়া স্কুল, কলেজ, গামী ছাত্র ছাত্রী, অফিস গামী লোকজন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হচ্ছে । এছাড়া খেয়াপারের বিড়ম্বনায় রোগী, বয়স্ক , গর্ভবতী নারীদের চরম মাশুল দিতে হয়। অনেক সময় রাস্তা কিংবা ঘাটেই গর্ভপাত কিংবা মৃত্যু হয়ে থাকে। রাস্তা ঘাটের অবস্থা ভাল না থাকায় উৎপাদিত পণ্য দ্রব্য যথা সময়ে বাজার জাত না করতে পারায় ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকেরা । চরচামটা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ উদ্দিন বলেন, খেয়াঘাট হতে আনন্দ বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাচা রাস্তা একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাটি কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে ভোগান্তি হচ্ছে। ব্রিজের কারণে যানবাহন না চলায় তারা চাইলেও সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। অন্তত আমাদের সবার কথা বিবেচনা করা ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।। চান্দহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শওকত হোসেন বাদল বলেন, ব্রীজটি ৫ বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। চর বাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা খেয়াপারাপার । ব্রিজ টির কাজ বন্ধ থাকায় ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতকারী বিভিন্ন সেবা প্রার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। তাছাড়া বিকল্প সড়ক ঘুরে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্রিজটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস জান্নাত স্বত্বাধিকারীর নতুন কাজের জন্য মালা মাল আনা হয়েছে। এর দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এখনও সাইট ইজ্ঞিঃ আসেনি। তিনিই ভাল বলতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বর্ধিতকরেও কাজ শেষ না করতে পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এজন্য নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস জান্নাত কনস্ট্রাকশন কে কাজ দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথা সময়ে কাজটি সম্পূর্ণ করবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১