বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ May ২০২৩

কুষ্টিয়া -৩ সদর আসন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগ মাঠে বিএনপি আসন ফিরে পেতে মরিয়া


আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া -৩ নির্বাচনী এলাকা-৭৭ । আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুষ্টিয়া -৩ সদর আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ন। তাই এই আসনটি ধরে রাখতে সব রাজনৈতিক দলই মরিয়া। বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত এই আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে চলে যাওয়ায় বিএনপি পুনরায় আসনটি ফিরে পেতে মাঠে নড়েচড়ে বসেছে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ পর পর কয়েক বার সংসদ সদস্য হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। মাহবুব উল আলম হানিফ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবার পর অতীতের সরকারগুলো যে উন্নয়ন করতে পারেনি তিনি কুষ্টিয়ায় ব্যাপক দৃশ্যমান উন্নয়ন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কুষ্টিয়ার বাইপাস সড়ক, মেডিকেল কলেজ, হরিপর-কুষ্টিয়া শহর সংযোগ সেতু, ফোর লেন রাস্তা, সুইমিং পুল, আন্তর্জাতিক মানের শেখ রাশেল ষ্টেডিয়াম নির্মানসহ রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করে কুষ্টিয়াকে ব্যাপক পরিচিত ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। যা বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত সেই কুষ্টিয়াকে বিএনপির শাসনামলে কিছুই করতে পারেনি। এ দিক থেকে মাহবুব উল আলম হানিফ যদি কুষ্টিয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পুনরায় প্রার্থী হন তবে তার জয় নিশ্চিত বলা যায়। আওয়ামীলীগের ভিতর বড় ধরনের কোন গ্রæপিং না থাকায় দলটি রয়েছে ্ঐক্যবদ্ধ।
এদিকে বিএনপি তার এই পুরাতন আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে বড় বাধা দলের মধ্যে গ্রæপিং। দলটি এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এক দিকে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন অপরদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিএনপির একটি অংশ বাদে জাকির হোসেন সরকারে সাথে রয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ অঙ্গ সংগঠন। সোহরাব উদ্দিনের সাথে রয়েছেন শুধুমাত্র মুল দলের একটি ক্ষুদ্র অংশ। জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া সদরের এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে দিন রাত মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ব্যাপক গনসংযোগ, সভা সমাবেশ করে সাধারন মানুষের আস্থা অর্জন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সোহরাব উদ্দিনও বসে নেই, তিনিও সংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণ ভোটাররা বর্তমান সরকারের নির্বাচনের উপর আস্থা না থাকায় নির্বাচনকে ঘিরে হতাশ। কারন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সাধারণ ভোটাররা ততই চায়ের দোকানে, হাটে বাজারে সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোটাররা বলছেন আওয়ামীলীগের সরকার অবাধ সুষ্ট নিরপেক্ষ ভোট কোন দিনও দিবে না। তারা এক তরফা ভোট করে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে আসবে। অবাধ সুষ্ঠ নিরোপেক্ষ ভোট হলে ওই ভোটে সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে আওয়ামীলীগ শাসনামলে যতই উন্নয়ন করুক না কেন কুষ্টিয়ার মানুষ আওয়ামীলীগকে কখনোই ভোট দিবে না। এই আসনটি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।
বিএনপি জোট আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কিনা তা নিয়ে নেতা কর্মীরা না ভাবলেও অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবী আদায়ের লক্ষে তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ ও পুলিশের শতবাধার মুখেও বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক গ্রেফতার পুলিশের লাঠিচার্জ কর্মসুচীতে ব্যাপকহারে বাধা সৃষ্টি করায় বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে এই আসনটিতে যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে তবে আওয়ামীলীগ এর সাথে বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এদিকে সোহরাব উদ্দিন প্রার্থী হলে তিনি এই আসনটি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন। কেন্দ্র থেকে কাকে মনোনয়ন দিবেন এটাই এখন দেখার বিষয়। তবে দলের গ্রæপিং ভাংতে না পারলে দলের জন্য ক্ষতি হবারও সম্ভাবনা রয়েছে।
অপর দিকে, জাতীয় পাটি, জাসদের অস্তিত্ব কুষ্টিয়াতে নেই বললেই চলে। তার পরেও জাতীয় পাটি থেকে জাতীয় পাটির জেলা সভাপতি নাফিজ আহম্মেদ টিটু প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এরা সবাই আওয়ামীগের একটি অংশ বলে তাদের জনপ্রিয়তা নেই বলে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর আসনে মোটা ভোটার সংখ্যা রয়েছে.৪ লাখ ১৪ হাজার ২১৮। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ৫৮৫ মহিলা ২লাখ ৯ হাজার ৬৩০ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ৩ ভোটার। ১২টি ইউনিয়ন একটি পৌর সভা নিয়ে এই কুষ্টিয়া সদর নির্বাচনী এলাকা।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১