বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৪ March ২০২২

চিন্তিত আওয়ামী লীগ-বিএনপি!


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক প্রস্তুতি। আগামী বছরের শেষদিকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে নব গঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষের নানা বক্তব্য পাওয়া গেছে। কিন্তু আগামী নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে দুই দুশ্চিন্তায় আছে দেশের সবচেয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এরমধ্যে বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলছে নির্বাচনের আগে জোটের ঐক্য অটুট রাখার বিষয়টি। আর আওয়ামী লীগের জোট নিয়ে চিন্তা না থাকলেও দুশ্চিন্তার কারণ তৃণমূলের মতবিরোধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বাদশ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সংসারে আরেকটি জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতো পুরোনো রূপেই এ জোটটি হবে। এতে পুরোনো দল, পুরোনো নেতারা আসবেন নতুন খোলসে। অন্যদিকে তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের পরিকল্পনা হচ্ছে নতুন বছরের শুরুতেই তৃণমূলসহ দল গোছানো ও আন্দোলন মোকাবিলা করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া। এজন্য তৃণমূলে জেলা-উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে মাঠে কাজ করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। 

আর বিএনপির লক্ষ্য, আগামী বছরের শুরুতেই রাজপথের সব দাবিকে এক দফার আন্দোলনে পরিণত করা। চলমান ইসির অধীনে বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা থাকলেও ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি রাখবে। এ জন্য দল ও জোটকে শক্তিশালী করতে জামায়াত নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষের মতামতই ভাবিয়ে তুলেছে শীর্ষ নেতাদের। তবে এবারের জোটে জামায়াত না থাকার পক্ষেই বেশিরভাগ নেতা। জোটে দু-একটি অন্য ইসলামিক দল যুক্ত হবে।

এর আগেও বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু দিনশেষে রাজনীতির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ড. কামাল হোসেন ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। সেই নির্বাচনে জামায়াত নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও ভোটের আগে ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট সবমিলিয়ে মাত্র ১৭টি আসন দেওয়া হয়, আর জামায়াতকে একাই দেওয়া হয় ১৯টি আসন।

এছাড়া জামায়াত পাঁচটি আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে। দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য ছিল, জামায়াতকে মূলত ২৪টি আসনই দেওয়া হয়। ১৯টি ঘোষিত এবং পাঁচটি অঘোষিত। যদিও জামায়াতের আবদার ছিল ১৭০টি আসন। এবারো দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির ভোটের প্রস্তুতি ঘরে বাইরে চলছে। জামায়াতকে ছাড়া নিয়ে সমপ্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিনটি বৈঠকে আলোচনা ও চাপ প্রয়োগ হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জামায়াত পুরোনো ছকেই থাকবে। কোনো জোটে সম্পৃক্ত করা হবে না।

জামায়াতের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, তারা জোট নিয়ে ভাবছে না। ভোটের প্রস্তুতি রাখছে। জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে রাখছে। প্রার্থীর বিষয়েও তাদের বিশেষ কমিটি রয়েছে।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, শীর্ষ নেতাদের হারানোর পর দলে কিছুটা শূন্যতা রয়েছে। চৌকস নেতার বড় সংকট। আধ্যাত্মিক নেতাও কম। কিন্তু তাদের গতানুগতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় আদর্শিক মাঠ ঠিক রেখেছেন। গতানুগতিক কাজ রাজনীতি দুটো প্ল্যাটফরমই ঠিক রেখেছেন। 

জামায়াতের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক শীর্ষ নেতার ভাষ্য, বিএনপির সাথেই জামায়াতের জোট থাকবে। জোট ছেড়ে দিলেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে যাবে না। তারা আপাতত বিএনপির সঙ্গেই আছে।

মূলত দুই কৌশল নিয়ে জামায়াত দীর্ঘমেয়াদিভাবে হাঁটছে। প্রথমত, ৪৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে, নীরব থেকে দীর্ঘ এই সময়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। দ্বিতীয়ত, টিকে থাকার কৌশলের অংশ হিসেবে সরকারের সঙ্গেও দলটির সমঝোতা হয়েছে বলে একটি অংশ ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেখানে ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব নীতি’ গ্রহণ করা হয়েছে। অতীতে প্রকাশ্যে সরকার এবং ভারতবিরোধী হয়ে আক্রোশ প্রকাশ করলেও এখন থেকে সেটি আর করা হবে না। সামাজিক কাজ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দল এগিয়ে নিতে তৎপর থাকবে সবসময়। রাজনৈতিক যেকোনো ইস্যু ও পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দেবে।

বিএনপি সূত্রের ভাষ্য, জামায়াত নিয়েই মজবুত বিএনপির সংসার। আন্তর্জাতিক সহানুভূতি পেতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বছরে কৌশলগতভাবে জামায়াতকে দৃশ্যত কর্মসূচি থেকে দূরত্বে রেখেছেন তারেক রহমান। পাশের দেশের সমর্থন পেতে জামায়াতকে ছাড়ার জন্য দলের কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা তোলেন।

তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জামায়াতকে সঙ্গে রাখার ব্যাপারে দৃঢ় থাকায় জামায়াতকে ছাড়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। জামায়াত নিয়ে বিএনপি প্রভাবশালী কিছু দেশের সহযোগিতা পাচ্ছে না, ধর্মীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসছে বিএনপির ওপর। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে মাত্র।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, বিএনপি ধারণা করছে অতীতের মতো আগামী দ্বাদশ নির্বাচনেও জামায়াত প্রায় দেড়শ আসন চেয়ে বসতে পারে। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও জামায়াত কমপক্ষে ১৭০টি আসন দাবি করে। ২০ দল ঐক্যফ্রন্টের চাইতেও জামায়াতকে বেশি আসন দিতে হয়েছে।

তাই এবারো জামায়াত দ্বাদশ নির্বাচনে বৃহৎ সংখ্যক আসন চাইতে পারে এটিই বিএনপিকে এখন থেকে ভাবাচ্ছে। তবে বাইরে বাইরে দূরত্ব চললেও ভেতরে ভেতরে বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশ এবং লন্ডনকেন্দ্রিক ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দুই সদস্য জানান, এখন পর্যন্ত জামায়াত ছাড়ার কোনো বিষয় তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বিএনপি এখন পর্যন্ত জামায়াতকে কিছু বলেনি বলে দাবি করেন তারা।

তবে জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কৌশলগতভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা বিএনপি থেকে দূরে রয়েছেন। চলছেন একলা চলো নীতিতে। জামায়াত নিজেদের দল গোছানোসহ সাংগঠনিক পরিধি বাড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে জামায়াত নিয়ে বিএনপির বড় একটি অংশে ক্ষোভ চলছে। তারা বলছেন, জামায়াত নিয়ে এখনই বিএনপিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জামায়াতের কারণে বিশেষ কয়েকটি দেশের কাছে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ। কূটনৈতিক মিশনে জামায়াতের কারণে বিএনপির ‘গুড লিস্টে’ থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত কী তা এখনই ঠিক করতে হবে। জামায়াতের সাথে মনোমালিন্য ও কূটনৈতিক মিশন ঠিক করতে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে অনেক সময় পার করতে হয়। কখনো আন্দোলন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে পারে না। আবার কখনো আসন ভাগাভাগি নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়।

প্রতিবার দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ১৭০ থেকে ১৮০টি আসন দাবি করে বসে, যা পূরণ করা বিএনপির পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তাদের খুশি করা বিএনপির পক্ষে সম্ভব হয় না। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির সংসারে সবসময় অশান্তি লেগেই আছে। তাই প্রয়োজনে জামায়াতকে এখনই ত্যাগ করতে দলের বিশেষ একটি অংশ তারেক রহমানের কাছে দাবি জানায়।

জোট ছাড়ার ব্যাপারে বিএনপি এখন পর্যন্ত জামায়াতকে কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আসলে বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব খবর দেখছি এগুলোর মৌলিকতা নেই। আমাদের কেউ এখনো স্পষ্ট কিছু বলেনি। জামায়াতের আরেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আবদুল হালিম বলেন, আসলে এসব বিষয়ে আমাদের এখনো কিছু জানা নেই। আমাদের কেউ কিছু  বলেনি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রস্তুতি নেয়, সেভাবে জামায়াতও রাখে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জামায়াতের এই নীতিনির্ধারক বলেন, সারা দেশে যেসব আসনে জামায়াত আগে নির্বাচন করেছে সেগুলোয় তাদের শক্ত প্রস্তুতি রয়েছে। কেন্দ্র থেকে তাদের নার্সিং করা হচ্ছে। তবে ভিন্ন ভাষ্য জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াত আপাতত এই সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন-নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরকারের বাইরের সব রাজনৈতিক দল একমত। এ ইস্যুতে বিএনপি বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চায়। তাই সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি। জামায়াত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকা সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে দলে আলোচনা হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বরাবরই জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে।

অন্যদিকে তৃণমূলে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নাকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গ্রপিং, পাল্টাপল্টি কমিটি ঘোষণা ও বহিষ্কার, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং হামলা-মামলা লেগেই আছে। আর এই দ্বন্দ্বে মূল নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় নেতা ও এমপিরা বিরোধে জড়াচ্ছেন। জেলা-উপজেলায় পদ, টেন্ডার ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারসহ নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে মাঠে নেমেছেন দলের কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ে একদিকে যেমন দল জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অন্যদিকে অভিমানে দূরে সরে যাচ্ছেন দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত নেতারা। দুর্বল হচ্ছে দলের সাংগঠনিক অবস্থা। তবে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো মূল্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে চায় আওয়ামী লীগ।

এদিকে আপাতত জোট নিয়ে চিন্তিত নয়, তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জোটে শরিকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। নির্বাচনি মোর্চা গড়া, ১৪ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখা এবং বাম ও ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ থাকবে দলটির। পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন বছরে ‘সম্ভাব্য’ সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলার। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করা হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে নতুন বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে। তার আগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংগঠনিক জেলাসহ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে।

জোটের ব্যপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আরো কাছে টানার ভাবনা আছে। সেই সঙ্গে ভোটের হিসাব-নিকাশ মেলানোর জন্য কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। একই চিন্তা রয়েছে কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল নিয়েও। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে নির্বাচনি জোটের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নতুন বছরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় বছরজুড়েই সম্মেলন প্রক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ২১-২২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের তিন বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। এর এক মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখার সম্মেলন করার উদ্যোগ থাকবে। দলের চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আট সাংগঠনিক সম্পাদক তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন কার্যক্রম গুছিয়ে আনার কাজ করছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১