আপডেট : ০৩ September ২০২১
ইউসুফ আলী বাচ্চু প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম। যেদিকে তাকাই, শুধু সবুজ আর সবুজ। এই রূপের যেন আর শেষ নেই। এরপরও যারা আমরা জীবিকার তাগিদে ইট-পাথরের গড়া রাজধানী ঢাকায় বাস করি, মাঝে মাঝে কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠি। তখন মন খোঁজে একটু খোলা দিগন্ত, খোঁজে নির্মল সিসামুক্ত বাতাস। সাধারণত আমার যারা সংবাপত্রে বা টেলিভিশনে কাজ করি, একসঙ্গে সবাই ছুটি পাই না। পবিত্র আশুরায় ছুটি ছিল সকল সংবাদপত্রে। এ বছর দিনটি ছিল শুক্রবার। আগের দিন কয়েকজন বন্ধু-কলিগ-বড় ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, ঢাকার আশপাশে কোথাও থেকে ঘুরে আসব। স্বল্প বাজেট এবং সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শেষ করার জন্য নির্ধারণ করা হলো, ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জ জেলার দোহার উপজেলার প্রমত্তা পদ্মার পাড়ে মৈনট ঘাটে যাব। যে কথা, সেই কাজ। আমাদের হেমায়েত ভাই, শাহজাহান সাজু এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম মিলে গাড়ির ব্যবস্থা করলেন। শুক্রবার সকাল ৭টায় আমাদের জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও ‘বাংলাদেশের খবর’ পত্রিকার সালেহীন বাবুর আসতে দেরি হওয়ায় গাড়ি ছাড়ল এক ঘণ্টা পরে। পথিমধ্যে সবাই সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। এতে একটু অন্য রকম অভিজ্ঞতা হলো। বোকা টাইপের লোক মনে করে হোটেলের মালিক নাশতার দাম বেশি চেয়ে বসল। শুরু হলো আমাদের আনন্দভ্রমণ। হেমায়েত ভাইয়ের কৌতুকময় গল্প আর বিভিন্ন আলোচনায় কখন যে রাস্তা শেষ হয়ে গেল, টেরই পেলাম না। পথিমধ্যে গাড়ি থামিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক করম আলী ভাইকে গাড়িতে তুলে নিলাম। পথ শেষ হলো। এবার কী করব, সেই প্ল্যান। শেষে সিদ্ধান্ত হলো, ইঞ্জিনচালিত বোটে পদ্মায় ঘুরব। কিন্তু এখানে ঘটল আরেক বিপত্তি। আবার সেই সালেহীন বাবু, সে তো পানি ভয় পায়। তাকে এক প্রকার জোর করে তোলা হলো বোটে। আর এতে সহযোগিতা করল ‘বাংলাদেশ বুলেটিন’-এর মফস্বল সম্পাদক সাদুল হাসান ভাই। ঘাট থেকে বোট ছাড়ল নয়াপাড়ার দিকে। যে যেমন পারছে ছবি তুলছে, গান গাইছে, নাচানাচি করছে। একসময় অগভীর সৈকত শেষ হলো। এবার পূর্বের জায়গায় ফেরার পালা। নিশ্চয়ই সবাই অবগত আছেন, বর্তমানে ভরা জোয়ারের সময়। ভাটির সময় কিছুটা পানি কমলেও শীতের সময়ের মতো অতটা শুকায় না। এর মধ্যে যে ভয়াল রূপ! যাহোক, এবার বোট ঘোরানের পালা। মাঝি বোট ঘোরালে কিন্তু আবার সেই বাবু, সামান্য তুফানে সে পড়ি-মরি অবস্থা। সে আমাকে এমনভাবে শক্ত করে ধরেছে যে, আমার হাতের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আস্তে আস্তে তুফান কমল এবং কিছু সময়ের মধ্যে আমরা গন্তব্যে পৌঁছলাম। শুক্রবার হওয়ায় নামাজের সময় হয়ে গেল। কেউ কেউ নামাজে গেল, আর বাকিরা নৌকায়। যে হোটেলে আমাদের দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, হেঁটে