বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৬ July ২০২২

গরু বিক্রির খবরে মন খারাপ সুমাইয়ার


নারী উদ্যোক্তা নিলুফা বেগম। নানা চড়াই উতরায় পেরিয়ে পারিবারিকভাবে তিনি একটি খামার গড়ে তুলেছেন । তার খামারে বর্তমান ২৫ টি গরু ও প্রায় শতাধিক ছাগল রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বেশ কয়েকটি গরু ও ছাগল তিনি বিক্রি করবেন। প্রতিটি পশুকেই তিনি সন্তানের ন্যায় লালন পালন করছেন। এরই মধ্যে একটি ষাঁড় তার মেয়ে সুমাইয়া ও ছেলে ফাহিমের কাছে খুবই প্রিয় হয়ে উঠে। নিলুফার এক ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি বড়। গরুটি কিনে আনার পর থেকে সকাল বিকাল এই গরুটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা দুজন। আদর করে গরুটির (ষাঁড়) নাম রেখেছেন লক্ষী। গত প্রায় আড়াই বছর ধরে এটিকে তারা লালন পালন করছেন। ওই প্রিয় গরুটির শরীর কুচকুচে কালো আর হালকা সাদা। সুঠাম শরীর আর আকার ও রয়েছে বেশ বড় ।

এদিকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই গরুটি বিক্রি করতে চান মালিক নিলুফা আক্তার। গরু বিক্রির খবরে প্রতিদিন তার বাড়িতে অনেক লোকজন আসছেন দেখতে। চলছে গরু বিক্রির দরদামও।

এদিকে তাদের প্রিয় গরু বিক্রির বিষয়টি সুমাইয়া বুঝতে পেরে তার মন ভীষণ খারাপ। সবসময় ফ্যাল ফ্যাল করে শুধু গরুটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। আগের মতো প্রাণ খুলে কারো সাথে তারা কথা ও বলছেন না। শুধু একটি কথায় তাদের মাকে বলছেন লক্ষীকে বিক্রি না করতে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এই গরুটিকে বাজারে তোলা হলে ১লাখ ৫৫ হাজার টাকা সর্বশেষ ক্রেতা দাম বলেন।

গত বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১ লাখ টাকায় লক্ষীকে বিক্রি করা হয়। কিন্তু লক্ষীর প্রতি তার দুই সন্তানের অসম্ভব মায়া আর ভালোবাসা তৈরি হওয়ায় হওয়ায় বাধ্য হয়েছে ওই গরুটি ফের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তারা দুজন তাদের প্রিয় গরুকে বাড়িতে দেখতে পেয়ে আনন্দে কেঁদেছেন।

লক্ষীর মালিকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের দুর্গাপুরে। ওই এলাকায় শিরু মিয়ার মেয়ে নিলুফা বেগম। গত প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি গরু, ছাগল, কবুতর,হাঁস পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার খামারে ২৬টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি ১০টি গরু বিক্রি করবেন। বিক্রি যোগ্য প্রত্যেকটি গরু রয়েছে ১লাখ থেকে পৌনে ২লাখ টাকার রয়েছে। তাছাড়া শতাধিক ছাগলের মধ্যে ২৫টি ছাগল ও বিক্রি করার কথা রয়েছে। দৃঢ মনোবল, ইচ্ছা শক্তি আর নিজের চেষ্টায় তিনি তিলে তিলে এ খামারটি গড়ে তুলে এলাকায় বাজিমাত করেছেন। সন্তানের ন্যায় তিনি ওইসব পশুগুলোকে পালন করছেন। তাছাড়া পরিবারের সদস্যরা ও তাকে ভালো সহযোগিতা করছেন। তবে ওইসব গরু ও ছাগরের মধ্য থেকে লক্ষীর প্রতি বাড়তি নজর রাখছে তার দুই সন্তান সুমাইয়া ও ফাহিম । প্রতিদিন তারা মায়ে সাথে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করে আসছে। গরুটির কাছে তারা সব সময় বসে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর কোরবানির হাটে তাদের আদরের এই লক্ষীটিকে ১লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর থেকে তার দুই সন্তানের মন খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। খাওয়া নাওয়া সব কিছু যেন ছেড়ে দেন। তাদের এই অবস্থা দেখে মা দ্রুত ওই গরুটিকে পুনরায় তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এজন্য ওই ক্রেতাকে গরুর মূলদাম ১লাখ টাকাসহ আরো ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হয়েছে। এখন এই গরুটির দাম ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। ইতিমধ্যে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দরদাম করেছেন ক্রেতারা।

সুমাইয়া বলেন, এই গরুটিকে গত ২ বছর ধরে নিজ হাতে লালন পালন করছেন। বেশীভাগ সময় গরুটি নিয়েই তাদের কেটে যায়। বিক্রি হয়ে যাবে এ কথা চিন্তা করলে খুবই খারাপ লাগে।

নিলুফা বেগম বলেন, তার ছেলে মেয়ে গরুটিতে আদর করে লক্ষী বলে ডাকে। তাদের ডাকে কান নেড়ে সাড়া দেয় লক্ষী। গরু ও ছাগলগুলো গরম সহ্য করতে না পারায় গোয়ালঘরে লাগানো হয়েছে বৈদ্যুতিক ফ্যান। লক্ষীর পাশপাশি অন্যান্য গরু ছাগলগুলোকে ও সকাল বিকাল রাতে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যত্ন। কোন প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস,খৈল ভুষি,চালের কুড়া,ভুট্রা,ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে লালন পালন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন গত কোরবানির ঈদে লক্ষীকে ১লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু সন্তানের মায়া আর কান্নায় ওই বিক্রি হওয়া গরুটি পুনরায় ক্রেতার বাড়ি থেকে আনতে হয়েছে। এ জন্য ক্রেতাকে আরো ৫ হাজার টাকা বেশী দিতে হয়। এবারও গত বছরের মতো শুরু করেছে তার দুই সন্তান। এই গরু বিক্রি নিয়ে আমি খুবই চিন্তায় আছি।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাড়ি থেকে এ পযর্ন্ত ৩ টি গরু বিক্রি হয়েছে। বিক্রি হয়েছে একাধিক ছাগলও। নিলুফা বলেন কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নেই। একনিষ্ট ভাবে কাজ করলে অবশ্যই সফলতা আছে। কোন মানুষ অবসর বসে না থেকে গরু ছাগল লালন পালন করলে অনেক লাভবান হওয়া যায় তার জলন্ত দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: জুয়েল মজুমদার বলেন, এ উপজেলায় অনেক লোকজন খামার করে উন্নত জাতের গরু লালন পালন করছেন। তারমধ্যে খামারি নিলুফা বেগম নিজ চেষ্টায় পশু পালন করে এলাকায় একজন সফল নারী হিসাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি আরো বলেন সকল খামারিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি খামারিদের সচেতন ও তদারকি করা হচ্ছে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য কৃষক ও খামারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১