আপডেট : ৩১ August ২০২১
এক সময় সরকারের বহু খাস সম্পত্তি ছিল মানুষের জবর দখলে। কখনো কখনো বন বিভাগের উদ্ধার তৎপরতায় সেগুলো উদ্ধার হয়েছে। ফের কৌশলে জবর দখলে নেয় মানুষ। এমনি নানা বিপত্তি আর প্রতিকূল অবস্থার ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০ হেক্টর বনের জমি উদ্ধার করেছেন শ্রীপুর রেঞ্জের বিট অফিসার সজীব মজুমদার ও তার সঙ্গীয় বন বিভাগের লোকজন । এ সময় বন বিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের নিরলস সহযোগিতায় এ সাফল্য ফিরেছে তাদের কাজে। তবে সব সাফল্যের ভিরে ভিন্ন এক সফলতার চিত্র ফুটে উঠেছে উদ্ধার হওয়া বনের জমিতে। সুফল আর সজীবের প্রচেষ্টায় বনে ফিরছে নতুন এক প্রাণের স্পন্দন। সে সব জমিতে শোভা পাচ্ছে বন থেকে হারিয়ে যাওয়া বহু ওষুধীগুনে ভরা প্রায় বিলুপ্ত ত্রিশ পঁয়ত্রিশ প্রজাতির গাছপালা। যার ফলে আগামীর দিনে বন ফিরবে নতুন রূপে। সেই সঙ্গে বনে ফিরবে ভিন্ন এক প্রাণের গতি। জানা যায়,২০১৯ সালের শেষের দিকে শ্রীপুর সদর বিট অফিসার হিসাবে যোগদান করেন নতুন এ কর্মস্থলে সজিব মজুমদার। শ্রীপুর উপজেলা সাধারণত শিল্পাঞ্চল হিসাবেই বেশি পরিচিত। নব্বই দশকের পর ক্রমান্নয়ে শিল্প বিপ্লব ঘটতে থাকে দেশের সমৃদ্ধ ও উঁচু জায়গা হিসাবে পরিচিত এ অঞ্চলে। যেখানে বন্যাসহ প্রাকৃতিক দু্র্যোগ খুবই কম। আর সে জন্যই শিল্প মালিকদের নজর এ অঞ্চলের উঁচু ভুমির দিকে। শিল্প উন্নয়নের ফলে বনের জমি আস্তে আস্তে বেহাত হতে থাকে। দুই দশক পর যার হিসাব কয়েকশ একর। তবে ইতোমধ্যে বনবিভাগের লোকজন সাধ্যমত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। উদ্ধারও করেছে বনের জমি। আবার অনেক সময় প্রভাবশালীদের খুশি করে বনের জমি বেহাত হতে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিরুদ্ধে। তবে শত প্রতিকুলতার ভিতরে থেকেই শ্রীপুর সদর বিট অফিসার তাঁর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৭০ হেক্টর জমি উদ্ধার করেন। এতে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে সে সব জমিতে বিশ্ব ব্যাংকের সুফল নামের একটি উন্নয়ন প্রকল্প বন বিভাগের সঙ্গে মিলে দুর্লভ গাছের বাগান সৃজনের কাজ শুরু করে। তাতে বনে নতুন প্রাণের সুর বাজতে থাকে। সরেজমিনে বাউনি,পটকা, এলাকায় গেলে চোখে পড়ে উদ্ধার হওয়া জমিতে নানা জাতের বনজ, ওষুধি ও ফলজ গাছের চারা রোপন করা জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা চলছে। গাছগুলো যত্ন পেয়ে দারুনভাবে বেড়ে উঠছে। গাছের পরিচর্যার জন্য লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল বা বিকালে বন অফিসের লোকজন বাগানের খোঁজ খবর নিতে এলাকায় যান।এসব বাগানে বকুল, ডেউয়া, জলপাই, কাঠবাদাম, জাম, চিকরাশি, জরুন, পলাশ, বহেরা, নিম, হড়িতকি, হলুদ, সেগুন, শাল, রক্তচন্দন, অশুর, চাপালিশ, কৃষ্ণচূড়া, তেঁতুল, বাজনা ও কড়ই গাছের চারা চোখে পড়ে। এ সকল বৃক্ষের সমন্বয়ে বনে ভিন্ন নান্দনিকতা ফিরছে। সৃজিত বাগান দেখবালের দায়িত্বে থাকা কর্মী মহসিন মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া জমিতে চারা রোপনের পর থেকেই আমি পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছি। গাছের খুঁটি লাগানো,বাগানের বেড়া তৈরি,গাছের গোড়ার ঘাস নিড়ানোসহ যাবতীয় যত্ন করা হয় নিয়মিত। আশপাশের মানুষের গরু ছাগল যেন চারা নষ্ট করতে না পারে সে জন্য পাহারা দেওয়া হয়। তিনি বলেন প্রতিদিন কোনো না কোনো এক বেলাতে ফরেস্ট অফিসের লোকজন বাগানের খোঁজ নিতে চলে আসেন। শ্রীপুর সদর বিট অফিসার সজিব মজুমদার বলেন, গোসিংগা ইউনিয়নের বাউনি মৌজার বাউনী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ৫ হেক্টর, পটকা মৌজার ২৫ হেক্টর বিন্দুবাড়ি এলাকায় ১৫ হেক্টরসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ৭০ হেক্টর বা প্রায় ৫শ বিঘা জমি জবরদখল হতে উদ্ধার করা হয়েছে । পরে বেশ কিছু জমিতে ত্রিশ পঁয়ত্রিশ জাতের ফলজ ওষুধি ও বনজ গাছের চারা রোপন করা হয়েছে । তিনি জানান, বন থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দুর্লভ গাছ বনে ফিরবে এ সৃজনের মধ্য দিয়ে। সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে বিস্ময়কর এক উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে যা আগামীতে মানুষ ও প্রকৃতির জন্য উত্তম সহায়ক হবে। এ সৃজিত বাগান বড় হলে বনের বাগানে ভিন্ন এক নান্দনিকতা ফিরে আসবে বলে আশা করছি। শ্রীপুর রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব জানান, দুই বছর ধরে সুফল নামের এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এরি মধ্যে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু বনের জমির মধ্যে বাগান সৃজন করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সুফল প্রকল্প ও বন বিভাগের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বনে রোপন করা চারাগুলো বেড়ে উঠছে উপযুক্ত যত্নের মাধ্যমে। ব্যতিক্রমী এ গাছগুলো বনে একটি ভিন্ন রকমের সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১