বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৫ February ২০২২

তাড়াশে খিরার বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি


সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এবার খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর এ অঞ্চলের খিরার চাহিদা রয়েছে সারাদেশেই। এদিকে খিরার দাম ভাল পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে কৃষকের মুখে হাসি।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় সাড়ে ৪২৭ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি। প্রতিদিন খিরাকে কেন্দ্র করে তাড়াশ উপজেলার দিঘরীয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে খিরার মৌসুমি হাট। এ হাটে প্রতিদিন ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার এসে খিরা কিনে নিয়ে যান।

সিংড়া উপজেলার আয়াস গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, এ বছর আমি তিন বিঘা জমিতে খিরার চাষ করেছি। তিন বিঘা জমিতে খিরা চাষ করতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন অনেক ভাল হয়েছে। বাজার দর ভাল থাকলে খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপজেলার দিঘরীয়া গ্রামে কৃষক মিজান বলেন, ধান চাষের পাশাপাশি এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ মণ করে খিরার ফলন হবে। বর্তমান বাজারে প্রতি বস্তা খিরা এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার দর এ রকম থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হবে।

চলনবিলের তাড়াশের দিঘুরিয়া, রানীর হাট ও কোহিতসহ ১৫টি গ্রামে গড়ে উঠেছে খিরা বিক্রির অস্থায়ী আড়ৎ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কোহিত, সাচানদিঘি, সান্দুরিয়া, সড়াবাড়ি, বারুহাস, দিঘুরিয়া, দিয়ারপাড়া, তালম সাতপাড়া, নামো সিলট, খাসপাড়া, বড় পওতা, তেঁতুলিয়া, ক্ষীরপোতা, খোসালপুর, বরগ্রাম, বিয়াস আয়েস, পিপুলসোন গ্রামের মাঠের পর মাঠ খিরার আবাদ হয়েছে। অনেক কৃষক লাভের আশায় নিজের জমি না থাকায় জমি লিজ নিয়ে খিরার আবাদ করেন। আর ওই খিরার বিক্রিকে কেন্দ্র উপজেলার দিঘরীয়া এলাকায় বসেছে বড় খিরার আড়ৎ। এ আড়তে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা খিরা বিক্রি করার জন্য ভিড় করেছেন।

এদিকে আড়ৎ থেকে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ট্রাকে করে খিরা কিনতে আসেন। এলাকার খিরা সাধারণত ঢাকা, রাজশাহী, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। প্রতিদিন শত শত মেট্রিক টন খিরা বেচা-কেনা হচ্ছে। তাড়াশে উৎপাদিত খিরা যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ আড়ৎ থেকে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ মে. টন খিরা যাচ্ছে শুধু রাজধানী ঢাকায়।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহান লুনা বলেন, উপজেলার ফসলী জমিতে খিরা চাষ খুব ভালো হয়। কৃষি অফিসের লোকজন সার্বক্ষণিক কৃষকদেরকে খিরা চাষে উৎসাহ ও পরার্মশ দিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন। খিরা চাষে কৃষকরা অন্যান্য কৃষি দ্রব্যের তুলনায় ভাল লাভবান হতে পারেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১