বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৭ July ২০২১

নুসরাতের ফাঁদে সুন্দরী তরুণীদের স্বপ্নভঙ্গ


ফাহিমা আক্তার বুড়িচং থেকে এসে কুমিল্লা শহরের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছেন। ফাহিমা টিউশনি করে কোনো মতে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা চালাচ্ছিলেন। নুসরাত যে ভবনে ভাড়া থাকত সেখানেই একটি টিউশনি ছিল তার। টিউশনি থেকে ফেরার সময় একদিন সিঁড়িতে দেখা হয় নুসরাতের সঙ্গে। সুন্দর-সুশ্রী ফাহিমা নজরে পড়েন নুসরাতের। এরপর নুসরাত সখ্যতা গড়ে তুলেন ফাহিমার সাথে। ফাহিমাও কুমিল্লা শহরে একজন বড়বোন পেয়েছেন ভেবে নিজের পরিবারিক সমস্যাসহ সব কথা খুলে বলেন। নুসরাত অভয় দিয়ে ফাহিমাকে ছোটবোন সম্বোধন করে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহযোগিতা করতে থাকেন। এতে করে নুসরাতের প্রতি ফাহিমার আন্তরিকতা ও কৃতজ্ঞতা আরো বেড়ে যায়। এভাবে মাস তিনেক যাওয়ার পর নুসরাত বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ফাহিমাকে নিয়ে যায় একটি ফ্ল্যাটে। সেখানে নিয়ে ফাহিমার অমতে জোর করে এক পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করান নুসরাত। এরপর চলে ব্ল্যাকমেইল। ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ফাহিমাকে বানিয়ে ফেলেন পতিতা।

ফাহিমা এ প্রতিবেদককে জানান, আমার মতো অনেক তরুণীর সুন্দর জীবনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে নুসরাত। অথচ উনাকে দেখে এসব বোঝার উপায় নেই। দেড় বছর আগে আমিও বুঝতে পারিনি উনার আসল চরিত্র। পরিচয়ের শুরুতে উনাকে নিজের বড় বোনের আসনে রেখে ছিলাম। উনিও আমি টাকা পয়সার সংকটে পড়লে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করতেন। কিন্তু উনার এ অভিনয়ের আড়ালে যে অন্য মতলব ছিল তা কখনো বুঝতে পারিনি।

তিনি বলেন, একদিন বিকেলে উনি বলল চলো আমার খালাতো বোনের বাসায় যাই। এরপর আমকে বাগিচাগাঁওয়ের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আরো অনেক মেয়ে ছিল। শুরুতে দেখে মেয়েদের মেস মনে হলেও আমার ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। তখন আমি বেরিয়ে যেতে চাইলে জোর করে একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে একজন অপরিচিত মধ্যবয়সী লোকের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। সেদিন সারা রাত আমাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

ফাহিমা বলেন, সকালে নুসরাত আমার রুমে এসে জানায় কালকে বিকেল থেকে সারা রাত যা হয়েছে তার সবকিছু ছবি তুলে ও ভিডিও করে রাখা হয়েছে। এ কথা শুনার পর আমি মনে হচ্ছিল মাথাঘুরে ওখানেই পড়ে যাব। নুসরাত বলে এসব কাউকে জানালে ও তার ডাকে এখানে না আসলে সব নেটে ছেড়ে দেবে। নিজের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে নীরব থাকি। আর বিভিন্ন সময় নুসরাতের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলি আমাকে এই নিষিদ্ধ জগত থেকে মুক্তি দিতে। কিন্তু নুসরাত বলে যতদিন সে চাইবে ততদিন আমাকে পতিতাবৃত্তি করতে হবে। না হলে সব ফাঁস করে দিবে বলে হুমকি দেয়। এখন বুঝতেছি যে নিজের মায়ের পেটের আপন বোনকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করায় তার কাছ থেকে আমি মুক্তি পাব কি করে।

তিনি বলেন,  শুধুমাত্র নুসরাতের কারণে আমি আজ প্রায় দেড় বছর ধরে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনসহ এই নিষিদ্ধ জগতে আছি। অথচ আমিতো কখনো এমন পতিতাবৃত্তির জীবনযাপন চাই নাই। আমি চাই সুন্দর সংসার, সুন্দর জীবন। নুসরাতকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করে ফাহিমা বলেন, নুসরাত শতাধিক মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তাদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সঠিকভাবে তদন্ত করলে ব্যাংকে চাকরির আড়ালে নুসরাতের দেহব্যবসার তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মুসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যার জন্যও বড় বোন নুসরাতেই দায়ী করছেন প্রতিবেশী, মুনিয়ার স্কুল ও প্রাইভেট শিক্ষক, কুমিল্লা শহরের সাধারণ মানুষ। তারা মুনিয়াকে বিপথে ঠেলে দেওয়া ও অবৈধ দেহব্যবসা চালানোর অপরাধে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনের আওতায়ও আনার দাবি জানান।

নুসরাতের প্রতিবেশী বেসরকারি একটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। কুমিল্লায় বাগিচাগাঁওয়ের এ বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই বড় বোন নুসরাতের প্রতি বিষোদাগার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুনিয়ার নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিবাহিত ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াসহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সব ঘটনাপ্রবাহের জন্য দায়ী শুধুমাত্র নুসরাত।

তিনি বলেন, বোন হয়ে নিজের আপন বোনকে এভাবে অন্ধকার জগতে  কি উদ্দশ্যে ঠেলে দিলেন তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তাহলে নুসরাতের অনেক কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে।

মুনিয়ার স্কুলজীবন নিয়ে কথা হয় তার একজন শিক্ষক মনিরের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। তিনি বলেন, মুনিয়া ছিল আমাদের স্কুলের একটি ফুটন্ত গোলাপ। মুনিয়াকে শুরু থেকে দেখে কখনো মনে হয়নি ও এমনটা হয়ে যাবে। খুবই শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের ছিল মুনিয়া। কিন্তু এ অবস্থা বেশি দিন মুনিয়ার মধ্যে দেখা যায়নি। মুনিয়া যে সময়টা থেকে বোনের বাসায় থাকতে শুরু করেছিল তখন থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে। স্কুলে আসা অনিয়ম, মাঝে মধ্যে আসলে ও ক্লাসের পড়ায় শেষ করতে না পারাসহ তার পাল্টে যাওয়াটা আমাদের চোখে পড়ে। মুনিয়ার এ বিকৃত রূপ ধারণের কারিগর ছিল তার বড় বোন নুসরাত। নুসরাতই মুনিয়ার এ মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। কারণ মুনিয়ার মৃত্যুতো একদিনে হয়নি। তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন তারই বোন নুসরাত।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১