বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১১ February ২০২২

কৃষকদের আশার আলো হাইব্রিড ধান


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি ধানের বাম্পার ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি কৃষকরা। এ জন্য স্থানীয় কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে ধান আবাদ করেছেন।

তবে প্রচলিত ধান আবাদ করে কৃষকরা যখন খুব বেশী লাভের মুখ দেখতে পারছে না তখন বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউটর উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিড) ব্রি ধান আবিস্কারের ফলে কৃষকদের মাঝে বেশ সারা জাগিয়েছে। কৃষকরা এখন হাইব্রিড ধানে আশার আলো দেখতে পারছেন।

উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদে ফলন ভালো ও অন্য প্রচলিত ধানের চাইতে বেশী হওয়ায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। স্থানীয় কৃষকরা জানায়, আগে যেখানে প্রচলিত ধান আবাদ করে বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ পাওয়া যেতো এখন উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদে তারা পাচ্ছেন ২২ থেকে ২৩ মণ ধান। এই ধান মানুষের জিঙ্ক ও প্রোটিন ঘাটতি মোকাবেলা এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বেশ সহায়ক হচ্ছে।

এদিকে পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র বোরো ধান আবাদ প্রায় শেষ পর্যায় চলে এসেছে। গত আমন মৌসুম থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বেশী ধান আবাদ করা হচ্ছে। আমনের চাইতে চলতি বোরো আবাদে জমিতে ফলন আরও ভালো করতে সর্বাত্তক চেষ্টা করবেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষ আবাদে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রোপনকৃত জমির মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি উন্নত ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বীজ রয়েছে। তবে এ মৌসুমে সরকার কর্তৃক প্রায় ২৫০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বীজ ও সার দেওয়া হয়। উচ্চ ফলনশীল ধান বীজের মধ্যে রয়েছে ব্রি ৮৪, ৮১, ৬৩,৮৮, ৯৬, সুবর্ণ, হীরা জাগরনীসহ নানা প্রজাতির ধান। ওইসব ধান মানুষের শারীরিক ঘটতি পূরণে যেমন সহায়ক তেমনি অধিক ফলন নিশ্চিত করে বিধায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

সরেজমিনে পৌর এলাকায় তরাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর, খড়মপুর উপজেলার নুরপুর,হীরাপুর, উমেদপুর, বাউতলা, সাতপাড়া, ধাতুরপহেলা,তোলাবাড়ি, কুসুমবাড়ি, নুনাসারসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপনের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত জমিতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন, কেউবা জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার বিতরণে কাজ করছেন। কেউ দিচ্ছেন সেচ। এদিকে বেশ কয়েক দিন ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত থাকায় বীজ তলা নষ্ট হওয়ার আশংকায় স্থানীয় কৃষকরা এক প্রকার চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে কৃষি বিভাগ থেকে আক্রান্ত বীজ তলা রক্ষায় সার্বিক ভাবে পরামর্শ দেওয়ায় তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।

উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে ১৩ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। এরমধ্যে ৯ বিঘা জমিতে তিনি উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করেন বলে জানায়। তিনি আরও বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান আবাদ করায় প্রতি বছর তার অনেক টাকা লোকশান গুনতে হয়। কারণ কৃষি উপকরণসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি ও ফলন কম হওয়ায় এ ক্ষতি হয়। তাই গত ২ বছর ধরে তিনি উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করায় অনেক লাভবান হচ্ছেন।

কৃষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, প্রচতিল ধান আবাদ করলে বিঘা প্রতি ১৩-১৪ মণের বেশী ধান পাওয়া যায় না। তাই উচ্চ ফলসীল ব্রি-৮৮,৮৪ হাইব্রিড জাতের ধান এ মৌসুমে তিনি আবাদ করছেন। এ ধান বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৩ মণ পাওয়া যায় বলে জানায়। আগে ধান চাষে অনেক টাকা লোকশান গুনতে হতো। হাইব্রিড ধান আবাদে ফলন ভালো হওয়ায় এ চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

কৃষক মো. সিরাজ মিয়া জানায়, গত আমন মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনসীল জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রতি বিঘায় তিনি ২০ -২২মণ ধান পেয়েছেন। তাই এ মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে তিনি উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করেন।

পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো. আলম খাঁ বলেন , প্রচলিত ধান আবাদ করার ফলে প্রতি তার অনেক ক্ষতি হওয়ায় ধান আবাদের প্রতি তার অনেকটাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। গত দুই বছর ধরে উচ্চ ফলনসীল জাতের ধান আবাদে ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় বেশীভাগ জমিতে বোরো ধান আবাদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। শীতের কারণে বোরো ধান আবাদ পিছিয়ে নেই কৃষকরা। এ উপজেলায় দিন দিন উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদ গত কয়েক বছরের তুলনাই অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং সেচ ব্যবস্থা ঠিকমতো ভাল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন কেউ যাতে সিন্ডিকেট তৈরী করে সারের দাম বাড়াতে না পারে সে দিকে অফিসের সংশ্লিষ্ট লোকজন নজর রাখছে বলে জানায়। ফলন ভালো রাখতে স্থানীয় কৃষকদেরকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১