বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ August ২০২১

বঙ্গবন্ধু হত্যায় ৫০ বছর পিছিয়েছে বাংলাদেশ: ম‍ুক্তি


বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেছেন, সেদিন ১৫ আগ্ট শুধু বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে ৫০ বছর পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। সেই সৈরাচর শ্বাসনের সময় আমরা গল্প শুনেছি কি পরিমান অত্যাচার আর বর্বরোচিত নির্যাতন হয়েছে বাঙ্গালীদের ওপর। কোথাও উন্নয়ন নাই কোথাও শিক্ষার কোন আলো ছিলো না। সব জায়গায় পিছিয়ে পড়েছিলো দেশ।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ১০ই জানুয়ারি প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বাংলার মাটি স্পর্শ করেন বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেই দিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিলো। সেই বৃষ্টির সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার চোখের জল মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলো। তিনি বলেছিলেন আমার বাবা কই আমার মা কই আমার ভাই কই আমার ছোট ভাই রাসেল কই। উনাকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসায় যেতে দেওয়া হয়নি। পরে উনি ধাপে ধাপে বাংলার জনগনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। উনি ৩ বছর পর ধানমন্ডির সেই বাসায় যেতে পারেন। তিনি সেসব সহ্য করে সেই শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ী বাজারে জাতীয় শোক দিবস পালন ও গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে ওই কথাগুলো বলেন তিনি। 

বিয়াঘাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিমুদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে ও বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হকের সার্বিক তত্বাবধায়নে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস মুঠোফোনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রহিম মোল্লা, চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্টু, খুবজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু, আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ, কল্লোল ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি মুক্তাদিরুল ইসলাম মিন্টু, কল্লোল ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক মিল্টন উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা মো. আলমগীর, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুবাশিষ কবির, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ মো. আব্দুল কুদ্দুস মুঠোফোনের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর মহান কীর্তি ও আত্নজীবনী নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

জনগণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক অত্যাচার, পরিশ্রম, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে গড়ে তুলেছেন। উপহার দিয়েছেন একটি উন্নয়নশীল দেশ। তিনি বাংলার জনগনের জন্য হাটি হাটি পা পা করে ১৯৮১ সাল থেকে আজকের মাথা উচু করে তোলার বাংলাদেশ আপনাদেরকে উপহার দিয়েছেন। আমরা এখন মাথা উঁচু করে বলতে পারি আমারা বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের নাগরিক। যেখানে বঙ্গবন্ধুর নামে সাবমেরিন তৈরি হয়েছে। সেই বাংলাদেশ যেখানে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হচ্ছে। সেই বাংলাদেশ যেখানে আমার সন্তান বছরের প্রথম দিনে বই পায়। সেই বাংলাদেশ যেখানে মেট্রোরেল হচ্ছে। রুপপুরের বিদ্যুৎ উন্নয়ন হচ্ছে। সেই বাংলাদেশ নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। এসব সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসার জন্য।

পরিশেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ ৭৫ এর ১৫ আগস্টে তাঁদের পরিবারের সকল শহীদদের ও ঘনিষ্ঠ জনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জনগণের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১