আপডেট : ০৯ August ২০২১
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সিলেটে শুরু হওয়া গণটিকাদান ক্যাম্পেইনের তৃতীয় ও শেষ দিন গতকাল সোমবারও নগরীর সব কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। টিকা নিতে আগ্রহীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাঙ্খিত ভ্যাুকসিন গ্রহণ করছেন। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়েও নানা কারণে টিকা গ্রহণ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। টিকা না পাওয়া লোকজনের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকা প্রদান করায় সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত টিকা নিতে পারেননি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে তাদেরকে লাইনে দাঁড় করানো কেন হলো-এমন প্রশ্নও করেন তারা। তবে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে কাউকে্ই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। করোনা থেকে রক্ষা পেতে টিকা নিতে এসো উল্টো অধিক হারে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। গত শনিবার থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ডে ৮১টি কেন্দ্রে শুরু হয় গণটিকাদান ক্যাম্পেইন। পূর্বঘোষিত তিন দিনব্যাপী চলা এ ক্যা ম্পেইন শেষ হবে আজ সোমবার। গত দুদিনের মতো গতকালও বিভিন্ন কেন্দ্রে ভ্যাকসিন না পেয়ে অনেহককে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ফেরার পথে তাদের অভিযোগ কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকা প্রদান করায় সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত টিকা নিতে পারেননি তারা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গত তিনদিন শত শত মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন সিলেটের টিকা প্রদান কেন্দ্রগুলোতে। তবে অনেক কেন্দ্রে টিকা ফুরিয়ে যাওয়া, টিকা নিতে ভুল কেন্দ্রে যাওয়া ছাড়াও ২৫ বছরের নিচের ব্যক্তিদের ভিড় করতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা না পেয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ওয়ার্ডের ভোটার না হওয়া অনেককে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে অনেকের। নগরীর একাধিক ওয়ার্ডের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিলেটের টিকা কেন্দ্রগুলোতে আগে থেকে নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি নতুন করে নিবন্ধন করে টিকা নেওয়ার সুযোগ ছিল। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসা ২৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা টিকা গ্রহণ করতে পেরেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে মধ্যবয়সী নারীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। তবে টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল না। এছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে দুপুরের মধ্যে টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকে টিকা না পেয়ে ফিরে যান। টিকা নেয়ার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ গ্রহীতারা বলেন, আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এখানে এসেছি। এসে নিবন্ধন করেছি। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। সিরিয়াল এলে টিকা দিতে পারব। আমাদের মতো এভাবে ভেতরে শত শত নারী পুরুষ টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। সরেজমিন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিরাবাজারের বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় বাইরে অনেক মানুষের ভিড়। ভিতরে ৩৫০ জন ঢোকানোর পর বাইরে সিরিয়ালে আরও যারা দাঁড়িয়েছিলেন তাদের বলা হয় সিরিয়াল শেষ, এখন আর কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেয়া হবে না। এ কথা শুনে লাইনে দাঁড়ানো অপেক্ষমাণ টিকা গ্রহীতা ফিরে যান। দীর্ঘক্ষণ লাইনেন থাকার পর টিকা না পেয়ে ফিরে যাওয়া সামিয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, সকাল থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি, রোদের মধ্যে এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম। আর এখন জানানো হচ্ছে আর কাউকেে ভিতরে ঢুকানো হবে না, টিকা শেষ। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাকে এতক্ষণ লাইনেক দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে হলো কেন? একই অবস্থা ১৫ নং ওয়ার্ডের মিরাবাজার শাহজালাল জামিয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে। নগরীর যতরপুর এলাকার জিল্লুর রহমান জানান, তিনি বেলা ৯টার সময় কেন্দ্রে এসেছিলেন টিকা দিতে। এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু টিকার স্বল্পতার কারণে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা দিতে পারেননি। এদিকে সিলেট নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিল গণটিকা গ্রহণেচ্ছু মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ভিড় সামাল দিতে স্বেচ্ছাসেবী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত হয়েছে। আবার ভ্যাকসিন নিতে না পেরে গণটিকা গ্রহণেচ্ছু অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সিসিকের কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, করোনার টিকা গ্রহণে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ কারণে সকল টিকাদান কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতাদের ভিড় লক্ষণীয় ছিল। তারা নিজ নিজ ওয়ার্ডের বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে আগেই নিবন্ধন কার্যক্রম করে নিয়েছিলেন। এর বাইরে অনেকে কেন্দ্রে সরাসরি নিবন্ধন করে টিকা নিতে পেরেছেন। তবে টিকার পরিমাণ কম থাকায় অনেককেই টিকা না নিয়ে কেন্দ্র থেকে ফেরত যেতে হয়েছে। তবে তাদের হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন কাউন্সিেলররা। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার কেন্দ্রেগুলোতে লোকজনের ভিড় বেশি। আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ জনের টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা নিয়েছি। যেহেতু গ্রহীতার সংখ্যা বেশি, এ জন্য তাদের কথা চিন্তায় রেখে কেন্দ্রভেদে অতিরিক্ত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সে সুবাদে সিলেট নগরীর ৮১টি কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা টিকা দিতে পারেননি, তাদের হতাশার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা দিতে পারবেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১