বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৬ December ২০২১

লঞ্চ দ্রুত তীরে ভেড়ানো হলে এত মৃত্যু হত না: ফায়ার সার্ভিস


ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার পর দ্রুত তীরে ভেড়ানো হলে অনেক মুত্যু এড়ানো যেত বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। এছাড়া পুড়ে যাওয়া ওই লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ছিল না বলে দাবি করেছেন তারা। আজ রোববার ঘটনাস্থল এবং পুড়ে যাওয়া লঞ্চটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিন তলা ওই লঞ্চের অগ্নিনির্বাবক ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলে হতাহতের সংখ্যা এত বাড়ত না। জাহাজের চালক বা স্টাফরা দ্রুত লঞ্চটি কিনারায় ভিড়িয়ে নোঙর করতেন, এতে বহুযাত্রী মাটিতে নামার সুযোগ পেতেন। কিন্তু সে কাজটিও লঞ্চের চালক ও স্টাফরা করেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীর পানি ব্যবহার করেই পাম্প মেশিনের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যেত, সেটিও করেননি তারা। আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানানো হবে।’

রাতের বেলা অগ্নিকাণ্ড হওয়ায় এবং প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভাতে না পারায় এত বেশি হতাহত হয়েছে বলে মত দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

তিনি বলেন, “এখানে যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, এবং যারা আমাদের তথ্য দিতে পারছে, তাদের কাছ থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি এবং এটা পরিদর্শন করছি। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আশা করি, দুই সপ্তাহ লাগবে তদন্ত শেষ করতে।

“সম্ভাব্য কোন কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বা এর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা তা দুই সপ্তাহ পরে আমরা বলতে পারব।”

বরিশাল বিআইডব্লিটিএ কর্মকর্তাদের একটি দলও রোববার দুপুরে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে রাখা পোড়া অভিযান-১০ লঞ্চটি ঘুরে দেখেন।

সাংবাকিদের প্রশ্নের জবাবে বরিশাল নৌযানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহারুল আমীন বলেন, লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। ঢাকা বরিশাল রুটের সব লঞ্চেই ওপরে বিলাসবহুল ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু ইঞ্জিন রুমে নিরাপত্তা জন্য কিছুই থাকে না।”

এদিকে সুগন্ধা নদীতে নিখোঁজদের সন্ধানে তৃতীয় দিনের তল্লাশি অভিযান চলছে। তবে নতুন করে কারও মরদেহ পাওয়া যায়নি। এখনও অনেকে স্বজনদের খোঁজে ভিড় করছেন নদী তীরে। তাদের দাবি, এখনও প্রায় অর্ধশত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার সকাল থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত সুগন্ধা নদীর দিয়াকুলসহ আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের পক্ষ থেকে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। সেখানে স্বজনরা এসে তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর থানা পুলিশ এ কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজের স্বজনদের দেওয়া তথ্যে ৪৭ জনের তালিকাও প্রস্তুত করেছে। এছাড়া ঝালকাঠি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ ৫১ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ঝালকাঠির পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় সুগন্ধা নদীতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিএ থেকে জানানো হয়েছে, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এই লঞ্চে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১