বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ August ২০২১

ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

সাগর পাড়ে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন রানওয়ে


দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়ে হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। বর্তমানের নয় হাজার ফুটের দীর্ঘ রানওয়েকে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩শ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করতে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ব্লক তৈরি করে বাড়ানো হচ্ছে রানওয়ে। এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান।

বেবিচক বলছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ঘিরে তৈরি হবে এভিয়েশনের হাব। আর সারাবিশ্ব থেকে সু-পরিসর বিমান কক্সবাজারে ওঠানামা করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী।

আগামীকাল রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই রানওয়ে সম্প্রসারণকে ঘিরে নানা রঙে সেজেছে কক্সবাজার শহর। মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে এলইডি স্ক্রিন। যাতে দেখানো হবে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান। ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর।

কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট। এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ ফুটে। সম্প্রসারিত হতে যাওয়া রানওয়ের মধ্যে ১ হাজার ৩০০ ফুটই থাকবে সমুদ্রের ওপর। প্রথমে সাগরের নিচে স্থাপন করা হবে জিওটিউব, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে পানি। শুরু হবে খনন প্রক্রিয়া ও বালু ভরাট কার্যক্রম।

এরপর প্রাথমিক পর্যায়ে হতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে হবে বালুর স্তর বিন্যাস। চূড়ান্ত পর্যায়ে হবে রানওয়ের জন্য বালুর স্তর বিন্যাস। তারপর হবে পাথুরে স্তর বিন্যাস এবং নিচ্ছিদ্রকরণ, পিচ ঢালাই ও নিচ্ছিদ্রকরণ। এভাবেই তৈরি হবে রানওয়ে এবং প্রাথমিক সমুদ্র হতে রক্ষাকারী বাঁধ। এর পরপরই হবে রানওয়ের শোভাবর্ধন ও নির্দেশক বাতি স্থাপন। সমুদ্র তলদেশের উপর ব্লক তৈরি করে; এর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা। দেশে এই প্রথম কোন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায়। সমুদ্রের কিছু অংশ ভরাট করে সেখানে নির্মাণ করা হবে রানওয়ে। সমুদ্র ছুঁয়ে আকাশে উড়বে বিমান।

কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে; দেশের প্রথম সবচেয়ে বড় রানওয়ে হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের। এই রানওয়ে হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানও এখানে নামতে পারবে।

কক্সবাজার বিমনাবন্দরের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ে ৯ হাজার ফুট। যেটি বর্ধিত হয়ে হবে ১০ হাজার ৭’শ ফুটে। যা বাংলাদেশে প্রথম সবচেয়ে বড় রানওয়ে। এখানে বড় বড় বোয়িং এবং বিশ্বের বড় বড় বিমানগুলোও এই রানওয়েতে নামতে পারবে। আশা করছি; আগামী বছরই কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যাত্রা শুরু করবে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নয় হাজার ফুট দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে। এটি ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হচ্ছে এই রানওয়ে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠা-নামা করতে পারবে। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ন করছে বেবিচক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। রানওয়ে সম্প্রসারিত হলে দেশের পর্যটনসহ অর্থখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য আনন্দের। এছাড়াও এ বিমানবন্দরকে ঘিরে একটি এভিয়েশন হাব তৈরি হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান আরও বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলেই এখানে ওঠা-নামা করতে পারবে ৩৮০-এর মতো সুপরিসর এয়ারবাস।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১