আপডেট : ০৩ May ২০২২
সকাল থেকেই ঈদের নামাজ আদায় করতে চলে প্রস্তুতি। নতুন পোশাক আর সুগন্ধি ব্যবহার করে অন্যান্য লোকদের ন্যায় নামাজ আদায় করতে মাঠে আসেন রনি (২৮)। সঙ্গে নিয়ে আসেন শিশুসন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। এক কাতারে দাঁড়িয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। নামাজ আদায় শেষে সবাই আনন্দে বাড়ি গেলে ও যাওয়া হয়নি শুধু রনির। সবাইকে কাঁদিয়ে লাশ হয়ে সে অন্যের কাধে চড়ে তাকে বাড়িতে আসতে হয়েছে। নানা নানীর কবর জিয়ারত করতে এসে বজ্রপাতে সে মারা যায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর শহরের খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ:) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রনি পৌর শহরের দুর্গাপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত রনির স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে তার নানা নানী ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকে সময় সুযোগ পেলে তিনি তাদের কবর জিয়ারত করে আসছেন। তাছাড়া দুই ঈদে নামাজের পর তার প্রথম কাজ ছিল তাদের কবর জিয়ারত করা। জিয়ারত শেষে তিনি অন্যান্য কাজ করতেন। এদিকে ঈদের নামাজ আদায় করতে তার শিশুসন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে মাঠে আসেন। নামাজের শুরুতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় নামাজ পড়ে তার সন্তানকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সে তার বাবা ও নানা নানীর কবর জিয়ারত করতে দ্রুত খড়মপুর কবরস্থানে চলে আসেন। তাদের কবর জিয়ারত অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেশী জামাল মিয়া বলেন, নামাজ আদায় করতে এসে এদিক সেদিক ও আকাশের দিকে বার বার চেয়ে ছিল। আকাশ খারাপ থাকায় তার ভিতরে যেন অস্থিরতা দেখা যায়। তাছাড়া নামাজ পড়তে আসার সময় বাড়িতে বলে এসে ছিল তাড়তাড়ি রান্না করতে। কারন ঈদের নামাজ আদায় শেষে কবর জিয়ারত করে এসে সবাই মিলে মিশে এক সাথে খাওয়া দাওয়া করবে। কিন্তু তার আর খাওয়া হলো না। মো: গিয়াস উদ্দিন মাষ্টর বলেন, রনি খুবই ধার্মিক একজন লোক ছিল। নানা নানীর কবর জিয়ারত করতে এসে এ ভাবে তার মৃত্যু হবে তা কল্পনাও করতে পারিনাই। তা খুবই দু:খ জনক। আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে যুবক নিহত হওয়ার কথা শুনেছি। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শ্যামল রায় তার মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন বজ্রপাতে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১