বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৭ February ২০২২

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলো সত্তরোর্ধ্ব সেই বৃদ্ধ দম্পতি


জীবন চলে ভিক্ষায় আর দিন কাটে পাহাড়ের নিচে প্লাস্টিক কাগজে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে। চারপাশে বড় বড় পাহাড় আর নির্জন ফসলি জমি। মানুষের বসতিও বেশ দূরে। এই মাঝে পাহাড়ের খাঁজে ছোট্ট একটি ঘর করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ দম্পতি সিরাজ মিয়া ও ফাতেমা খাতুন।

সূর্যের আলো অস্ত গেলেই চার দিকে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। তার উপর পাহাড়ি অঞ্চলে নানারকম জীবজন্তুর ভয়। ভয় কে পুঁজি করেই জীবন কাটাতে শিখেছে বৃদ্ধ এই দম্পতি। মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়েই নেত্রকোণার দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া গ্রামে কোনরকমে চলছে সিরাজ মিয়ার ছোট্ট সংসার।

ঘরের চাল নেই, নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ভাসে পুরো ঘর। অল্প বাতাসেই নড়বড়ে এই ঘর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম। একবেলা খেলে জোটে না দ্বিতীয় বেলা খাবার।

জীবনের শেষ বয়সে এসেও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ দম্পতির অমানবিক জীবন কাহিনী নিয়ে গত বছর বিভিন্ন মিডিয়ায় একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই পাশে দাঁড়ায় স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ ও সময়ের বাতিঘরের স্বেচ্ছাসেবকরা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুদিনের প্রচেষ্টায় তাদের জন্য বাঁশ, কাঠ ও টিন নিয়ে তৈরি করা হয় ছোট্ট একটি ঘর। ঘরের ভিতরে তাদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে কাঠের একটি বিছানা। আগের মাটিতে শুয়ে রাত কাটালে এখর থেকে বিছানায় থাকবেন তারা।

এই ছোট ঘর যেনো তাদের স্বপ্নের ঘর। জীবনের শেষ ভাগে এসে এমন একটি ঘর পেয়ে হাসি ফুটেছে ওই বৃদ্ধ দম্পতির মুখে।

সিরাজ মিয়া ও ফাতেমা খাতুন জানান, আমরা গরিব। আমাদের থাকার কোনো ঘর নাই জমি নাই। অন্যের জমির উপর ভর করে আমরা আছি। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে তারপর পশুপাখির ভয়। এম অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছে। আমরা অনেক খুশি।

স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, শুরুর দিকে তাদের অবস্থা খুব করুন ছিলো। জনমানব শূন্য এই পাহাড়ের এলাকায় এভাবে বসবাস করলেও কেউ তাদের খবর নেয়নি। নিতান্ত গরীব এই পরিবার মানুষের সাহায্যে কোন রকম বেঁচে আছে। আমরা চেষ্টা করেছি এই মানুষ গুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার। যদিও এই প্রচেষ্টা খুবই সীমিত। তাও তারা কোনো রকমে রাতটুকু একটি ঘরের ভিতরে কাটাতে পারবে।

সেভ দ্য এনিমেলস অফ ও সময়ের বাতিঘরের উপদেষ্টা একেএম ইয়াহিয়া জানান, এই পরিবারটি র্দীঘ দিন ধরে খুব কষ্টে দিন পার করচ্ছে। আমরা তাদের পাশে একটু দেরি হলেও দাঁড়াতে পারেছি। এভাবেই আমরা সমাজের অবহেলিত মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য কোন কিছু করার চেষ্টা করে যাবো। তবে প্রশাসন যদি এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে এ কাজ আরো সহজ হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১