বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৩ January ২০২২

ফানুসের আগুনে পুড়ল কৃষকের ৫ গরু


ফানুসের আগুনে পুড়েছে কৃষকের ৫ গরু। কৃষক পোড়া গরুগুলোকে বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের চৈয়পাড়া গ্রামে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন এর সময় গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, ওই গ্রামের গ্রামের ঋনগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষক জামাল খালাসী তার নিজস্ব গোয়ালঘরে ঋণ নিয়ে ১২টি গাভী লালন পালন করে আসছিলেন। গাভীগুলোকে শীত হতে রক্ষা করার জন্য তিনি তাঁর গোয়াল ঘরের চারদিকে পাটের তৈরি বস্তা‌দিয়ে বেড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩১শে ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে আকাশ থেকে উড়ে আসা ফানুসের আগুনে তার গোয়াল ঘরের বস্তা কাটার মধ্যে আগুন লেগে যায়।

এ সময় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে আগুন দেখতে পেয়ে জামাল খালাসীসহ এলাকাবাসী সাতটি গরুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পাঁচটি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে জামাল খালাসী চারটি গরুকে নামে মাত্র মূল্যে কসাইদের কাছে বিক্রি করে দেন। অপর অগ্নিদগ্ধ একটি গরু গুরুতর অবস্থায় এখনো জামাল খালাসী লালন-পালন করছেন।

এ ব্যাপারে জামাল খালাসির চাচা সাত্তার খালাসী বলেন, আমার ভাতিজা জামাল তার বাড়িতে গোয়াল ঘর তুলে ১২টি গরু লালন পালন করে আসছিল। শীতের জন্য গোয়াল ঘরের চারপাশে পাটের তৈরি বস্তা দিয়ে বেড়া দিয়ে ছিলো গরু গুলোকে শীত হতে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু ৩১শে ডিসেম্বর রাত বারোটার দিকে উড়ে-আসা ফানুস হতে হঠাৎ করেই আমার ভাতিজার গোয়াল ঘরে আগুন লেগে যায়। এ সময় গোয়ালঘরে মোট ১২টি গরু ছিল। আমরা তাড়াতাড়ি করে সাতটি গরু বের করে নিতে পারলেও পাঁচটি গরু আগুনে পুড়ে যায়। পরে চারটি গরুর নামে মাত্র মূল্যে কসাই এর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে একটি গরুর দগ্ধ অবস্থায় আমার ভাতিজা লালন পালন করছে। ওই আগুনে পোড়া গরুটিও যে কোন সময় মৃত্যু হতে পারে।

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বইছে সমালোচনার ঝড়। অ্যাডভোকেট এইচ এম মাসুম নামের একজন তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, " ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন এর উম্মাদনা শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের উম্মাদনার কারনে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাহা কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। ফানুস নামের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর বস্তু নিয়ে আগুনের গোলা খোলা আকাশে পাঠিয়ে দিয়ে অনেকে আনন্দিত হয়ে মনের তৃপ্তির আনন্দের ঢেউ তুললেও অনেকে ভুলে যান তাহার এই আনন্দ অন্যের কান্নার কারন হয়ে যেতে পাড়ে।

আমি কৃষক জামাল খালাসীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবী জানাচ্ছি।

এডভোকেট এইচ এম মাসুম বলেন, ঘটনাটি আমার গ্রামের । আমার গ্রামের লোকজন আমাকে ছবি তুলে ও ভিডিও করে গরু গুলোকে পাঠিয়েছে। আমার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জামাল খালাসীর‌ একাধিকবার কথা হয়েছে। সে আমাকে জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা হতে ঋণ নিয়ে সে এই গরুর খামারটি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু মানুষের একটুখানি আনন্দের বলি হয়ে আজ সর্বস্বান্ত হতে হলো জামাল খালাসীকে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১