আপডেট : ০৯ August ২০২১
নুরুল আজিজ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ শিল্প ও কলকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা নারায়ণগঞ্জ। এখানে অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অহরহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটেই চলছে। কোনো ঘটনা অল্প ক্ষতিতেই হচ্ছে সমাপ্ত। আবার কিছু ঘটনা তৈরি করছে ভয়াবহতার গল্প। চলতি বছরের শুরু থেকে মাত্র সাত মাসে ৪১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ ঘটেছে বেদনাদায়ক মৃত্যু। এসব ঘটনায় পুড়েছে হাজারো পরিবারের সোনালি স্বপ্ন। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের প্রথম সাত মাসে জেলাজুড়ে ৪১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোট ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা। গত বছর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল ৫৯৪ টি। গতবারের তুলনায় এ বছরে মাসিক অগ্নিকাণ্ডের হার বেড়েছে। সেইসঙ্গে হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের সাত মাসেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ১০৫ জন এবং নিহত হয় ৬১ জন। ২০১৯ সালে আহত হয়েছিল ২৭ জন এবং নিহত হয় পাঁচজন। ২০২০ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত হয় ১৬ জন এবং নিহত হয়েছিল ৩৯ জন। অগ্নিকাণ্ডের ৯০ শতাংশ অগ্নিকা্লের ঘটনায় চারটি গুরুতর কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হলো—বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলার আগুন ও সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো ও গ্যাস লাইনের আগুন। সূত্রমতে, জুলাই মাসে ৩৪টি অগ্নিকাণ্ডে আহত ৪৬ জন এবং ৫৪ জন নিহত হন। জুন মাসে ৩৪টি অগ্নিকাণ্ডে দুই আহত ও একজন নিহত হন। মে মাসে ৪৮টি অগ্নিকাণ্ডে আহত ২০ জন। এপ্রিল মাসে ৮৩ টি অগ্নিকাণ্ডে আহত ১৫ জন এবং নিহত হয় দুজন। মার্চ মাসে ৮৩ টি অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৬টি অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজন ও নিহত দুজন। জানুয়ারি মাসে ৬২টি অগ্নিকাণ্ডে আহত আটজন ও নিহত হয় দুজন। গত মাসের ৮ জুলাই রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার সজিব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকা্লের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এদের মধ্যে ৪৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় ১০ জুলাই হত্যা মামলা করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। এ মামলায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনার রেস কাটার আগেই আগস্ট মাসের শুরুতে রূপগঞ্জে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪ আগস্ট উপজেলার তারাবো পৌরসভার মৈকুলী এলাকার এম হোসেন কটন অ্যান্ড স্পিনিং মিলের ইউনাইটেড লেদারের ক্যামিকেলের গোডাউনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জেলায় মাত্রাতিরিক্ত অগ্নিকা্লের কারণ ও সমাধানের বিষয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ শিল্প পরিপূর্ণ একটি নগরী। এখানে ব্যাপক পরিসরে কলকারখানার কার্যক্রম চলে। এ ধরনের অঞ্চলে পর্যাপ্ত সর্তকতা অবলম্বন না করা হলে প্রচুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ বছরের গত সাত মাসে সর্বাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস লাইনের কারণে। বৈদ্যুৎ ও গ্যাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, তিন মাস পরপর বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক আছে কিনা তদারকি করা। মানুষের মাঝে সচেতনতার পাশাপাশি বহুতল ভবন ও সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এসব ঘটনা সংখ্যা হ্রাস পাবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১