বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৮ August ২০২১

শিল্পী অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের গ্রামের ইতি কথা (পাঁচ)


ভাস্কর শিল্পী আইভি জামান

 

হামিদুজ্জামানের স্কুল জীবনের স্মৃতি, শহীদি  মসজিদে বাবার সাথে যাওয়া এবং ছবি আঁকা। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পকলা চর্চার পুরোধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আমাদের গর্ব ও দেশের অহংকার তাঁর  সংস্পর্শে এসে চারুকলায় ভর্তি। পরীক্ষার সময়ের পরে এসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পাওয়া।

ছবিতে অস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পত্রিক নিবাস। ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃত ‘রায় পরিবার’  আমাদের গর্ব। এ পরিবারের উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায় তাঁদের সাহিত্যকর্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। শহীদি মসজিদের, বনগ্রাম আনন্দ কিশোর হাই স্কুলের ছবি। বনগ্রামের জমিদার আনন্দ কিশোর রায় চৌধুরীর একত্রিশ ডিসেম্বর, উনিশ বারো সালে ‘বনগ্রাম আনন্দ কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম উদ্যোক্তা ছিলেন বনগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি তারক নারায়ণ  চৌধুরী ও রাম দেব। পরে অর্থায়ন করেন আনন্দ কিশোর রায় চৌধুরী। বাংলাদেশের হাজারো গ্রামের মধ্যে একটি সাধারণ গ্রাম। সেখানে আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে একটি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যখন অভাব ছিল নিত্যদিনের সাথী। মানুষের কাছে পয়সা ছিল না। রাস্তাঘাটে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না। অবশ্য সমগ্র ভারতবর্ষে গ্রামে এই অবস্থা বিরাজ করছিল। তখন এদের মধ্যে ছিল শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোর প্রবল  আকাঙ্ক্ষা। ছায়াঘেরা, পাখি ডাকা অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত বনগ্রাম আনন্দ কিশোর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই স্কুল সৃষ্টি করেছে অনেক জ্ঞানী-গুণী-মনীষী-বুদ্ধিজীবীদের। সৃষ্টি করেছে হামিদুজ্জামানকে। হামিদুজ্জামান বনগ্রাম আনন্দ কিশোর হাই স্কুলে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় বাবা তাকে পাইলট কলম কিনে দেন। হামিদুজ্জামান সর্বদাই পকেটে রাখেন হাত ছাড়া করে না। এক বিকেলে পুকুরপাড়ের এক গর্ত পার হওয়ার জন্য লাফ দেন। কলমটি কখন যে পানিতে পড়ে ডুবে যায়, হামিদুজজামান বুঝতেই  পারে না। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কলমটি পাওয়া যায়নি। মহাবিপদ বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় । সন্ধ্যা হয়েছে বাড়িতে ঢোকার সাহস হচ্ছে না। কিন্তু বিপদ জেনেও একটা সময়ের ঢুকতে যেয়ে বাবার সাথে সামনাসামনি হয়ে যায় । বিপদ বুঝে আগেই বলে ফেলে কলমটি হারানো কথা। বাবা চুপচাপ থাকলেন রাগও করলে না আবার খুশিও হলেন না। কিন্তু পরদিনই আবার পাইলট কলম কিনে দেন। হামিদুজ্জামানের পৃথিবী ছিল মামার বাড়ি ও স্কুল । দশম শ্রেণিতে উঠার পর বাবা কয়েকবার কিশোরগঞ্জ জেলায় বেড়াতে নেন। একসময় হামিদুজ্জামানকে বেশ কিছু বই কেনার জন্য বাবা কিশোরগঞ্জ নিয়ে যান এবং শখ করে রং তুলি ও কিনে দেন এবং তিনি মসজিদের ছবি আঁকতে বলেন। ছেলের ছবি আঁকার উৎসাহ দেখে বাবা সহযোগিতা করেন। তিনি শহীদি মসজিদের উইভিং ফ্যাক্টরির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। হামিদুজ্জামান তাই বাবার সাথে বার বার পাঠাগার ও বইয়ের দোকানে যাওয়ার সুযোগ পায়। সেখানে কিশোরগঞ্জ বড় পাবলিক লাইব্রেরিতে ও পড়তে যেত। হামিদুজ্জামান শহীদি মসজিদের ছবি আঁকলেন এবং বাবা সহ মসজিদের ইমাম সাহেবকে উপহার দিলেন। হামিদুজ্জামান উনিশ-শ বাষট্টি সালে স্কুল ফাইনাল দিয়ে তাঁর বাবা তাঁকে ভৈরবের হাজী হাসমত কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান। কিন্তু তিনি এতে মন দিতে পারছিল না। পরে তিনি কিছু দিন ক্লাশ করার পর  বাবার সাথে ঢাকা চলে আসেন। চারুকলায় ভর্তি পরীক্ষার অংশগ্রহণ করার জন্য। তখন ভর্তি পরীক্ষার অংশগ্রহণ করার সময় শেষ। হামিদুজ্জামানের স্কুলে পড়ার সময় স্কুলের কাছেই ছিল  বিখ্যাত লেখক নীরদচন্দ্র নাথ চৌধুরীর বাড়ি এবং তার পাশের গ্রাম গচিহাটায়  ছিল। ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদারের বাড়ি। ওই সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের  জীবন কথা শুনে বড় হওয়ার প্রবল ইচ্ছা শক্তি জাগে। শৈশবকালে পারিপার্শ্বিকতা ও প্রকৃতিকে উপলব্ধি করার সংবেদনশীল মন তাঁকে অজান্তেই চারুকলার দিকে আকৃষ্ট করে তুলেছিল। গ্রামের স্বচ্ছ ও সুন্দর বৃক্ষরাজি ও পরিবেশ তাঁর মনে স্বপ্ন সৃষ্টি করে। বাবা এসব উপলব্ধি করেন। হামিদুজ্জামানকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এ দেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী। তিনি হামিদুজ্জামান খানের সাথে কথা বলেন এবং তিনি পরদিনই চারুকলায় ভর্তির অনুমতি দেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১