বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৫ February ২০২২

কাজে আসছে না সাড়ে ১৪ লাখ টাকার সেতু


সেতুর দুইপাশের সড়ক নিচু থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল ছাড়া তেমন কোনো কাজে আসছে না সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার (সেতু)। শুকনা মৌসুমে সেতুটি পায়ে হাঁটার কাজে ব্যবহার করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে সম্ভব হয় না এলাকাবাসীর। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার লোকজনকে। চলতি অর্থ বছরে সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটসহ সেতুটি ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি প্রামানিক পাড়া-কড়িতলা খালের উপর ২০১৮-২০১৯ইং অর্থ বছরে বৃহত্তর দিনাজপুর ও বগুড়া জেলা ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের আওতায় চৌদ্দ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি কড়িতলা-রৌহাদহগামী সড়ক থেকে প্রায় ৫-১০ ফুট উঁচু হওয়ায় সেতুর উপর দিয়ে ভ্যান গাড়ী কিংবা ট্রলি উঠা নামা করতে পারেনা। ফলে সেতুর দুই পারের লোকজন তাদের উৎপাদিত ধান, গম, পাট, মরিচ সহ বিভিন্ন কৃষিজ উৎপাদিত পণ্য সহজে পারাপার করতে পারে না। গাড়ী নিচে রেখে কাঁধে করে পণ্য পারাপার করতে হয় গাড়ী চালকদের। কাঁধে পণ্য বহনকালে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় লোকজনকে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মূল্য দিতে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হয় গৃহস্তদের। আবার যদি দূর থেকে মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য গাড়ী সেতুর এপার ওপার নিতেই হয় তাহলে কাঁধে করেই সেতু পারাপার করতে গাড়ি। বোঝাইকৃত গাড়ী সেতুর নিকটে এনে কাঁধে করে মালামাল পারাপারসহ গাড়ী পার করতে হয়।

আব্দুল ওয়াদুদ নামের এক ব্যক্তি জানান, সেতুটি এলাকার লোকজনের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হলেও তেমন একটা কাজে আসছে না এটি। শুকনা মৌসুমে কোনো মতে পায়ে হেঁটে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুই পাশ পানিতে তলিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাজু আহম্মেদ নামের এক ছাত্রলীগকর্মী বলেন, বগুড়া-০১ আসনের প্রয়াত সাংসদ কৃষিবিদ আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় বৃহত্তর দিনাজপুর ও বগুড়া জেলা ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের খামখেয়ালিতে সেতুটি তেমন কাজে আসছে না। গাড়ীতে করে কড়িতলা বাজারে পণ্য নিতে চাইলেও সম্ভব হয় না। এজন্য তারা কৃষিজ উৎপাদিত পণ্যগুলো সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। ৱ

চন্দনবাইশা ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার মিলন মিয়া জানান, এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও তা এখন অব্যবহারযোগ্য প্রায়! এরকম কথা এলাকার অনেকেই বলেন। তাদের দাবি যেনো দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই পাশে মাটি ফেলে সড়কটি উঁচু করে সেতুটি ব্যবহারযোগ করা হয়।

উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে চলতি অর্থ বছরে কাজটি করার কথা বললে তিনি জানান, এটি প্রকল্প বাস্তবায়তন অধিদপ্তর (পিআইও) অফিসের দেখভাল করার কাজ নয়। কাজটি যে বিভাগ নির্মাণ করেছেন তারাই দেখভাল করবে।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১