আপডেট : ২৬ May ২০২২
লিচুর রাজধানী খ্যাত ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে লিচু। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বেচাকেনাও জমেছে দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর হাট জয়নগরে। তবে দাম নিয়ে হতাশা জেলার লিচু চাষিরা। দাম কম থাকায় আশানুরূপ লাভবান হবে না চাষিরা বলে জানান তারা। বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে কয়েকদিনের মধ্যে তা পর্যাপ্ত হবে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সরেজমিনে ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলো ঘুরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বাগান চোখে পড়েছে উপজেলার সাহাপুর, সিলিমপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, জয়নগর, মানিকনগর, আওতাপাড়া ও বাঁশেবাদা এলাকায়। টুকটুকে লাল লিচুতে রঙিন হয়ে আছে চারপাশ। লিচু বেচাকেনার জন্য অস্থায়ী হাট বসেছে উপজেলার জয়নগর, শিমুলতলা, আওতাপাড়া ও সিলিমপুর এলাকায়। মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা এসে লিচু কিনছেন। ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমান পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার দেশি লিচু মানভেদে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্পস্বল্প বোম্বাই লিচু মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। আওতাপাড়া গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, ঈশ্বরদীর লিচু বেশ সুস্বাদু। ফলে দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার মোকামে লিচু পাঠানো শুরু হয়েছে। চরমিরকামারী গ্রামের লিচু চাষি আহমাদুল্লাহ মিলন বলেন, ‘এবার দেশি লিচু আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে। তীব্র খরার কারণে এমন হয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা লিচুর দাম কম বলছেন। এত কম দামে লিচু বিক্রি করলে আমাদের লাভ হবে না।’ প্রতি বছর জয়নগর হাটে লিচু কিনতে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখানকার লিচু খুব সুস্বাদু। এজন্য ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি। তবে এখনো বোম্বাই জাতের লিচু হাটে কম। তুলনামূলক দামও এ হাটে কম।’ জয়নগর লিচু হাটের ইজারাদার কামাল হোসেন জানান, গত ৫ মে থেকে হাটে লিচু উঠতে শুরু করেছে। এখনো এক মাসের বেশি হাট চলবে। বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুও হাটে তুলছেন বিক্রেতারা। লিচুচাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবারে লিচুর আবাদ বেড়েছে। ঈশ্বরদীতে ৩,৪০০ হেক্টর জমিতে এবছর লিচুর আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ হেক্টর জমি লিচু চাষের আওতায় এসেছে। প্রতিবছর এখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিকটন লিচু উৎপাদন হয়। টাকার হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশী লিচু ঈশ্বরদীতে বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ঈশ্বরদীতে বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুর আবাদ সবচেয়ে বেশি । বড় কোনো বিপর্যয় না হলে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলায় এবার ৫০০ কোটি টাকার লিচু–বাণিজ্য হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১