আপডেট : ০১ August ২০২১
পৃথিবীতে মহামারি (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাস ভয়াল থাবা বসিয়েছে। মানুষের নিত্যদিনের কাজে নেমে পড়েছে স্থবিরতা। ভয়ে অনেকেই দৈনন্দিন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে অর্থ ও মানসিক কষ্টে জীবন যাপন করছেন কর্মঠ মানুষগুলো। আমাদের দেশেও সে থাবা আরো প্রকোট আকার ধারণ করেছে। তবে সকল ভয় আর শঙ্কাকে মেনে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে অনেকেই পরিশ্রম করে ভিন্ন উদাহরণও সৃষ্টি করেছেন। এমনি একজন যুবলীগ নেতা সারোয়ার জাহান সাগর। সে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের সামছুল হকের ছেলে। তিনি এ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সে এই মহামারি করোনাকালে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করে পেয়েছেন ব্যতিক্রমি সফলতার চূড়া। দুই বিঘা জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে পেয়েছেন ব্যাপক সাফল্য। ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালে নয়ন জুড়িয়ে যায় ঝুলন্ত হলুদ সবুজ তরমুজ দেখে। আশপাশের মানুষ নান্দনিক সৌন্দর্যের তরমুজ দেখতে এসে সাধ্য মতো কিনে নিচ্ছে বাড়ির জন্য। এরি মধ্যে বিক্রি চলছে নিয়মিত । সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ক্ষেত থেকে নিজ হাতে তরমুজ তুলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ মতো কিনে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, আমাদের আশপাশে বিভিন্ন পোশাক কারখানা রয়েছে। এটা শিল্পাঞ্চল খ্যাত এলাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানাও রয়েছে এ অঞ্চলে। বেশির ভাগ মানুষ বাসা ভাড়া আর অন্যান্য ব্যবসাপাতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বাসা ভাড়া থেকেই আসে সিংহভাগ আয়। কেউ তেমন করে কৃষির প্রতি নজর দেননা। তবে সারোয়ার জাহান ভিন্ন শখের মানুষ। তার কৃষির প্রতি দারুন দরদ রয়েছে। তারা পারিবারিক ভাবে ঐতিহ্যবাহী কৃষি পরিবার। তারা দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সারোয়ার সবার বড়। তাঁর দাদাও একজন শৌখিন কৃষক ছিলেন। অনেক সুন্দর সুন্দর ফসল আবাদ করার কারনে তার দাদা এলাকায় একজন আদর্শ কৃষক হিসাবে পরিচিত ছিলেন । দাদার কৃষি প্রেমই হয়ত তাকে কৃষির প্রতি আগ্রহী করেছে। সে আগ্রহে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে পেয়েছে ব্যাপক সাফল্য। আমরাও দেখে দারুন খুশি। তিনি বলেন, আমার সব খরচ বাদে ১ লক্ষ টাকার বেশি মুনাফা হবে বলে আশা করছি। তিনি আরো বলেন অলস বেকার সময় না কাটিয়ে বেকার যুবক যুবতিরা কৃষিতে মন দিলে দেশ ও নিজের সম্পদ বাড়বে। তাতে আয়ের সাথে সাথে শরীর ও মন ভালো থাকবে কাজের ব্যস্ততায়। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এস এম মূয়ীদুল হাসান,জানান সম্প্রতি এ জাতের তরমুজ চাষে কৃষকের পাশাপাশি সৌখিন চাষিরা আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এতে বীজের একটা অপ্রতুলতা রয়েছে। খেতে সুমিষ্ট এ ফলটি নতুন হওয়ায় বীজের সংকট সহসায় কাটছেনা। কৃষি বিভাগ চেষ্টা করছে যত দ্রুত সম্বব কৃষকদের হাতের নাগালে বীজ পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন এ তরমুজ সারা বছরই চাষ করা চলে। বিশেষ করে সিজনাল তরমুজ বাজারে না থাকলেও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ পাওয়া যায়। এতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারে কৃষক বা চাষিরা। এতে পটাশিয়াম, খনিজ লবন,জিঙ্কসহ বিভিন্ন খাদ্যগুণ রয়েছে। তিনি জানান, তরমুজে ৮০ শতাংশের বেশি পানি থাকায় শরীরের পানি শুন্যতা রোধে দারুন কার্যকর এ তরমুজ। দেখতে সুন্দর ও খেতে সুমিষ্ট হওয়াতে ক্রেতাও আছে বেশ।
তরমুজ চাষ করা যুবলীগ নেতা সারোয়ার জাহান সাগর জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির কারনে রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড নেই। ব্যবসা বানিজ্যও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, বসে বসে সময় কাটছিল না। অলস সময় দুর করতে এক সময় গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে আগ্রহ জন্ম নিল। চিন্তা করলাম কৃষি কাজে সময়টাও কাটবে মানসিক অশান্তিটাও কাটবে কৃষির ব্যস্ততায়। করোনার অনাকাঙ্খিত ভয় থেকে দুরে থাকতেই কৃষিতে মনোনিবেশ করেছি। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ৩ হাজার পিস গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে রোপন করি। এর মধ্যে ২'শ সবুজ রঙের আর বাকীসব হলুদ জাতের তরমুজ বীজ। এরি মধ্যে দুই হাজার আটশ চারায় তরমুজ ধরেছে। মাচায় ঝুলছে দুই রঙের হলুদ সবুজ তরমুজ। তিনি বলেন দুদিন ধরে ক্ষেতের পাড় থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। খবর পেয়ে ক্রেতাও আসছে বেশ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১