বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ November ২০২১

পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া


‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’। হাসান আলী একেবারে শেষ মুহুর্তে ওয়েডের তুলে দেওয়া ক্যাচ লুফে নিতে পারেন নি। এর আগে তিনি বল হাতে ৪৪ রান দেন। তাই বলা যায়, পাকিস্তানের ফাইনালে উঠার পথে প্রধান বাধা ছিলেন হাসান আলী। তবে এটা ক্রিকেট। তাই এককভাবে কাউকে দোষারোপ করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ম্যাচসেরা অজি ব্যাটার ম্যাথু ওয়েড চার-ছয়ের যাদুতে যে অসাধারণ ফিনিশিং দিলেন, তাতে পাকদলের কিছু করার ছিল না, কিছুই করার থাকে না। দারুণ রুদ্ধশ্বাস আর নাটকীয় ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে পাকিস্তানের ৪ উইকেটে ১৭৬ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১ ওভার বাকি থাকতেই করে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান। আগামী রোববার তারা ‘অল-ওশেনিয়া’ ফাইনালে খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

১৭৭ রানের বেশ বড় ধরনের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় অজিরা। দলীয় ১ রানের সময় শাহিন শাহ আফ্রিদির ঐ ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ (০)। তবে দ্বিতীয় জুটিতে অপর ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ বেশ আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকেন। তাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫.৪ ওভারে দলের ৫০ রান পূর্ণ হয়। দলীয় ৫২ রানের মাথায় স্পিনার শাদাব খানের শিকারে পরিনত হন মার্শ। তিনি আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে ২৮ রান করেন। ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তার পুরনো সঙ্গী স্টিভেন স্মিথ। এ জুটিতে আসে ২৫ রান। দলীয় ৭৭ রানের সময় শাদাবের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন স্মিথ (৫)। তার বল তুলে মারতে গিয়ে স্মিথ ক্যাচ তুলে দেন ফখর জামানের হাতে। ওয়ার্নার দারুণ আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন। কিন্তু শাদাবের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ঠিকমতো ব্যাট লাগাতে ব্যর্থ হন। উইকেটকিপার রিজওয়ানের তালুবন্দী হন বিশে^র অন্যতম এই সেরা ওপেনার। ওয়ার্নার ৩০ বলে ৩টি করে চার ও ছয়ে ৪৯ রান করেন। তখন অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ ছিল ৮৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটার বলে খ্যাত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নতুন ব্যাটার হিসেবে মাঠে নেমে সুবিধা করতে পারেন নি। তিনি শাদাবের চতুর্থ শিকারে পরিনত হন। শাদাবের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাক্সওয়েল বিগ শট মারতে গিয়ে হারিস রউফের হাতে ধরা পড়েন। তিনি ১০ বলে ৭ রান করেন। এরপর ষষ্ঠ জুটিতে মোটামুটি আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকেন মার্কাস স্টোনিস ও ম্যাধু ওয়েড। শেষ পর্যন্ত এই জুটি অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। স্টোনিস ৩১ বলে ২টি করে চার ও ছয়ে ৪০ এবং ওয়েড মাত্র ১৭ বলে ২টি চার ও ৪টি ছয়ে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাদাব ২৬ রানে ৪টি এবং আফ্রিদি ৩৫ রানে ১টি উইকেট লাভ করেন।        

এরআগে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন ও ২০০৭ সালের রানার্সআপ পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা কিছুটা ধীরগতির। নো বল, ফ্রি হিট আর ক্যাচ মিসে যত সময় গড়িয়েছে, বেড়েছে পাকিস্তানের রান তোলার গতি। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন ফখর জামান-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। শেষদিকে দারুণ বোলিং করে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় ২০১০ সালের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া। তাতে রানটা যেমন বাড়ার ভাবনা ছিল, বাড়ল না ততটা। পুরো টুর্নামেন্টের মতো এদিনও দারুণ শুরু এনে দেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। উদ্বোধনী জুটিতে ৭১ রান যোগ করেন এই দুজন। ৫ চারে ৩৪ বলে ৩৯ রান করে এডাম জাম্পার বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বাবর ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এরপর আরেক ওপেনার রিজওয়ান জুটি গড়েন ফখর জামানের সঙ্গে। দুজনের জুটিতে আসে ৭২ রান। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫২ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। তবে পাকিস্তানের রানটাকে বড় করার মূল কৃতিত্বটা ফখর জামানের। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৫ রান আসে রিজওয়ানের ব্যাটে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিশেল স্টার্ক ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৩৮ রানে একাই ২টি উইকেট লাভ করেন। অপর পেসার প্যাট কামিন্স ৩০ রানে ১টি উইকেট পান। স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা দারুণ বল করেন। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২২ রানে ১টি উইকেট লাভ করেন। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন হ্যাজেলউড। তিনি ৪ ওভারে ৪৯ রান দেন, আবার কোনো উইকেটও পাননি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় বেশি পাকিস্তানের। গতকালের ম্যাচের আগে ২৩ লড়াইয়ে পাকিস্তানের জয় ১২টি। অজিদের জয় ৯টি। ১টি ম্যাচ টাই ও ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে গতকালের আগে সমান জয় ও হার ছিল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার। ছয়বারের দেখায় তিনটি করে সমান জয় পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিলো পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বকাপে দু’বার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। দু’বারই জয় পায় অজিরা। গ্রুপ পর্বে ৩৪ রানে এবং সেমিফাইনালে ৩ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়া। ২০১২ সালে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারায় পাকিস্তান। ২০১৪ সালে পরের আসরেও জয় পেয়েছিলো পাকিস্তান। ঐবার ১৬ রানে জিতে পাকরা। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালে সুপার টেনের গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ রানের জয় ছিলো অস্ট্রেলিয়ার।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১