সেখানে পৌঁছলাম। আমি এবং খায়রুল আলম আগেই পানিতে নামার মতো পোশাক সঙ্গে নিয়েছিলাম। সেগুলো পরে পদ্মায় নেমে পড়লাম। জীবনের প্রথম পদ্মায় নামা—এ এক আলাদা শিহরন। আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলো সোহেল রানা। আর যারা সুইমিং পোশাক নেননি, তাদের কী যে আফসোস! প্রায় দুই ঘণ্টা পানিতে ছিলাম। বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তোলা হলো। এবার প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে, তাই খেতে বসা ‘হোটেল নাইওরি’তে। খাবারের আইটেম, সে তো অসাধারণ বিষয়—পদ্মার তাজা ইলিশভাজা, ইলিশের ডিমভাজা, সবজি, ভাজি, কয়েক ধরনের ভরতা, ডাল। দুপুরের খাবারের স্বাদ আসলে মনে রাখার মতো। এই সবকিছুতে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন স্থানীয় দুজন সাংবাদিক—একজনের নাম জুবায়ের, আর অন্যজনের নাম মনে পড়ছে না। সঙ্গে আরো ছিলেন স্থানীয় দুজন মুক্তিযোদ্ধা, অবশ্য তারা করম আলী ভাইয়ের বন্ধু। খেতে খেতে সিদ্ধান্ত হলো, মাওয়া ঘাটে যাব। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে পাব—এ এক অন্য রকম ভালো লাগা। খাওয়ার হোটেল থেকে স্পিডবোটে মূল ঘাটে এলাম। এখানেও আরেক দফা ছবি তোলা হলো। ঘাট থেকে রওনা হয়ে করম আলী ভাইয়ের সৌজন্যে কার্তিকপুর বাজারে ঐ অঞ্চলের বিখ্যাত মিষ্টি ‘জলসিরা’ খেলাম। আসলেই বিখ্যাত এবং মনে রাখার মতো স্বাদ। মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গলে যায়। চোখ আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে আসে, যেন অমৃত মুখে নিয়েছি। মিষ্টি খাওয়ার পালা শেষ। এবার আবার পথ চলা। এরপর যাত্রা বিরতি শ্রীনগর প্রেস ক্লাবে। সেখানে অনেক সমাদর। প্রায় সব নেতাই উপস্থিত ছিলেন। এখানেও আপ্যায়ন করা হলো খাঁটি ছানা-রসগোল্লা-পুডিং দিয়ে। মজার ব্যাপার হলো, এতে মিষ্টির পরিমাণ ছিল একেবারেই সামান্য। আপ্যায়ন পর্ব শেষে ছবি তোলার পালা। প্রেস ক্লাবের সামনে এবং ক্লাবের ভেতরে বিভিন্ন পোজে ছবি তোলা হলো। পুনরায় পদ্মা সেতুর উদ্দেশে যাত্রা। অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছলাম। প্রথমেই পদ্মাপাড়ে নেমে দেখলাম, সেতুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল এবং তাদের থাকার জন্য জাহাজ। সেখানে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যমামা বিদায় জানাল। আমরাও আমাদের গন্তব্যে ফেরার জন্য পা চালিয়ে গাড়ির কাছে এলাম। এরপর সেই পুরোনো ঠিকানায় রওনা হলাম এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে বাসায় পৌঁছলাম। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল, এই সারাদিনের ভ্রমণে কারো কোনো ব্যাপারে দ্বিমত ছিল না। এই ভ্রমণে আমরা যারা ছিলাম—খায়রুল আলম টিম লিডার, হেমায়েত হোসেন, শাহজাহান সাজু, ইউসুফ আলী বাচ্চু, সালেহীন বাবু, সোহেল রানা, আবদুল মজিদ, মিজান রহমান, মুন্না, সাদুল হাসান, সফিউল হাসান।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১