আপডেট : ১২ December ২০২২
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর আইন ভেঙ্গে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের হিড়িক পড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে একের পর এক পুকুর খনন করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা দেদারছে পুকুর খননের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। পুকুর খননের মাটি তারা সরাসরি ইটের ভাটায় সরবরাহ করছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,নিয়ামতপুর সদর , বাহাদুরপুর ও শ্রীমন্তপুর প্রভৃতি ইউনিয়নে ভেকু মেশিন দিয়ে ধান চাষের জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। কেউ কেউ পুরনো ছোট পুকুর পারের চারদিকের ভিটামাটি ও গাছপালা কেটে পুকুর বড় করছেন। বিষয়টি এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব পুকুর খনন বেআইনি জেনেও সব পক্ষকে মানিয়ে নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পুকুরগুলো খনন করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন চালিয়ে খনন কাজ করছেন। কোন কোন সময় প্রশাসনের লোকেরা এসব বন্ধ করে দেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিনা বাধায় পুকুর খনন কাজ সম্পন্ন হয়। গতবছর অনেক কয়েকটি পুকুর খনন করা হয়। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়নের গুঁজি শহর গ্রামে হিন্দুপাড়া ও কামালপুর গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে অত্যন্ত গভীর করে কেটে অসংখ্য ট্রাক্টরযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসী অভিযোগ করেন যে, ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহন করায় গ্রামের যাতায়াত পথ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির মালিক আবুল হোসেন প্রামাণিক জানান, তার আপন ভাইয়ের জমির গর্ত ভরাট করবে তাই ভেকু মেশিন ব্যবহার করে এই পুকুরটি খনন করা হচ্ছে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন অনুমতি নেননি। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার বা প্রশাসনের কেউ এ পুকুর খননে তাদেরকে নিষেধ করেননি।
এই গ্রামের পাকা সড়কের পাশে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে আর একটি বিশাল পুকুর বানানো হচ্ছে। এটির মালিক এই গ্রামের শ্রী অরুন। তিনি জানালেন, তার বিশাল ফসলের মাঠে ধান ভালো হয় না। তাই ধান ও মাছ উভয়ই চাষ করার জন্য চারদিকে পার বেঁধে নিচ্ছেন। কিন্তু এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন অনুমতি নেননি।
এব্যাপারে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৮৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এ্যাক্ট আইনের ৪ নাম্বার ধারায় কৃষি জমি আইনের সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে। কোনভাবেই তার ব্যবহার ভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কৃষি জমি এক ফসলি বা একাধিক ফসলি যাই হোক না কেন তা কৃষি জমি হিসাবেই ব্যবহার করতে হবে। উক্ত আইনে স্পষ্টভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খননের শাস্তির বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১