আপডেট : ২৪ November ২০২১
পেঁয়াজের উন্নত জাত উৎপাদনে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস সহায়তা দেবে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আশা করছি বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফরের অর্জন ও কৃষির সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজ আমাদের দেশে খাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মসলা। ব্যাপক উৎপাদন আমাদের দেশে হয়। সারা পৃথিবীতে পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে। তবে সমস্যা হলো এপ্রিল ও মে মাসে আমাদের দেশে পেঁয়াজ উঠাতে হয়। এ সময়ে দাম অনেক কমে যায়। পেঁয়াজ অত্যন্ত একটি পচনশীল পণ্য। বেশি দিন রাখা যায় না। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ঘাটতি দেখা দেয়৷ এ সময় আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়৷ আমরা যোগাযোগের সুবিধার জন্য ভারত থেকে আমদানি করি। সম্প্রতি অস্বাভাবিক ভাবে শিপমেন্টের খরচ বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নেদারল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারিনি। এ বিষয়টি স্বাভাবিক হলে তখন তারা প্রতিযোগিতামূলক দামেই পেঁয়াজ দেবে। যেটা তারা ২০১৯ ও ২০২০ সালে ১২ হাজার টন দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সমস্যা রয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য পেঁয়াজের উন্নত জাত উৎপাদন ও সংরক্ষণকাল বাড়ানোর প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে নেদারল্যান্ডস। পাশাপাশি আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণেও দেশটি সহায়তা করবে। কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপের যে পেঁয়াজের জাত রয়েছে তারমধ্য থেকে একটি জাত আমাদের দেখিয়েছে। যেটা প্রাকৃতিকভাবে চার থেকে পাঁচ মাস রাখা যাবে। আমরা পেঁয়াজের সে জাতটি আনবো। পেঁয়াজে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবো। ১২ মাস পেঁয়াজ হয় এমন জাত এনেছি। গত বছর আমরা বীজ এনেছি যদিও একটু দেরি হয়েছে। আশা করছি গ্রীষ্মকালেও বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, কৃষির অপার সম্ভবনা রয়েছে। যেটা এখনও সম্পূর্ণ ব্যবহার হয়নি। আমরা এবছর এক হাজার ৬২২ টন পেঁয়াজ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আগামী দুই বছর এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারবো। ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব কৃষি ক্ষেত্রে পড়বে কি না, এ ক্ষেত্রে সরকার কৃষকদের কীভাবে সহয়তা করবে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রভাব তো অবশ্যই পড়বে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এমনি আমাদের কৃষকরা নানান সমস্যায় জর্জরিত। পিক সিজনে তারা ফসলের দাম পান না। সেজন্য কৃষিপণ্য প্রসেসিংয়ের কথা আমরা বলছি, বাণিজ্যিকরণ কিংবা বিদেশে রপ্তানি... বাজারে গিয়ে তারা যাতে ভালো দাম পান। ৪০ শতাংশ সেচ মেশিন বিদ্যুতে চলে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তাদের খুব অসুবিধা হবে না। কিন্তু ডিজেলের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। দেখা যাক আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ট্রেন্ডটা তো কমের দিকে আছে, যদি কমে সরকারও ডিজেলের দাম কমাবে। ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়া ঝামেলা মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এটা নিয়ে বিক্রি করে দেবে। সেচ যন্ত্রের কথা বলে অন্য কাজে ডিজেল ব্যবহার করবে। ডিজেলে সাবসিডি দেওয়া কঠিন হবে। সারের দাম বাড়ানো হবে না জানিয়ে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টার উপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে আমরা একটা বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, সারের দাম ২৩০/২৫০/২৭০ ডলার ছিল, সেটা এখন ৮০০/৯০০ ডলার। চারগুণ বেড়েছে। আমরা সারে ৯০০ কোটি টাকা সাবসিডি (ভর্তুকি) দেই। এটা এবার মনে হয় ২০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত আমাদের বলেছেন, তিনি সারের দাম বাড়াবেন না।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ একটাই সেটা হলো ম্যানুফেকচারিং খাতকে বাড়িয়ে কর্মস্থানের ব্যবস্থা করে মানুষের আয় বাড়ানো। এ বাংলাদেশের জন্য অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, রাস্তা, বন্দর পদ্মা সেতু হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে আমাদের ম্যানুফেকচারিং খাতে শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে। তাহলে আমাদের উৎপাদন বাড়বে যা বিদেশে রপ্তানি করতে পারবো। এগুলো করতে পারলেই দেশ উন্নত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, এসিআই অ্যাগ্রো লিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারী, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চিফ অপারেটিং অফিসার পারভেজ সাইফুল ইসলাম, জেমকন গ্রুপের ডিরেক্টর কাজী ইনাম আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১