বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৩ January ২০২২

তিতাস কমিউটার ট্রেনে ডাবল টিকিট কিনে চড়তে হচ্ছে যাত্রীদের


দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথে আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনে কোনো যাত্রী ভ্রমণ করলে তাকে গন্তব্যে পৌঁছতে টিকিট কিনে ভ্রমণ করতে হয়। আসার সময় আবার প্রত্যেক যাত্রীকেই টিকিট ক্রয় করে তার গন্তব্য স্থানে আসতে হয়। কিন্তু আসা কিংবা যাওয়ার সময় কোন ট্রেন যাত্রীকে একটি টিকিটের জন্য ডাবল টিকিট কেনে ভ্রমণ করা কোনো নজির নেই। একজন যাত্রীকে যাওয়ার সময় একটি এবং আসার সময় আসার একটি টিকিট কেটে আসা যাওয়া আসতে হয়। এ নিয়মেই চলাচল করছে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রীরা। কিন্তু বিপরীত ঘটনা ঘটেছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিতাস কমিউটার নামে একটি ট্রেনে। এই ট্রেনে ডাবল টিকিট ক্রয় করে চলতে হচ্ছে ট্রেন যাত্রীদের এমন অভিযোগ ট্রেন যাত্রীদের। এই ট্রেনটি প্রতিদিন আখাউড়া-ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা আখাউড়া রেলপথে চলাচল করছে। এই ট্রেনে ঢাকা যেতে হলে একজন যাত্রীকে একটি টিকিট কিনে যেতে হলেও আসার পথে একজনকে দুটি টিকিট কিনে ট্রেনে ভ্রমন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে একটি আসনযুক্ত অন্যটি আসনবিহীন। আসন যুক্ত টিকিট নিতে আসন বিহীন বিহীন টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় চলছে মাসের পর মাস এমন অভিযোগ ট্রেন যাত্রীদের। আর এভাবেই বাড়তি টিকিট বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

ট্রেন যাত্রীদের অভিযোগ, নিত্যদিন তিতাস কমিউটার ট্রেনে ঢাকা থেকে ফিরতে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গেলে প্রত্যেক যাত্রীকে একজনের বিপরীতে দু’টি টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি টিকিট আসন নম্বরসহ দেওয়া হয়। আরেকটি টিকিটে কোনো আসন লেখা থাকে না। তবে এ বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী যাত্রী এ নিয়ে একাধিক পোস্টও করেছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া- ঢাকা রেলপথে তিতাস কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টি এম ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। আখাউড়া-ঢাকা, ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা, ঢাকা-আখাউড়া পথে মোট চারবার যাতায়ত করে ট্রেনটি। এই ট্রেনে ১৩টি বগি সংযুক্ত রয়েছে। ট্রেনটিতে উল্লেখিত চারবারে প্রতিদিন অন্তত প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ ট্রেনটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা ঢাকায় চাকুরি করেন কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ এ ট্রেনে চড়েন বেশি। ট্রেনটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পথের ভাড়া মাত্র ৬০ টাকা। আর আখাউড়-ঢাকা ভাড়া রয়েছে ৭০ টাকা। যেখানে আন্ত:নগর ট্রেনে চড়লে দ্বিগুন ভাড়া গুণতে হয়। কালোবাজারিদের কাছ থেকে কিনতে গেলে সেটা গিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ট্রেনে ঢাকা থেকে ফিরতে হলেই তাদেরকে টিকিটের এ গ্যাঁড়াকলে পড়তে হয়। চাহিদা বেশি থাকার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে একজনের বিপরীতে দু’টি টিকিট কাটেন। নিয়ম না থাকলেও যাত্রীদেরকে আসন ছাড়া টিকিট দিচ্ছেন এই ট্রেনের সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের আরো একটি অনিয়মের কথা জানিয়েছেন। সেটি হলো, ঢাকা থেকে ফেরার পথে পরবর্তী কাছের স্টেশনগুলোর আসনসহ টিকিট খুব কম বরাদ্দ রাখা হয়। এক্ষেত্রে কেউ কাছের স্টেশনে নামতে চাইলেও ওই স্টেশনের টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা আখাউড়া পর্যন্ত টিকিট কাটেন। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ার পর তেজগাঁও, বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব, আশুগঞ্জসহ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে।

যাত্রীরা জানান, কমলাপুর ও বিমানবন্দরের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে গেলে অনেক সময় শুরুতেই ৬০ টাকার বদলে ১২০ টাকা চাওয়া হয়। যারা ভাড়া সম্পর্কে জানেন তারা প্রতিবাদ করলে অশোভন আচরণ করেন কিংবা টিকিট নাই বলে জানিয়ে দেন। আর যারা জানেন না তাঁরা ওই দামেই টিকিট কিনে ফেলেন। টিকিট নেওয়ার পর একটি আসনসহ ও আরেকটি আসনবিহীন দেখে অবাক হয়ে যান। অন্যদের কাছ থেকে অলিখিত নিয়মের বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

ট্রেন যাত্রী মো. আলগীর হোসেন বলেন, একটি প্রয়োজনীয় কাজে তিনি গত শনিবার ঢাকায় যান। কাজ শেষে তিতাস কমিউটার ট্রেনে বাড়িতে আসতে কাউন্টারে যান টিকিট কিনতে। সেখানে গেলে তাকে ফেরার পথের দুটি টিকিট এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে কিনতে হয়েছে।

মো. লোকমান হোসেন বলেন, গত সপ্তাহেই তিনি ঢাকা থেকে ফেরার পথে দু’টি টিকিট কাটতে বাধ্য হন। ট্রেনে উঠে তিনি জানতে পারেন আসার পথে প্রত্যেক যাত্রীকেই একটির বদলে দু’টি করে টিকিট কাটতে হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পাইকপাড়ার সজীব দেবনাথ ঢাকায় বেসরকারি কম্পানিতে চাকুরি করেন। প্রতি সপ্তাহেই বন্ধের দিনে তিনি ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আসতে বেশিরভাগই তিতাস কমিউটার ট্রেনে চড়েন।

সজীব দেবনাথের অভিযোগ, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ওই ট্রেনে করে আসতে দু’টি টিকিট কাটতে হয়। এর মধ্যে একটি আসনসহ আর আরেকটি আসনবিহীন। আসনসহ টিকিট নিতে আসনবিহীন টিকিট কেনা মাসের পর মাস ধরে বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে বলে জানালেন সজীব দেবনাথ।

তবে এ বিষয়ে মেসার্স টি এম ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারি মো. সালাউদ্দিন রিপনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১