বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ January ২০২২

গদখালীতে চলছে তিন দিনের 'পৌষমেলা'


ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান যশোরের গদখালীর কালীমন্দির প্রাঙ্গনে তিন দিনব্যাপী 'পৌষমেলা' শুরু হয়েছে।

যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ফুলের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী বাজারে ৫০০ বছরের পুরোনো এই কালীমন্দির ঘিরে প্রতিবছর তিন দিন ব্যাপী পৌষমেলা হয়ে আসছে।

প্রতি বছর পৌষ মাসের অমাবস্যায় তিন দিনের এ মেলা বসে। মেলাকে ঘিরে এলাকার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের সৃষ্টি হয়। এ বছর রোববার শুরু হয়েছে মেলা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুভাস ভক্ত বাবুল বলেন, ১৪৬২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এ কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েকশ বছর ধরে মন্দিরটিকে ঘিরে পালিত হয়ে আসছে এই পৌষমেলা।দেশের ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থী ও ভক্তের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ মেলা।

সুভাস ভক্ত বলেন,দুই ধর্মের দু'জনের প্রেম প্রণয়ের সূত্রধরে রডারিক উপাসনার জন্য খ্রিষ্টানদের 'গড' ও হিন্দুদের দেবী 'কালী'কে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিষ্ঠা করেন কালী মন্দিরটি।যা পরবর্তী কাল থেকে গদখালী কালী মন্দির বলে পরিচিতি পায়।

শার্শা উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বৈদ্যনাথ দাস বলেন, এ মেলাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।করোনাকালিন সময়ে স্বল্প পরিসরে পূজা হলেও মেলা হয়নি।এবার দেশি বিদেশি ব্যাপক সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে।

নীল কমল সিংহ বলেন, প্রায় শতাব্দীকালের প্রাচীন এই কালীমন্দিরটি এতদঞ্চলের ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের পূজা ও উৎসবের প্রধান কেন্দ্র। এখানে কালীমাতা বিগ্রহ স্থাপিত আছে এবং প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে বহু ভক্তের সমাগম হয়।

ঝিকরগাছা থানার ওসি সুমন ভক্ত বলেন, গদখালির কালী মন্দির প্রাঙ্গনে পূজা উদ্‌যাপনে যে মেলা বসেছে তার জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, প্রায় ৫০০ বছর আগে কোন এক সময়ে পর্তূগিজ ডাকাত সরদার রডারিক এই অঞ্চলে ঘাটি গেড়ে মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। একদিন সে স্থানিয় কমলেসের বাড়িতে ডাকাতি করতে গেলে কমলেসের সুন্দরী মেয়ে মাদালসার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। মাদালসার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রডারিক ক্ষমা চেয়ে প্রেম নিবেদন করে ওয়াদা করে আর কখনো ডাকাতি করবে না। এক পর্যায়ে মাদালসার মন জয় করার জন্য বাড়ির পাশেই আশ্রয় নেই রডারিক আর মাদালসাকে পাওয়ার জন্য বাঘের সাথেও লড়াই করে। এ ঘটনার পর মুগ্ধ হয়ে মা কালির নামে রডারিককে বরণ করে নেয় মাদালসা। পরে দুজনেই সন্ন্যাসব্রত গ্রহন করে এবং তারা একটি মন্দির তৈরি করে। রডারিকের 'গড' এবং মাদালসার 'কালী' নিয়ে এই মন্দিরের নাম হয় 'গডকালী মন্দির'।কালের আবর্তে সেটাই আজ গদখালি কালী মন্দির।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১