আপডেট : ১৬ June ২০২১
চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পদ্মা নদী তীরবর্তী শিবালয়ের আরুয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত নয়াকান্দী গ্রাম প্রতিবছরের মতো এবারো নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় নয়াকান্দী গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিন প্রামানিকের পুত্র আমেরিকা প্রবাসী মো. আব্দুল মালেক এর আর্থিক সহায়তায় জিও ব্যাগ কিনে স্থানীয় নয়াকান্দী গ্রামবাসীর সেচ্ছাশ্রমে চার হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। জিও ব্যাগ ফেলার সার্বিক তত্বাবধানে রয়েছেন আসলাম হোসেন, কহিনুল ইসলাম, প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম রনি, সাংবাদিক সুমন হোসেন, রউফ মুন্সী শতাধিক গ্রামবাসী। গ্রামবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দী গ্রাম অনেক বড় একটি গ্রাম ছিল। এ গ্রামে এক সময় ছিল মরিচের বড় বড় ভিটা, পেঁয়াজ, আলু, পটল, কচু, ধান, ডাল, তরমুজসহ নানা ধরনের শস্যের আবাদ হতো । অতীতে এখানে প্রায় ৪ হাজার জন ভোটার ছিল। ১৯৯৮ সালে বন্যার সময় এ গ্রামে প্রথম বড় ধরণের ভাঙ্গন দেখা দেয়। ’৯৮ সাল থেকে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই গ্রামটি একট একটু করে ভাঙতে থাকে। ভাঙ্গনের কারণে পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এ গ্রামের বিশাল অংশ। রাক্ষুসী পদ্মা গিলে খেয়ে ফেলেছে কৃষি জমিসহ বহু বাড়ি-ঘর। এ গ্রামের বিশাল অংশ ভেঙ্গে যাওয়ার ওই সময় নদী ভাঙ্গনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০/১০০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের কারণে নয়াকান্দী গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে গেছেন। পদ্মার করাল গ্রাসে বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করার জন্য অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে এ গ্রামে প্রায় ২৪শ’ জন ভোটার রয়েছে। তবে, গত বছরও নদী ভাঙ্গণের কারনে কয়েকটি বাড়ি অন্যত্র সরাতে বাধ্য হয়েছেন৷ এ বছরও নদী ভাঙ্গনের সম্ভবনা রয়েছে। তাই স্থানীয় নয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী মোঃ আব্দুল মালেকের আর্থিক সহযোগিতায় ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নয়াকান্দী নদীর পাড়ের মঞ্জু মুন্সী জানান, গত বছর নদী ভাঙ্গনের সময় নদীর পাড়ে শেষ ঘরটি আমার ছিল। কিন্তু নদীতে ওই জায়গা ভেঙ্গে যাওয়ায় আমি ঘর সরিয়ে অন্যত্র আসতে বাধ্য হয়েছি। তবে, এখনো অনেক ভয়ে আছি। যদি আবার এই বাড়ি ভেঙ্গে যায় তাহলে কোথায় যাব?? নদী ভাঙ্গনের কারনে এখন তো আমরা সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছি। স্থানীয় রউফ মুন্সী বলেন, তার বড় ভাই মঞ্জু মুন্সীর বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখন নদী তার বাড়ির ঘরের সবচেয়ে নিকটে। এ বছর নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনো নতুন বাড়ি করতে পারেন নি। তাই তিনি নদীর পাড়েই ভয়ে ভয়ে বসবাস করছেন৷ মালেক ভাই আমেরিকা থেকে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে আমরা গ্রামবাসী মিলে নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ করছি। স্থানীয় প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, মালেক কাকার আর্থিক সহযোগিতায় ও আমরা গ্রামবাসী মিলে আমাদের প্রিয় নয়াকান্দী গ্রামের ভাঙ্গনরোধে একসাথে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় কহিনূর ইসলাম মুন্সী বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে আমাদের বহু জমিসহ বাড়ি-ঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। মালেক ভাইয়ের এ ধরণের মহতী কাজের জন্য আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। নয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা দাবী করেন, তাদের নিজেদের উদ্যোগের এ কাজের পাশাপাশি সরকারি সহয়তা প্রয়োজন। তাহলে হয়তবা এবাবের বর্ষায় নদী ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে। তবে, তারা নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বেঁড়িবাঁধের দাবী জানান। আর্থিক সহয়তাকারী আমেরিকা প্রবাসী মো: আব্দুল মালেক বলেন, চলতি বর্ষা মওসুমে নদী ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ ফেলে আমার সাধ্যমত ভাঙ্গনরোধের চেষ্টা করেছি। ভবিষতে আমার এ সহয়তা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, এলাকার বিত্তশালীরা সবাই নিজ উদ্যোগে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন দ্রুততর হয়। তবে, পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা প্রয়োজন। আমরা এ সব কাজকে সব সময় স্বাগত জানাই। এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু বলেন, যে বা যারা এ কাজ করছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। উপজেলায় আবেদন করলে সাধ্যমত চেষ্টা করব সহযোগিতা করার।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১