বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ June ২০২১

১০ টাকার কমে সরে না হাতি


একটি বড় হাতির পিঠে বসা আছেন মাহুত।  সেখানে বসে হাতিকে দিচ্ছে দিক নির্দেশনা। ঘুরছে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। দোকানের সামনে গিয়ে শুঁড় তুলে দোকানীকে সালাম দিচ্ছে হাতি, তা দেখে কেউ দিচ্ছেন টাকা, আবার কেউ বা দিচ্ছেন ফল ফলাদি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত শুঁড়ের মাথায় টাকা  দেওয়া না হচ্ছে ততক্ষণ দোকানের কাছ থেকে হাতি যেন নড়ছে না। কারো কাছ থেকে হাতি ১০ টাকার নিচে যেন নিচ্ছে না। প্রতি দোকান থেকে এভাবে  নিচে ১০ টাকা থেকে শুরু করে উপরে ৫০ টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়। এদিকে সড়ক বাজার এলাকায় হাতি ঘুরতে দেখে পথচারীসহ সাধারণ লোকজন ভিড় করছেন তা দেখার জন্য। হাতি রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সড়ক বাজার এলাকায় এক প্রকার যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে দুপুরে পৌর শহরের খড়মপুর, সড়ক বাজার, স্টেশন রোড, লাল বাজার এলাকায় ঘুরে হাতি দিয়ে চাঁদা তোলা হয়।

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মো. কালু মিয়া জানায়, হঠাৎ তিনি দেখতে পান তার ফল দোকানের সামনে একটি হাতি। দোকানের ভেতরে শুঁড় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। হাতি দেখে প্রথমে তিনি আতকে উঠেন। পরে হাতি কে একটি তুলে দেন। আপেল ঠিকই নিয়েছে  কিন্তু টাকা না দেওয়ায় দোকানের সামনে থেকে দাঁড়িয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে ১০ টাকা দেওয়ায় হাতি চলে যায় বলে জানায়।

ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, হাতি দোকানের কাছে দেখে ৫ টাকা দিতে চাইলে সে টাকা তোলেনি। পরে ১০ টাকা দেওয়ায় হাতি টাকা নিয়ে চলে যায়। ফল ব্যবসায়ী জামশেদ বলেন, একটি আম দেওয়ায় হাতি দাঁড়িয়ে থাকে পরে ৩টি আম দিতে হয়।

ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া জানায়, কয়েক মাস পর পর সড়ক বাজার এলাকায় হাতি দেখতে পাওয়া যায়। হাতি দিয়ে দোকান দোকান থেকে চাঁদা তুলা হয় বলে জানায়।

ছেলে নিয়ে বাজার করতে আসা শিক্ষক মো. মহসিন আলী  বলেন, বাজারে হাতির দেখতে পেয়ে তার ছেলে সাব্বির হাতিকে ৩০ টাকা তুলে দেয়। পরে হাতির সামনে একটি সেলফি তুলেন। সে হাতি দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে। 

এদিকে কথা হয় হাতির মাহুত হৃদয়ের সাথে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই হাতিটি লালন পালন করছেন। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুয়ারা এলাকা থেকে এখানে এসেছেন। হাতি নিয়ে সে কুমিল্লায় যাবেন। তাই এখানে নিয়ে আসা। রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকে খুশি হয়ে  টাকা ও বিভিন্ন রকমের ফল তুলে দেন। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় হাতি নিয়ে গেলে বাড়িঘর ও দোকান পাট থেকে অনেকে টাকা দেন। কোন কোন সময় দেখা যায় ২-৩  হাজার টাকার মতো পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে তিনি হাতির খাবার খরচ চালান এবং  তার কিছু আয় হয় বলে জানায়।

তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে টাকার জন্য জোর করা হয় না। হাতি দেখলে সবাই খুশি মনে টাকা দেওয়া ‘চাঁদাবাজি’ হতে পারে না।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১