আপডেট : ১৩ July ২০২১
কুড়িগ্রামে স্বামীর নির্যাতনে ৬ সন্তানের জননী মারিজা বেগম নিখোঁজের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও খোঁজ না মেলায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে নিখোঁজের পরিবার। স্বামীর হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা। থানা থেকে লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করেছে স্বামী আলমগীর হোসেন। নিখোঁজ হওয়া মাকে না পেয়ে চরম অমানবিকভাবে অবুঝ ৪ সন্তানের দিন কাটছে খেয়ে-না খেয়ে। ঘটনাটি শহরতলির সওদাগরপাড়া গ্রামের। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর আগে একই এলাকার মৃত-তোতা মিয়ার পুত্র আলমগীর হোসেনের সাথে বিয়ে হয় কিশোরী মারিজা বেগম এর। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য মারিজা বেগম এর উপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। নেশা এবং জুয়া খেলায় আসক্ত স্বামী আলমগীর নিজে উপার্জন না করে কিশোরী মারিজা বেগমকে দিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করায় চুড়ি-ফিতা। স্বামীকে জুয়ার টাকা না দেয়ায় প্রায়শই গৃহবধূ মারিজা বেগমের উপর নেমে আসতো নির্যাতনের খড়গ। এভাবেই সংসার জীবনে একে একে ৬টি সন্তান জন্ম নেয়। সর্বশেষ ৩ মাস পূর্বে আবারো মারিজা বেগম এর কোলজুড়ে জন্ম নেয় ফুঁট ফুঁটে একটি পুত্র সন্তান। মাতৃকালীন সময়ে মাত্র ৬দিন কাজে যেতে না পাওয়ায় মারিজা বেগম এর উপর শুরু হয় আবারো মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। নিখোঁজের ভাই মেছের আলী জানায়, আমার বোনের উপর ভগ্নিপতি আলমগীর প্রতিদিন হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই মারপিট করতো। বোনের মাথায় প্রচন্ড আঘাত করতো এতে তার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা করতো এবং তার গোপনাঙ্গে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাতো। সর্বশেষ গত ৩ মাস আগে ভগ্নিপতি আলমগীর হঠাৎ আমাকে জানায়, তোমার বোন কোথায় গেছে আমি কিছুই জানি না। তার এমন কথায় আমার সন্দেহ হচ্ছে আমার বোনকে সে খুন-গুম করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার বোনকে উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। গৃহবধূ মারিজা বেগম এর জনৈক ফুফু বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানায়, আমার ভাগ্নি মারিজাকে কি কারণে নির্যাতন করা হয়-এমন প্রশ্ন করলে আলমগীর আমার গালে ঘুষি মারে। এতে আমার মুখ থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়। সে এলাকার কাউকেই ভয় পায় না। সে আবারো আমাকে হুমকি দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, আলমগীর তার স্ত্রীকে প্রতিদিন নির্যাতন করে আসছিল। সর্বশেষ সে নিজের স্ত্রীর গোপনাঙ্গে পাশবিক নির্যাতন চালায়। তার চিৎকারে গ্রামের মানুষ পুলিশকে খবর দিতো। পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল। পুলিশ আগে থেকে জোরালো পদক্ষেপ নিলে সে আজ নিখোঁজ হতো না। এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ শাহরিয়ার অভিযোগের প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন- নিখোঁজ হওয়া মেয়েটিকে খোঁজা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত আলমগীরের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১