আপডেট : ০৭ November ২০২১
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত ঘেষা দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ৫ বছরে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন বিলাসবহুল বাড়ি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। তৈরী করেছেন ‘কামাল গ্রুপ’ নামে একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট। ২০১৬ সালে কামাল হোসেন আওয়াামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন তার সম্পদ বলতে আধা পাকা ছোট বাড়ি ছাড়া আর কোন সম্পদ ছিল না। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই জড়িয়ে পড়েন অবৈধ ব্যবসার সাথে। স্বজন-পরিজন ও সহযোগীসহ তৈরী করেন কামাল গ্রুপ নামে একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট। শুরু করেন গরুর স্লিপ বানিজ্য ও সীমান্তে চোরাচালান বাণিজ্য। গরু পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ওই সিন্ডিকেট বছরের পর বছর অবাধে গরু পাচার করে আসছে। আর চেয়ারম্যান ওইসব গুরুর স্লিপ দিয়ে প্রতি গরুরহাটে আয় করছে লাখ লাখ টাকা। এভাবে এক সময় কামাল গ্রুপ সিন্ডিকেট দহগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ‘কামাল সাম্রাজ্যে’ পরিণত হয়। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যদের রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশেরই ভোটার এনআইডি কার্ড। তাদের ক্ষমতার কাছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন যেন অসহায়। স্থানীয় শাসক দলের নেতাকর্মীদেরও হাতের পুতুল বানিয়ে রেখেছেন তিনি। কেউ ওই সিন্ডিকেটের বিপক্ষে গেলে তাদের দুর্দশার সীমা থাকে না। উশৃংখল বাহিনী পাঠিয়ে হামলা, সহযোগীদের দিয়ে একের পর এক চোরাকারবারি মামলায় ফাঁসানো ও পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল এবং ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দহগ্রামের কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী জানান, ছিটমহল বিনিময়ের মধ্যদিয়ে দহগ্রাম স্বাধীন হলেও আমরা স্বাধীন নই। আমরা সাধারন জনগন কখনো ইচ্ছে করলেই গরু বিক্রি করতে পারি না। চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট করে গরুরহাট নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে। গরু প্রতি বিশহাজার টাকা দিতে হয়। তা না হলে ওই সিন্ডিকেট দুরের কোন হাটে গুরু নিতে দেয় না। বাধ্য হয়ে দহগ্রাম হাটেই গরু বিক্রি করতে হয় । সরেজমিন দহগ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান কামাল হোসেন নিজেই ভারত-বাংলাদেশ চোরাকারবারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর ওই সিন্ডিকেট চোরাই পথে রাতের আঁধারে ভারত থেকে বছরের পর বছর গরু পাচার করে আসছে। নিয়ন্ত্রণ করছে হুন্ডি ব্যবসা। এছাড়া মাদকের বড় বড় চালান পার করে বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এভাবেই ‘কামাল গ্রুপ’ এর নিয়ন্ত্রক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যান। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে যান প্রায় শত কোটি টাকা মালিক। পাটগ্রাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এক একর জমির উপর প্রায় ১০কোটি টাকা ব্যায়ে অনুমোদনহীন নকশা ছাড়াই ৬তলা ভিত্তি দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করেন ‘কামাল টাওয়ার’ নামে উপজেলার সব থেকে দৃষ্টিনন্দন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া বিভাগীয় শহর রংপুর জাহাজ কোম্পানির মোড় এলাকায় কিনেছেন ১৬ শতাংশ জমি। কিনেছেন বাড়ি। রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে এসব বিলাসবহুল প্রাসাদ, রংপুর শহরে জমি ও বাড়ি ছিল না। তার অন্য কোন ব্যবসাও নেই। শুধু গরুর স্লিপ বানিজ্য ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেই তিনি হয়েছেন প্রায় শত কোটি টাকার মালিক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই সম্পদের তিনি কোন কর দেন নি। ইউনিয়নের সাধারন জনগণ বলছেন, দ্রুত ওই চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে না ধরলে আগামীতে মাদক ও চোরাকারবারির ভয়ংকর স্বর্গরাজ্যে পরিনত হবে দেশের ঐতিহ্যবাহী দহগ্রাম ইউনিয়ন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গরুর স্লিপের সিরিয়াল মেইনটেইন করতে সমস্যা হয়। তাই এক দুই হাট স্লিপের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আর আমি কোন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করি না। আমি কোন মাদক ও চোরাচালানের সাথে জড়িত নই। তবে অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকা আয়ের বৈধ কোন ব্যবসা ও উৎসের কথা বলতে পারলেও কথা ঘুরিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, একটি পক্ষ আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমার জনসমর্থন নষ্ট করার চেষ্টা করছে’।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১