আপডেট : ২৪ November ২০২১
ধীর ধীরে এগিয়ে আসছে শুরু করেছে শীত। বিকাল থেকেই শীত শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীতের পিঠাতে রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যও। তবে পিঠা পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া ভার। শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ওইসব পিঠার মধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের বাহারি পিঠা। এসব পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসেন মিয়া (৬৫)। তিনি পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় ফুটপাতে বসে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতি শীত মৌসুমের ভাপা পিঠাসহ বেশ কয়েক জাতের পিঠা তৈরি ও বিক্রি করছেন। আর তার এই পিঠাই জানান দিচ্ছে শীত আসছে। এক কথায়, শীতের আগমনী বার্তা দেয় হাসেনের পিঠা। আর এই মৌসুমী পিঠা বিক্রি করে তিনি ভালো টাকা আয় করছেন। শুধু হাসেম নয় বিভিন্ন এলাকায় বাহারি ধরনের শীত পিঠা বিক্রি করে নিম্ন আয়ের অনেক লোকজনই অর্থ উপার্জন করছে। স্থানীয়রা জানায়, হাসেমের পিঠা মানেই এক অন্য রকম স্বাদ। একের পর এক লাইন ধরে পিঠা কেনেন ক্রেতারা। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে পিঠা খেতে এখানে আসেন। এলাকায় তার পিঠার সুনাম ও রয়েছে বেশ। তার এ পিঠা ব্যবসা চলে বিকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। তবে পিঠা বিক্রি জমে উঠে বিকাল থেকেই। তবে সন্ধ্যার পরে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে অনেক বেশি। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনরা এখানে পিঠা খেতে আসেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্য ক্রয় করে নিয়ে যায়। এদিকে সড়ক বাজার মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় জানা যায়, নারিকেল ও খেঁজুর গুড়ের তৈরি ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল-মসলা, ধনিয়া পাতা দিয়ে ওইসব পি সে তৈরী করছেন। আছে শুঁটকি ও সরিষার বর্তাও। ভিন্ন বয়সী লোকজন এখান থেকে পিঠা ক্রয় করছেন। পিঠা ছাড়া অন্য সময় তিনি এখানে কলা বিক্রি করছেন। তবে শীত মৌসুমে সকাল বেলা কলা আর বিকাল বেলায় বিক্রি করছেন শীত পিঠা। শীত পিঠার মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভাপা পিঠা । তার এখানে বিকেল থেকেই পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। হাসেন মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, স্ত্রী, ৩ ছেলে ৩ মেয়েসহ ৮ জনের সংসার। পিঠা আর কলা বিক্রির আয় দিয়ে চলছে তার পরিবার। তিনি বলেন, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে সড়ক বাজার এলাকায় প্রতি শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে আসছেন। সাধের পিঠা ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরী করছে ওইসব পিঠা । প্রতিদিন তিনি ২০ কেজি চাউলের গুড়া, ৩-৪ কেজি খেজুরের পাটালি ও ৩ টা নারিকেল, ২ কেজি কাঁচা মরিচ ও ধনিয়া পাতা ব্যবহার করে মিষ্টি ও ঝাল পিঠা তৈরি করেন। প্রতিটি পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। দৈনিক ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকার বিক্রি হয়। যাবতীয় খরচ বাদে ৫শ থেকে ৬শ টাকা তার আয় হয় বলে জানায়। তিনি আরও এই শীতের শুরুতেই পিঠার চাহিদা এখানে ভাল রয়েছে। পুরো শীত মৌসুম চলবে ওইসব পিঠা বিক্রি। পিঠা ছাড়া তিনি অন্যসময় কলা বিক্রি করেন বলে জানায়। পিঠা তৈরির জন্য উপকরণ বাড়ি থেকে তৈরি করে আনেন। আর এ কাজে তার পরিবারের সদস্যরা সার্বিক ভাবে তাকে সহযোগিতা করছেন। তিনি আর বলেন, কলা থেকে পিঠাতেই ভালো আয় হয় তার। এসব বিক্রিতেই চলছে তার তার জীবন জীবিকা। বর্তমানে তার সংসারে কোন অভাব অনটন নেই বলে জানায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে কিশোরগঞ্জ থেকে আখাউড়ায় আসেন। অভাব অনটনের সংসার হওয়ায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে তাকে প্রথমে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কোন উপায় না পেয়ে জীবন বাঁচাতে কলা বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিন পর শীত মওসুম আসায় শুরু করেন পিঠা বিক্রি। স্বল্প সময়ে তার পিঠার সুনাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে সংসারে অভাব অনটন দুর হতে লাগলো। সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী মো.আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন , শীত এলেই প্রতিদিন বিকালে গরম ভাপা পিঠা খাই। হাসেনের পিঠা বেশ সুস্বাদু। আমাদের মতো অনেকেই খেয়ে তৃপ্তি পায়। পিঠা খেতে আসা মো: আমিরুল ইসলাম, মো. সাব্বির আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আগে আমরা বিকাল হলে হোটেল থেকে অন্য কিছু খেতাম। কিন্তু শীত উপলক্ষে পিঠা বিক্রি শুরু করায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভাপা পিঠা খাই। আমাদের মতো অনেকেই এখান থেকে পিঠা খাই। শিক্ষক মোছা: ফারজানা আক্তার বলেন, সারা দিন পরিশ্রম করার পর বাড়িতে পিঠা বানাতে ইচ্ছা করেনা। তাই এখান থেকে সময় সুযোগ হলেই পিঠা নিয়ে খাই এবং ছেলে মেয়েদের জন্য কিনে নিয়ে যান । সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী আবু ছায়েদ মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সব ধরনের ক্রেতা এখানে আসে পিঠা খেতে ও কিনতে। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই এখানে সেই স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছি।
মালদার পাড়া এলাকার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের মানুষ এখানে পিঠা খেতে আসে। আবার কেউ কেউ বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের জন্য পিঠা কিনে নিয়ে যায়। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই এখানে সেই স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করছি। বিকেলে সময় পেলেই চলে আসি। হাসেনের পিঠা খুব জনপ্রিয় এবং স্বাদ ও ভালো বলে জানায়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১