আপডেট : ১১ July ২০২৩
আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
সরকারী নীতিমালা লংঘন করে কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে বোর মৌসুমে চাল সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ৫ হাজার ১৯০ মেঃটন চাল বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাল কল মালিকরা ফুসে উঠেছে। মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকার দলীয় এক নেতা, ভাইসহ অনুসারীদের ৯টি চালকলের মালিকের নামে অবৈধভাবে ৫ হাজার ১৯০ মেঃটন চাল বরাদ্দ দেয়ায় তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। অভিযোগের পর অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে জানান বঞ্চিত চালকল মালিকরা।
কুষ্টিয়ার চালকল মালিকরা বলেন, এবার নিম্নমানের চাল কেনা, মিল থেকে চাল গুদামে আনলোড হয়ে সরাসরি খুলনার গুদামে পাঠানোসহ অতিরিক্ত বরাদ্দে নয়ছয় নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বিধি না মেনে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের ৫ হাজার ১৯০ মেঃটন আওয়ামীলীগের এক নেতা ও তার আত্মীয় নিয়ন্ত্রিত ৯টি চালকলের নামে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছে মিল মালিক সমিতি।
কুষ্টিয়া জেলায় এবছর বোর মৌসুমে খাদ্য বিভাগ মিল মালিকদের কাছ থেকে ৩৮ হাজার টন চাল কেনার চুক্তি করে ১৮৫ জন মিল মিল মালিকের সাথে। ৭ জুন থেকে চাল কেনা শুর হয় । প্রতি কেজী চাল ৪৪ টাকা দরে আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই চাল কেনা চলবে।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায় বরাদ্দ আসা ৩৮ হাজার মেঃটন চাল ১৮৫জন মিল মালিকের মধ্যে বিভাজন করা হয়। এরপর যে সব মিল মালিকেরা প্রথম পর্যায় চাল সরবরাহ শেষ করেন তারা ২য় পর্যায় অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের জন্য আবেদন করে। আবেদন গুলো আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা খুলনার অফিসে পাঠানো হয়। ২৮জন মিল মালিক আবেদন করলেও সেখানে খুলনা থেকে ৯জন মিল মালিকের নামে ৫ হাজার ১৯০ মেঃটন চাল বরাদ্দ দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়। মিল মালিকদের অভিযোগ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ ও মিল মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক প্রভাব খাটিয়ে খাদ্য কর্মকর্তাদের মোটা অংকের সুবিধা দিয়ে তাঁর এবং তার ভাইদের নামে ৯টি মিলের অনুকুলে বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছে। যা খাদ্য সংগ্রহ নীতিমালার পরিপন্থি। ৯টি মিলের মধ্যে ওমর ফারুকের ২টি মিলের অনুকুলে ১ হাজার ১৬ মেঃটন, অন্য ৩ ভাই হযরত আলী, জামসের আলী ও মজিবর রহমানের মিলের নামে ২ হাজার মেঃটন এর বেশী বরাদ্দ নেয়। বাকি চাল পেয়েছেন তাদের নিয়ন্ত্রিত চালকল মালিকরা। চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সব মিল মালিক অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়ার কথা। এখানে গোপনে ৯টি মিলকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককেই সমাধান করতে হবে।
যে নয়টি চালকল বরাদ্দ পেয়েছে তারা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ ওমর ফারুকের মালিকানাধীন ফ্রেশ এ্যাগ্রো লিমিটেড, ওয়াদি অটো রাইচ মিল, ওমর ফারুকের ভাই জামসের আলীর প্রতিষ্ঠান শামীম এ্যাগ্রো ফুড, আরেক ভাই মজিবর রহমানের মালিকানাধীন প্রভাতি এ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস, তাদের ব্যবসায়ীক সহযোগী সূবর্ণা অটো ফুড—১, মা ভান্ডারী অটো রাইচ মিল, গুরুরদান এ্যাগ্রো ফুড ও তারিয়া অটো রাইচ মিল। বাকি চাল সরবরাহের অনুমোতি পেয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রিত চাল কল মালিকরা।
বাংলাদেশ অটো মেজর এ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, এবারে সরকারী গুদামে চাল সরবরাহ নিয়ে মিলমালিকেরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অতীতেও এমন হয়েছিল। তখন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়েছিল। এবার অতিরিক্ত বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র নয় জন। তার মধ্যে চার ভাইয়ের পাঁচটি মিল রয়েছে। বাকি চারটি তাদের অনুসারী।
চালকল মলিকেরা অভিযোগ করেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন ২৮জন মিল মারিকের তালিকা খুলনায় পাঠায়। সেখান থেকে মাত্র ৯ জনের নামে বরাদ্দ দিয়ে আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা (আরসি ফুড) আব্দুস সালাম চিঠি ইস্যু করেছে। এই নিয়ে মিল মালিকরা আপত্তি জানায়।
মিলারদের কাছ থেকে জানা গেছে, বোর মৌসুমে মোট চাল সংগ্রহের প্রায় ৯০ ভাগ কেনা হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে। খাজানগর মোকাম থেকে চাল সংগ্রহ হয় সব থেকে বেশি। যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে অতিরিক্ত বরাদ্দে চাল বিভাজন করা হয়েছে তা আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইয়ের নিয়ন্ত্রিত ৯টি প্রতিষ্ঠান পেয়েছ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১