আপডেট : ০৪ December ২০২১
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তনে কমিউনিটি প্যারামেডিকস-এর গুরুত্ব রয়েছে। কেননা দেশের তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দক্ষ লোকবলের অপ্রতুলতা লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে, গ্রামীণ জনপদে দক্ষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে তাদেরকে অদক্ষ সেবাদানকারীর উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। এর অবস্থার উত্তরণে প্রশিক্ষত ও দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিক্স-এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল শনিবার (৪ ডিসেম্বর) গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি প্যারামেডিকস-এর গুরুত্ব শীর্ষক জাতীয় পরামর্শক সভা। এই পরামর্শক সভার উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পর্যায়ের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কমিউনিটি প্যারামেডিক কোর্স সম্বন্ধে অবহিতকরণ এবং তাদের দক্ষতা সম্পর্কে জানানো; গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের অংশ হিসাবে তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের সুযোগসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা; এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের মাঝে আস্থা সম্পর্কে অবহিতকরণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের সচিব, জনাব আলী নূর বলেন, তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি প্যারামেডিকসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। একে আগামীতে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ জরুরি এবং এক্ষেত্রে তৃণমূলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা রয়েছে, তাদের সহযোগিতা কাম্য। তিনি আরো বলেন, সাধারণত দেখা যায়, রোগ হবার পরে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু কমিউনিটি প্যারামেডিকদের উচিত হবে রোগ হবার পূর্বে এর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া ও সহায়তা করা। সুইস কন্টাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুজিবুল হাসান তার বক্তব্যে সারা বাংলাদেশে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপপের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং একই সঙ্গে একে শক্তিশালীকরণে সুইসকন্টাক্টের সহায়তার কথা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিপাশা হোসেন, সিনিয়র টেকনিক্যাল এডভাইজার, সুইস কন্টাক্ট বাংলাদেশ, মো. রেজাউল করিম, সিনিয়র ম্যানেজার ইন্টারভেনশন, আস্থা, রাড্ডা-সিপিটিআই-এর অধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার এবং ফজলে রাজিক, টিম লিডার, আস্থা। উল্লেখ্য, দক্ষ মানব সম্পদের অভাব বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে একটি প্রধান উদ্বেগ। বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৮.৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, যেখানে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএইচও)-এর মতে ৪৪.৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য থাকা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি গ্রামীণ অঞ্চলে আরও উদ্বেগজনক যেখানে বাসিন্দাদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীর অপ্রতুলতা রয়েছে। এর জন্য মূলত অযোগ্যদের উপর নির্ভর করে গ্রামবাসীদের থাকতে হয়। বাংলাদেশ সরকার তার চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে (২০১৭-২০২২) মানবসম্পদে অপ্রতুলতা হ্রাস করার উপর জোর দিয়েছে। এই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ্যাচিভিং সাসটেইনেবিলিটি টুওয়ার্ডস হেলথকেয়ার এক্সেস (আস্থা) প্রকল্পটি ২০১১ সালে চালু করেছিল। আস্থা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যুব সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্রফেশনাল ট্রেনিং চালু করে যা ‘কমিউনিটি প্যারামেডিকস ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ কমিউনিটি প্যারামেডিকস তৈরি করে, যারা প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্য (এমসিএইচ) এবং পরিবার পরিকল্পনা (এফপি)-এর উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে থাকে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১