বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৪ January ২০২২

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাড়ছে ফসল উৎপাদন


এক সময় হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই কৃষকদের ছিল একমাত্র ভরসা। কৃষকরা হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল আর মই নিয়ে সারাদিন কায়িক শ্রম করে মাঠে ফলতো তাদের স্বপ্নের ফসল। এখন যেন সেই দিন আর নেই। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় কৃষিতে যেন এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। নতুন নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহারে সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যেন বদলে যাচ্ছে কৃষি চিত্র। স্থানীয় কৃষকরা এখন ফসলের বীজতলা থেকে থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই এর যুগ যেন অনেকটাই শেষের পথে। সেই স্থান দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার, জমি আবাদ,নিড়ানি হতে শুরু করে জমিতে সেচ দিতে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক পাম্প, ড্রাম সিডার (বীজ বপন যন্ত্র), ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন, পাওয়ার থ্রেসার (পায়ে চালিত মাড়াই যন্ত্র), গ্রেডিং মেশিন, গুটি ইউরিয়া সারসহ সহ সব কিছুতেই চলছে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার। এসব যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে কৃষকের কমেছে শ্রম ,খরচ ও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ ফসল উৎপাদন।

তাছাড়া দীর্ঘ বছর ধরে সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থার অভাব, ত্রুটিপূর্ণ চাষাবাদের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের ফলন ভালো হতো না। সব সময় লোকসান গুনতে হত্ োকৃষকদের। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধি , আগাছা দমন ও অধিক ফসল ফলাতে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গোবর সার, কম্পোস্ট, খামারজাত সার , ক্ষতিকারক রোগবালাই ,পোকামাকড় দমন , সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাসহ ইত্যাদি প্রয়োগ করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে জমি আবাদ করছেন কৃষকরা। উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় তাদের প্রতিনিয়ত ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে প্রতি বিঘায় জমিতে ৭-৮ মন ধান পাওয়া যেতো এখন প্রযুক্তির উন্নয়নে ১৮-২০ মন ধান পাচ্ছে কৃষকরা।

পৌর শহরের তারাগন,দেবগ্রাম, খড়মপুর, দূর্গাপুরসহ উপজেলার মোগড়া এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তারা জানায় পৌর শহরসহ উপজেলার অধিকাংশ কৃষক আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষি কাজ করছেন। বর্তমানে কৃষি কাজে এলাকায় দিন দিন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই এর যুগ যেন অনেকটাই রয়েছে শেষের পথে। কৃষকরা জমি আবাদ,নিড়ানি হতে শুরু করে জমিতে সেচ দিতে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক পাম্প, ড্রাম সিডার (বীজ বপন যন্ত্র), ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন, পাওয়ার থ্রেসার (পায়ে চালিত মাড়াই যন্ত্র), গ্রেডিং মেশিন, গুটি ইউরিয়া সারসহ সহ সব কিছুতেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

এদিকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত ভাবে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক যেসব সহায়তা রয়েছে কৃষকদেরকে তা দিয়ে আসছেন বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।

উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কৃষক মো: আজগর আলী বলেন, বর্তমানে তার ১০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। এক সময় তিনি হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই দিয়ে কৃষি কাজ করতেন। ছিল না কোন আধুনিকতার ছোয়া। জমি করা হতো ঠিকই কিন্তু ফলন ভালো হতো না। বিঘা প্রতি ৭-৮ মন ধান পাওয়া যেতো বলে জানায়। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে জমিতে ফলন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল আমন মৌসুমে তিনি বিঘা প্রতি ১৭-২০ মন ধান পেয়েছেন। আধুনিক কৃষিতে প্রকি বছরই ফলন ভালো হচ্ছে।

কৃষক মো. মুসা মিয়া বলেন, গত বোরো মৌসুমে তার ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বিঘা প্রতি ধান পেয়েছেন ১৮-২০ মন। যা কখনও এমন ফলন হয়নি। তিনি বলেন প্রতি বছর ধান চাষ নিয়ে সেচ, সার, ধান কাটাসহ নানা প্রকার একটা শঙ্কা তৈরী হতো। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে চিন্তা দুর হয়েছে। ধান আবাদ ও কাটা ছিল কৃষকদের একটি বড় সমস্যা। কারন সময় মতো কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় ধান কাটা সম্ভব হতো না। কিন্তু খরচ কয়েকগুন বেড়ে যেতো। কিন্তু এখন ধান কাটায় হারভাস্টার মেশিনের মাধ্যমে ১ বিঘা বা (৩০ শতক) জমির ধান কাটতে ২০ মিনিটি সময় লাগে। এক সাথে জমির ধান কাটা-মাড়াই -ঝাড়া ও বস্তায় ভরা হয়ে যায়। বিঘা প্রতি ১৫ শ টাকা খরচ হয়।

তাছাড়া এক বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচও হতো। আধুনিক এই যন্ত্রের সাহায্যে মাত্র এক ঘণ্টায় এক বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করা যায়। খরচও লেগেছে অনেক কম। এই যন্ত্রটির মাধ্যমে ধান কাটতে পেরে তিনি খুবই খুশি।

মো. নুরে আলম বলেন, তিনি দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসেন। কোন উপায় না পেয়ে কৃষি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন । কৃষিভিত্তিক অ্যাপ ‘কৃষকের জানালা’ ও ‘আজকের কৃষি’ অ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে পুরোপুরি কৃষকে মনোযোগি হন। তিনি তার ১৫ বিঘা জমিতে এখন তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি কাজ করছেন। ধান চাষের পাশাপাশি সবজি ,মাছ,মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে ধানসহ প্রতিটিতেই তিনি এখন অনেকটাই সফল। প্রতি বিঘা প্রতি ধান পাচ্ছেন ১৮-২০ মন।

কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে জমিতে হাল চাষ, ধানা কাটা, মাড়াই কাজে অতিরিক্ত টাকা খরচ হওয়ায় প্রতি বছর লোকসান গুনতে হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় অনেক লাভবান হচ্ছেন।

কৃষক মো.ফরিদ মিয়া বলেন, এ উপজেলার বেশীভাগ কৃষকই সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করতেন। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের কাজ সহজ করেছে। আগে ধান আবাদ করতে মৌসুমের নির্দিষ্ট সময়ে বীজ বপন, চারা রোপণ এবং ফসল কেটে ঘরে তুলতে কৃষককে বেশ সংকটে পড়তে হতো। এখন যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের ফলন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১ বিঘা জমি চাষ করে ৭-৮ মন ধান পাওয়া যেতো এখন প্রযুক্তির ফলে ১৭-১৮ মন ধান পাচ্ছেন বলে জানায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। এখন কম জমিতে চাষাবাদ করে অনেক বেশি ফসল পাওয়া যাচ্ছে।

সাংবাদিক জুটন বণিক বলেন এক সময় হাল চাষ করতে হালের বলদ, লাঙল-জোয়াল, মই কৃষকদের ছিল একমাত্র ভরসা ছিল। সারাদিন কায়িক পরিশ্রম করে তারা মাঠে ফসল ফলতো । বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে সব কিছু যেন বদলে কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এসব যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে কৃষকের কমেছে শ্রম ও খরচ, অপরদিকে কয়েকগুণ বেড়েছে উৎপাদন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, কৃষিতে তথ্য-প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার কৃষক করে কৃষকরা কম শ্রমে অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারছে। কৃষকদের আধুনিক কৃষক হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে কৃষিতে আধুনিকায়ন। ফলে কৃষিতে কমে আসছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১